পর্ব-১,নিষিদ্ধ হলেও সিলেট-তামাবিল মহাসড়কে অটোরিকশার বিচরণ

0
676
পর্ব-১,নিষিদ্ধ হলেও সিলেট-তামাবিল মহাসড়কে অটোরিকশার বিচরণ

অভিযোগ উঠেছে, পুলিশ সদস্যদের মাসোয়ারা দিয়ে নম্বর বিহীন অটোরিকশা নামছে মহাসড়কে

রেজওয়ান করিম সাব্বির,প্রতিনিধিঃ জৈন্তাপুর: মহাসড়কে সিএনজি চালিত অটোরিকশা চলাচল নিষিদ্ধ হলেও সিলেট-তামাবিল মহাসড়কে অবাধে যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে সিএনজি চালিত অটোরিকশা দিয়ে। প্রতি বাজারে বাজারে বাজারে গড়ে উঠেছে অবৈধ স্ট্যান্ডও।
সিএনজি চালিত অটোরিকশা মহাসড়কে চলাচল করায় প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। সিলেট-তামাবিল মহাসড়কে সর্বশেষ বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে গত ২মে রবিবার। ফেরীঘাট এলাকায় ওই দুর্ঘটনায় জাফলংগামী ট্রাকের সঙ্গে দরবস্তগামী সিএনজি চালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে ২শিশুসহ ঘটনাস্থলে ৫যাত্রী ও চালকের মৃত্যু হয়।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ১আগস্ট থেকে সকল মহাসড়কে অটোরিকশাসহ তিন চাকার যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ করে আদেশ জারি করে সরকার। তবে বাস্তবের চিত্র ভিন্ন। সিলেট-তামাবিল মহাসড়কে মানা হচ্ছে না সরকারের এ নিয়ম।

সরেজমিনে গত কয়েক দিন থেকে আজ ১৪ আগস্ট রোজ শনিবার পর্যন্ত ঘুরে দেখা যায়, সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের চিকনাগুল, হরিপুর, বাঘের সড়ক, দরবস্ত, সারীঘাট উত্তর ও দক্ষিণপাড়, ফেরীঘাট, জৈন্তাপুর, চাঙ্গীল, ৪নং বাংলাবাজার, আসামপাড়া হতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত লাইন ধরে সিএনজি চালিত অটোরিকশা, গ্যাস ও ব্যাটারী চালিত টমটম রেখে তা স্ট্যান্ড হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব স্ট্যান্ড থেকে যাত্রী নিয়ে সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক দিয়ে সিলেট শহর, সিলেট হতে কানাইঘাট, হরিপুর, বাঘের সড়ক, লাফনাউট, গোয়াইনঘাট, দরবস্ত, সারীঘাট, বারহাল, চতুল, জৈন্তাপুর, তামাবিল, জাফলং যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে।

এছাড়া গ্যাস ও ব্যাটারী চালিত টমটম ব্যবহার করে চিকনাগুল, হরিপুর, বাঘেরসড়ক, দরবস্ত, সারীঘাট উত্তর ও দক্ষিণ বাজার, ফেরীঘাট বাজার, জৈন্তাপুর বাজার, চাঙ্গীলবাজার, ৪নং বাংলা বাজার, আসামপাড়া বাজার এলাকায় যাত্রী পরিবহন করছে এসকল পরিবহন গুলো।

গত শনিবার দুপুরে দেখা গেছে, সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের হরিপুর, দরবস্ত, জৈন্তাপুর বাজারে সিএনজি চালিত অটোরিকশার স্ট্যান্ড রয়েছে। স্ট্যান্ডে যাত্রী পরিবহনের জন্য দেখা গেছে, নম্বরবিহীন সিএনজি চালিত অটোরিকশা র্দীঘ সারী। নম্বর বিহীন অটোরিকশার ১০-১২জন চালক বলেন, নম্বর না থাকলে, কিংবা নাম্বার যুক্ত গাড়ীর মেয়াদ উত্তীর্ণ হলেও পুলিশ টোকেনের মাধ্যমে মাসিক ৭শত টাকা হতে ৪শত টাকা দিয়ে যাত্রী পরিবহনের অনুমতি পেয়েছেন তাঁরা। নম্বর বিহীন অটোরিকশা গুলোর মধ্যে সবাই একই ভাবে যাত্রী পরিবহন করছে।

অটোরিকশার যাত্রী মো. হানিফ, নাজমুল, ইসলাম, বেলাল, হুসেন, আহমদ বলেন, প্রায়ই সিএনজি অটোরিকশায় করে সিলেট শহর, সিলেট শহর হতে কানাইঘাট, হরিপুর, বাঘের সড়ক, লাফনাউট, গোয়াইনঘাট, দরবস্ত, সারীঘাট, বারহাল, চতুল, জৈন্তাপুর, তামাবিল, জাফলং যাতায়াত করেন তারা। বাস লেগুনার জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। অনেক সময় সীট পাওয়া যায় না। এজন্য সিএনজি চালিত অটোরিকশাতে যাতায়াত করতে হয়। এতে কিছুটা হলেও সময় বাঁচে। তবে মহাসড়ক দিয়ে সিএনজি চালিত অটোরিকশায় যাতায়াতে দুর্ঘটনার শঙ্কা তো রয়েছেই।

হরিপুর বাজারের সিএনজি চালিত অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. নুরুল হক সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগা করা হলেও তিনি বলেন, লকডাউন থাকায় আমাদের গাড়ী বেশি বের হয়নি। আমরা নাম্বার বিহীন ও নাম্বর যুক্ত সকল গাড়ী পুলিশ ডিউটি করে। টোকন বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন- অনেক বিষয় জড়ীত আছে, এবিষয়ে কিছু বলা যাবে না।

কানাইঘাট-জৈন্তাপুর সার্কেল সিনিয়র এএসপি মো. আব্দুল করিম বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ফাঁকি দিয়ে সিএনজি চালিত অটোরিকশা চলাচল করে। কোন ধরনের লেনদেন কিংবা টোকেনের ব্যাপারে থানা পুলিশ জড়িত নয়।

জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম দস্তগীর আহমদ বলেন, টোকেনের মাধ্যমে নম্বর বিহীন সিএনজি চালিত অটোরিকশা চলাচলের অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি সঠিক নয়। অবৈধ যে কোনো যানবাহন পেলে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

জৈন্তাপুর ট্রাফিক সার্জেন্ট মো. আলী বলেন, বিধি মোতাবেক আমারা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। আমি জৈন্তাপুরে দায়িত্ব গ্রহনের পর হতে মোট ৮০টি নাম্বার বিহীন গাড়ীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি।