পর্যটনের অপার সম্ভাবনা অতিথি পাখির হাওর হাকালুকি

0
257

এম এম সামছুল ইসলাম,জুড়ী,মৌলভীবাজারঃ দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ হাওর হাকালুকি। হাকালুকি হাওরের প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখতে শীত-বর্ষা মৌসুমে বাড়ে পর্যটকের সংখ্যা। হাওরের এই সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে আসা পর্যটকের মন ভরে যায় এ দৃশ্য দেখে। তবে হাওর’কে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়নের আওতায় নিয়ে আসলে যেমনি বাড়বে পর্যটকের সংখ্যা, তেমনি বাড়বে সরকারের রাজস্ব। এ বিষয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিগণ পরিকল্পিত উদ্যোগ নিলে বদলে যাবে হাকালুকি হাওরের পর্যটন শিল্প। এদিকে একটি মহল প্রতি বছর হাওরের বিল শুকিয়ে কোটি কোটি টাকার মাছ লুট করছে। ওই সিন্ডিকেটের সাথে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তর অভিযান পরিচালনা করছে না। জানা যায়, দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম হাওর ও দেশের অন্যতম মিটা পানির মৎস্যভান্ডার খ্যাত হাকালুকির আয়তন ১৮.১১৫ হেক্টর। হাওরে দিন দিন কমছে দেশীয় প্রজাতির সুস্বাদু মাছ। হাকালুকিতে ১০৭ প্রজাতির দেশীয় মাছ থেকে বর্তমানে ৪৪ প্রজাতি-ই বিলুপ্তপ্রায়। প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন, প্রজননের সময় অবাধে মৎস্য শিকার, অভয়াশ্রমের অপ্রতুলতাসহ নানা কারণে বিলুপ্ত হচ্ছে এসব দেশীয় মাছ। জেলা মৎস্য অধিদপ্তর ও হাওরের পরিবেশ এবং জীব বৈচিত্র নিয়ে বিভিন্ন সময়ে কাজ করা বেসরকারি এনজিও সংস্থার সিএনআরএস এর তথ্যমতে, দেশের মৎস্যভান্ডার খ্যাত হাকালুকিতে সরকারি ২৩৮টি ও বেসরকারী ৩৮টি বিল রয়েছে। এ হাওরে ১০৭ প্রজাতির দেশীয় মাছ ছিলো। যা বিলুপ্ত হয়ে বর্তমানে ৬৩ টি প্রজাতির দেশীয় মাছ রয়েছে। বিলুপ্তপ্রায় ৪৪ প্রজাতির মাছের মধ্যে অন্যতম হলো চিতল, পাবদা, রানী মাছ, আইড়, চাপচেলা, মেনী মাছ, বাঁশপাতা, গুজি আইড়, দেশী সরপুঁটি, ফেনী মাছ, বাতাসি ও বাঁশপাতাসহ বিভিন্ন প্রজাতির ছোট-বড় সুস্বাদু মাছ। সরজমিনে মঙ্গলবার (২১ ফেব্রুয়ারি) হাকালুকি হাওরে গেলে কথা হয় হাকালুকি পাড়ের বৃদ্ধ এখলাছুর রহমান (৮২) এর সাথে। তিনি বলেন, হাকালুকি হাওর প্রকৃতির অপরুপ এক নিদর্শন। হাওরের দৃশ্য যে কারও মন জুড়াবে। হাওর বাঁচাও, কৃষক বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি ইমরুল ইসলাম বলেন, পরিযায়ী পাখি আকাশে উড়ার দৃশ্য কত সুন্দর তা বলে বুঝানো যাবে না। তিনি বলেন, প্রতি বছর এ দৃশ্য দেখতে অসংখ্য মানুষ ছুটে আসেন হাকালুকি হাওরে। বর্ষায় বিশাল জলরাশির মধ্যে ভেঁসে থাকা হিজল-করচ বন, আবার শীত মৌসুমে হিজল-করচ-তমালের নিচে গা ছমছমে গুল্মলতা আরোং এর বিশাল ঝোঁপ-জঙ্গল। পরিকল্পিত ভাবে হাকালুকির উন্নয়ন হলে সরকারের রাজস্ব আয়ের পাশাপাশি স্থানীয়দের অনেক কর্মসংস্থানও হবে। হাকালুকিতে ঘুরতে আসা পর্যটক শামছুল ইসলাম ও ব্যবসায়ী কবির উদ্দিন বলেন, হাওরের প্রাকৃতিক দৃশ্যের কথা দেশি-বিদেশী পর্যটককে জানাতে পারলে এখানে বাড়বে পর্যটকের সংখ্যা। এক্ষেত্রে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা বেশি প্রয়োজন। কিন্তু সেখানে যোগাযোগ ব্যবস্থা খুব একটা ভালো নয়। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করলে সেখানে পর্যটকের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে। সিলেট বিভাগ উন্নয়ন সংস্থা (সিবিউস) সভাপতি হারিস মোহাম্মদ বলেন, পর্যটন খাতের অপার সম্ভাবনা রয়েছে হাকালুকি হাওরে। এক্ষেত্রে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করতে হবে। বিল থেকে অবাধে মাছ আহরণ বন্ধ করতে হবে। বর্ষা মৌসুমীমে হাওরে বেড়ানোর জন্য উন্নত মানের নৌকার ব্যবস্থা করা জরুরি। এছাড়াও বাহিরের পর্যটকদের জন্য সরকারি বা বেসরকারিভাবে ভাবে কয়েকটি পয়েন্টে রেস্ট হাউজ করলে বাড়বে পর্যটকের সংখ্যা। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের পরিচালক আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের বলেন, হাকালুকি হাওরের পর্যটন নিয়ে আমাদের মাষ্টার প্লান রয়েছে। হাওরের জীববৈচিত্রকে রক্ষা করে কিভাবে পর্যটকের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলা যায় সেই বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করছে ট্যুরিজম বোর্ড। আশাকরি শীঘ্রই সেই পরিকল্পনাটি প্রকাশ করা হবে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আলহাজ্ব শাহাব উদ্দিন বলেন, বৃহত্তর হাকালুকি হাওর নিয়ে মন্ত্রণালয়ে একটি উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে, শ্রীঘ্রই তা আলোর মুখ দেখবে।