পাইপের ৬০০ফুট গভীরে শিশু জ্বিহাদ! গুজব না ব্যার্থতা ?

    0
    199

    আমারসিলেট24ডটকম,২৭ডিসেম্বরঃ রাজধানীর শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনির মৈত্রী সংঘ মাঠের কাছে রেলওয়ের পানির পাম্পের পাইপের মধ্যে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ক্যামেরা দিয়েও মেলেনি কোন মানব শিশুর স্পন্দন। তাহলে কি এই ঘটনাটি শুধুই গুজব? না উদ্ধার কারীদের ব্যার্থতা ? শিশু জিহাদের সাথে যোগাযোগ হয়েছে বলে অভিযানের শুরুতে দেয়া ভাষ্যটি মিথ্যা ছিলো কি? সাংবাদিকরা তা জানতে চাইলে উত্তর না দিয়ে তড়িঘড়ি করে চলে যান ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রি. জে. আলী আহম্মদ খান। কোন মানুষের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি গর্তের ভেতর। তাই তুলে আনা হচ্ছে ক্যাচার।

    তারপরেও এখনই হাল ছেড়ে দিচ্ছেন না ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। এবার তারা গর্তে একটি রোবোটিক মেশিন পাঠাবেন বলে জানিয়েছেন, যার মাধ্যমে গর্তের বিভিন্ন আবর্জনা পরিষ্কার করা হবে। এরপর আবার গর্তে প্রাণের চিহ্ন খোঁজার চেষ্টা চালানো হবে।
    তবে শিশুর পড়ে যাওয়া নিয়ে সংশয় আরও বেড়েছে। রাতভর অভিযানের পর আজ শনিবার সকালেও চলছে উদ্ধার অভিযান। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযান চলবে। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত শিশুটির সন্ধান মেলেনি।

    এর আগে পানির পাম্পের গর্তে পড়ে যাওয়া শিশুটিকে উদ্ধারে দুই দফায় ব্যর্থ হয়ে, প্রযুক্তির সহায়তা নিয়েছিলেন উদ্ধারকারীরা। নামানো হয়েছিলো অত্যাধুনিক ক্যামেরাসহ ক্যাচার। এটি ওয়াসার অত্যাধুনিক একটি যন্ত্র, যা দিয়ে গর্তের ভেতরের ছবি ও জিয়াদের সর্বশেষ অবস্থা বোঝা যায় বলে জানানো হয়েছে। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ক্যাচারটি একটি নির্দিষ্ট দূরত্বে নামার পর আটকে যাচ্ছিলো, আর নীচে নামানো যাচ্ছেনা। তবে, এখনো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।
    এদিকে জানা যায় সন্তান হারানোর বেদনায় কাঁদতে কাঁদতে মূর্ছা যাচ্ছেন মা। পরিবারের সদস্যরা সহ এলাকার কেউই উদ্ধারকারীদের কথা মানতে রাজি নন। এলাকাবাসীর দাবির মুখে শেষরাতে আরো একটি অভিযান চালানো হলেও কোনো লাভ হয়নি।

    এছাড়া অভিযান চলাকালে ঘটনাস্থলে ভিড় জমান উৎসুক শত শত মানুষ। পরিদর্শনে আসেন বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক হলের নেতারাও।
    স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল রাতেই বলেন, পাইপের ভেতর কোনো শিশু পাওয়া যায়নি। ন্যাশনাল সিকিউরিটিজ ইন্টেলিজেন্সের (এনএসআই) যুগ্ম পরিচালক আবু সাঈদ পাইপে শিশু পড়ে যাওয়ার বিষয়টিকে শুধুই গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। শিশুটিকে পড়ে যেতেও কেউ দেখেন নি। দুই শিশু পাইপের ভেতর প্রথম কান্নার শব্দ শুনে পাড়া প্রতিবেশিকে ডেকে আনার কথা বললেও জিয়াদের মা সাংবাদিকদের জানান, এক প্রতিবেশি নারী নাকি ৩ তলা থেকে শিশুকে পড়ে যেতে দেখে তাকে বাসায় এসে খবর দিয়ে গেছেন।
    তবে শব্দ পাওয়া এবং জুস খাওয়ার কথা বলেছিলেন কেন? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার আলী আহমেদ খান, পিএসসি বলেন, ও রকম শব্দ পাওয়া গিয়েছিল। তবে নিচে কিছু আবর্জনা পাওয়া গেছে। তেলাপোকা, টিকটিকি ও রশি পাওয়া গেছে। আমরা ওয়াসার অত্যাধুনিক বোরহোল ক্যামেরা দিয়ে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেছি। এখনি কার্যক্রম গুটিয়ে নেবেন কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা সর্বশেষ আরেকটু চেষ্টা করব। নিচের জিনিসগুলো বের করে আনার চেষ্টা করব।
    স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, এখানে ফায়ার সার্ভিসসহ অন্যান্য উদ্ধারকারীরা আছেন। তারা ৮ ঘণ্টা কাজ করেছেন। যারা এ কাজে পারদর্শী আমরা তাদের আহ্বান জানিয়েছিলাম। কিন্তু কোনো শিশুকে পাওয়া যায়নি। ওখানে কিছু কিট পতঙ্গ আছে। ওখানে আবর্জনা আছে। তার মানে ওখানে অক্সিজেন আছে। আমরা ওখানে জীবিত মানুষকে পাইনি। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর ঘোষণার পর রাত ২টা ৫০ মিনিটের দিকে উদ্ধারকারী দল পাইপ থেকে ক্যামেরা তুলে নেয়।
    জানা গেছে জিয়াদ যে পাইপে পড়েছে বলা হচ্ছে সেটি পোঁতা হয়েছে কয়েক মাস আগে। কিন্তু ওই পাইপ দিয়ে প্রত্যাশা অনুযায়ী পানি না আসায় একটু দূরে বসানো হচ্ছিল একই ধরনের আরেকটি পাইপ। তবে আগের পাইপটি ছিল ঢাকনাহীন।
    রাজধানীর শাহজাহানপুরের রেলওয়ে মাঠসংলগ্ন পানির পাম্পের ৬০০ ফুট গভীর একটি পাইপে পড়ে যায় জিয়াদ নামের শিশুটি।এমনটি প্রথম থেকেই বলা হচ্ছিল।যদিও প্রথমে এর গভীরতা ৩০০ ফুট হিসেবেই বলা হচ্ছিল। কিন্তু সর্বশেষ তথ্য বিশ্লেষন ও ন্যাশনাল সিকিউরিটিজ ইন্টেলিজেন্সের (এনএসআই) যুগ্ম পরিচালক আবু সাঈদ এর ভাষ্যমতে দেখা যাচ্ছে সেটা ছিল নিছকই গুজব।
    পক্ষান্তরে ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন) মেজর শাকিল নেওয়াজ বলেন, তারা এখন পাইপের ভেতরে ময়লা পরিষ্কার করে ভেতরে কিছু আছে কি না, তা খুঁজে দেখার চেষ্টা করছেন। পাইপের ভেতরে আবার দুই ইঞ্চি পাইপ ছিল। সেখান থেকে কিছু খুঁজে বের করা খুব কষ্টসাধ্য। সব ধরনের চেষ্টাই করা হচ্ছে। যতক্ষণ পর্যন্ত সম্ভব অভিযান চলবে। নতুন আরেকটি বিশেষ ধরনের যন্ত্রও ভেতরে ঢোকানো হচ্ছে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, ৪ বছরের শিশু জিহাদ পড়ে যাওয়ার ঘটনার কোনো প্রত্যক্ষদর্শী পাওয়া যায়নি। ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়ার আগেই সেখানে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে। শিশুটিকে উদ্ধারের জন্য তাদের মধ্যে কেউ কেউ কাঠ, দড়ি নানা জিনিস ফেলেন।
    পাইপটি কতটা গভীর জানতে চাইলে শাকিল নেওয়াজ বলেন, এখন পর্যন্ত তারা সঠিক গভীরতা জানেন না। পাইপটির গভীরতার ব্যাপারে ওয়াসাও কোনো সঠিক তথ্য দিতে পারেনি। ঘটনার পর আশপাশে থাকা ওয়াসার পাম্পের কর্মকর্তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে তিনি দাবি করেন। তবে তাদের ক্যামেরার কেবল ৩০০ ফুট গভীর পর্যন্ত গিয়েছিল। এর মধ্যে কোনো কিছুর সন্ধান পাওয়া যায়নি। গতকাল শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে জিহাদের গভীর পাইপে পড়ে যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে। খেলতে গিয়ে সে ওই পাইপে পড়ে যায়। ঘণ্টা খানেকের মধ্যে শুরু হয় শিশুটিকে উদ্ধারের তৎপরতা। এরপর প্রায় রাতভর চলে এ অভিযান।

    অপরদিকে পাইপের ভেতর পড়ে যাওয়া জিহাদের বাবা মতিঝিল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের দারোয়ান নাসির বকুলকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ।

    শুক্রবার রাত ৩টার দিকে তাকে শাজাহানপুর থানায় নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানিয়েছেন শাহজাহানপুর থানার ডিউটি অফিসার এসআই শ্যামল চন্দ্র।

    শুক্রবার রাত পৌনে ৩টার দিকে পাইপের ভেতর ক্যামেরা পাঠিয়ে কোনো মানুষের আস্তিত্ব না পাওয়ার পর স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এটাকে গুজব বলে মন্তব্য করেন। এরপরই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জিহাদের বাবাকে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।