পায়ুপথে পেটে দুই ফুট লম্বা কুঁচিয়া ঢুকে যাওয়ার পর ও বেঁচে ছিল প্রায় ৩৬ ঘন্টা!

0
83
পায়ুপথে পেটে দুই ফুট লম্বা কুঁচিয়া ঢুকে যাওয়ার পর ও বেঁচে ছিল প্রায় ৩৬ ঘন্টা!

আমার সিলেট রিপোর্ট: মৌলভীবাজারের হাইল হাওরে মাছ ধরতে গিয়ে অসতর্ক অবস্থায় জেলের পায়ুপথ দিয়ে ঢুকে যাওয়া কুঁচিয়াটি পেটের ভেতরে বেঁচে ছিল প্রায় ৩৬ ঘণ্টা। এরপর অস্ত্রোপচার করে এটি বের করা হয়। আরো কিছুক্ষণ দেরি হলে রোগী সংকটাপন্ন অবস্থায় চলে যেতে পারতেন বলে ডাক্তার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। পেটের ভেতরে কোনোভাবে অক্সিজেন পাওয়ায় এটি জীবিত ছিল। অপারেশনের পর রোগীর অবস্থা ভালো আছে তবে থাকতে হবে আরো কয়েকদিন।

সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজের সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কাজী জানে আলম রোববার রাতে তাঁর নেতৃত্বে সম্রা মুন্ডা (৫৫) নামের এক জেলের পেট থেকে অস্ত্রোপচার করে জীবন্ত কুঁচে বের করে আনে। সম্রা মুন্ডা মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের মৃরতিঙ্গা চা–বাগানের বাসিন্দা।

ঘটনাটি সম্পর্কে জানা যায়,হাইল হাওরে কুঁচে শিকার করতে গিয়ে গত শনিবার বিকেলে একটি গর্ত থেকে দুটি কুঁচে ধরেন সম্রা মুন্ডা। কুঁচে দুটি থলেতে ভরতে গিয়ে কাদায় পা পিছলে পড়ে যান। তখন কুঁচে দুটি হাত থেকে ছুটে যায়। এ সময় একটি তাঁর পরনের প্যান্টের মধ্যে ঢুকে পড়ে। একপর্যায়ে পায়ুপথ দিয়ে কিছু একটা ঢুকে পড়ার অনুভূতি পান তিনি। পরদিন সকালে পেটে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভূত হলে ছেলেকে নিয়ে প্রথমে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে যান। সেখান থেকে তাঁকে সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
সহযোগী অধ্যাপক কাজী জানে আলম প্রথম আলোকে বলেন, অস্ত্রোপচারের আগে নিশ্চিত হতে শুধু রোগীর পেটের এক্স-রেটি তাঁদের হাতে ছিল। জরুরি হওয়ায় বেশি কিছু পরীক্ষা করা যায়নি। অনেক সময় কোনো কোনো রোগীর অবস্থা এত সংকটাপন্ন থাকে যে পরীক্ষা ছাড়াই অস্ত্রোপচার করতে হয়। সম্রা মুন্ডার অস্ত্রোপচার এত জরুরি ছিল, সিটি স্ক্যান করার সময়ও পাওয়া যায়নি। কিছুক্ষণ দেরি করলে সেপ্টিসেমিয়া (রক্তে জীবাণুর সংক্রমণ) হয়ে যেত। সরাসরি অস্ত্রোপচারই ভালো সিদ্ধান্ত ছিল।

পেটের ভেতরে মাছজাতীয় কুঁচের বেঁচে থাকা নিয়ে এই চিকিৎসক বলেন, বৃহদন্ত্রের একটি অংশ ‘সিগময়েড কোলন’-এর প্রায় তিন থেকে চার সেন্টিমিটার ছিদ্র করে পেটের ‘পেরিটোনিয়াল ক্যাভিটির’ মধ্যে ঢুকে পড়েছিল কুঁচেটি। সেখানে কিছুটা অক্সিজেন পাওয়ায় এটি বেঁচে ছিল। তিনি বলেন, এমন ঘটনা মাঝেমধ্যে পাওয়া যায়। তবে জীবন্ত পাওয়া এবারই প্রথম। রোগীর পেটের বাঁ পাশ দিয়ে মল বের হওয়ার রাস্তা বের করতে হয়েছে। দেড় মাস পর সেটি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে আরেকটি অস্ত্রোপচার করা হবে। রোগীকে আরও ১০ দিন হাসপাতালে রেখে সেলাই শুকিয়ে যাওয়ার পর ছাড়পত্র দেওয়া হবে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে এই প্রথম জীবন্ত কোনো মাছ মানুষের পেট থেকে বের করা হয়েছে।

পরে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর পেট কেটে জীবিত অবস্থায় কুঁচিয়াটি বের করা হয়।

সম্রা মুণ্ডা (৫৫) জানান, তাঁর স্ত্রী বাগানে কাজ করেন। দুই ছেলে কুঁচিয়া ধরেন। শনিবার সকাল সাতটার দিকে ছোট ছেলে তপন মুণ্ডাকে সঙ্গে নিয়ে মৌলভীবাজারের হাইল হাওরে কুঁচিয়া ধরতে সকাল থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত প্রায় আড়াই কেজি কুঁচিয়া ধরেন সম্রা। শেষ দিকে একটি গর্তে আরও দুটি কুঁচিয়ার সন্ধান পান তিনি।

তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, থলেতে ভরার জন্য দুই হাতে দুটি কুঁচিয়া ধরেন সম্রা মুণ্ডা। কিন্তু থলেতে ভরার আগে কাদা মাটিতে পা পিছলে তিনি পড়ে যান। একপর্যায়ে হাত থেকে কুঁচিয়া দুটি ছুটে যায়। এর মধ্যে একটি তাঁর পরনের প্যান্টের মধ্যে ঢুকে পড়ে। একপর্যায়ে পায়ুপথ দিয়ে কিছু একটা ঢুকে পড়ার অনুভূতি পান তিনি। তখন বিষয়টি তেমন গুরুত্ব দেননি সম্রা মুণ্ডা।

সম্রা মুণ্ডা জানান, তাঁদের বাড়ি থেকে হাইল হাওরের দূরত্ব প্রায় ২৫ থেকে ৩০ কিলোমিটার। তিনি হাওর থেকে এলাকায় ফিরে কুঁচিয়াগুলো বিক্রি করেন। আড়াই কেজি প্রায় ৮০০ টাকায় বিক্রির পর বাড়ি ফেরেন। বাড়ি ফিরে কাউকে কিছু বলেননি। রাতে বাড়িতে থাকা একটি কুঁচিয়া রান্না করে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খাওয়াদাওয়া শেষ করেন।

পরের দিন সকালে পেটে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন সম্রা মুণ্ডা। এরপর ছোট ছেলেকে নিয়ে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে যান। সেখানে গিয়ে চিকিৎসককে পায়ুপথ দিয়ে ঢুকে যেতে পারে বলে জানান। পরে সেখান থেকে সম্রা মুণ্ডাকে দ্রুত সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ঘটনাটি সম্পর্কে সম্রা মুণ্ডার ছেলে তপন মুণ্ডা বলেন, বাবাকে হাসপাতালে নিয়ে আসার পর এক্স–রে পরীক্ষা দেওয়া হয়। এক্সেরেতে পেটের ভেতরে লম্বা কিছুর উপস্থিতি দেখা যায়। এরপর রোববার রাতে অস্ত্রোপচার করে জীবিত অবস্থায় কুঁচিয়াটি বের করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক সৌমিত্র চক্রবর্তী বলেন, কুঁচিয়াটি পেটের ভেতরে জীবিত অবস্থায় ছিল। অস্ত্রোপচার করে প্রায় দুই ফুট লম্বা কুঁচিয়া মাছ বের করা হয়েছে। সেটি আরও বেশি সময় থাকলে ওই জেলের মৃত্যু হতে পারতো।

ওই চিকিৎসক জানান, কুঁচিয়াটি সম্রা মুণ্ডার পেটের মধ্যে কিছু নাড়ি কেটে ফেলেছে, যার কারণে পায়খানার রাস্তা বন্ধ রেখে আপাতত নল দেওয়া হয়েছে। দেড় মাস পর আরও একটি অস্ত্রোপচার করতে হবে। বর্তমানে তিনি সুস্থ রয়েছেন।