পিকনিক বাস দুর্ঘটনায় পরিবারের মাঝে চলছে এখনো মাতম

    0
    203

    আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,১৪ফেব্রুয়ারী,এম ওসমান, বেনাপোল : ১৫ই ফেব্রুয়ারী। দিনটি ছিল শনিবার। ২০১৪ সাল। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা। হঠাৎ মোবাইল ফোনে খবর আসে, বেনাপোল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি বাস পিকনিক শেষে ফেরার পথে যশোরের চৌগাছা উপজেলার ঝাউতলা নামক স্থানে একটি খাঁদে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়। মোবাইলে খবর আসে দুর্ঘটনা স্থলেই মারা গেছে কোমলমতী ৭ স্কুল শিক্ষার্থী। আহত হয় শিক্ষকসহ অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী। নিমিশেই বেনাপোলবাসীর মাঝে নেমে আসে শোকের ছায়া। মাতম শুরু করে বেনাপোল বাসী। অনেকে ছুটে যায় সন্তানকে সনাক্ত করার জন্য ছুটে যায় ঘটনাস্থলেই । এ হৃদয় বিদারক দৃশ্য মিডিয়া কর্মীরা প্রকাশ করার সাথে সাথে মাননিয়া প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা সাথে সাথে ১ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষনা  করেন।
    নিহতদের পরিবারকে শান্তনা ও সমবেদনা জানাতে তিন দিন পর বেনাপোলে ছুটে আসেন বাংলাদেশ সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান। এ সময়ে এক এক করে নিহত ৭ শিক্ষার্থীর পরিবারের সাথে দেখা করে সমবেদনা জ্ঞাপন করেন তিনি।
    মাননীয় মন্ত্রী একই পরিবারের পৃত্রী-মাতৃহীন নিহত মেধাবী দুই বোন সুরাইয়া ও জিবিয়ার বাড়িতে যেয়ে অশ্রু সংবরণ করে রাখতে পারেন নি? এসময়ে মাননীয় মন্ত্রী নিহত সুরাইয়া ও জিবিয়ার নানা-নানীকে বুকে জড়িয়ে ধরে ডুকরে ডুকরে কেঁদে ছিলেন এবং তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
    মন্ত্রী আহদের উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ঢাকার সামরিক হাসপাতালে স্থানন্তর করেন। আহদের মধ্যে ১৩ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে ২৭ ই ফেব্রুয়ারী  মারা যায় চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র ইকরামুল । সর্ব শেষ ৩৪ দিন পর ১৯শে মার্চ ভোর রাতে ঢাকা সামারিক হাসপাতালে ইয়ানুর নামে চতুর্থ শ্রেণীর আরো এক ছাত্রের মুত্যু হলে নিহতের সংখ্যা দাড়ায় ৯।
    বেনাপোলবাসী আজো সে ঘটনা ভুলতে পারেনি। নিহতের পরিবার গুলোর মাঝে আজো শোকের মাতম বইছে। নিহতের পরিবারের সদস্যরা এখনো বেনাপোল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এসে নির্বাক চেয়ে থাকে। দু’চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়ে অঝর ঝরে অশ্রু। অনেকে আর্তনাদ করে এখনো কেঁদে ওঠে নিহত স্বজনের স্বরন করে।
    মাতা-পিতাহারা নিহত সুমাইয়া ও জিবিয়ার নানা হাজী মোমরেজ সদ্দার ও নানী নিহারুন নেছা বলেন-ওরা আমাদের কলিজার টুকরো ছিল। ওদের মাকে হারিয়ে ওদেরকে বুকে জড়িয়ে ছিলাম। আজ ওদের মাও নেই ওরাও নেই। আল্লাহ আমাদের বাচিয়ে রেখেছে এই শোখ সামলানোর জন্য।
    উল্লেখ্য ২০১৪ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারীতে নিহত ৯ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৫ জন মেয়ে ও ৪ জন ছেলে এবং নিহত শিক্ষার্থীর মধ্যে ৭ জন একই গ্রামের। নিহতরা হলেন বেনাপোল ছোঁট আঁচড়ার গ্রামের ইউনুচ আলীর মেয়ে মিথীলা (৫ম শ্রেণী), সৈয়াদ আলীর দু’ মেয়ে সুরাইয়া আক্তার (৫ম শ্রেণী) ও জিবিয়া আক্তার (৩য় শ্রেণী), রফিকুল ইসলাম কালুর মেয়ে রুনা (৪র্থ শ্রেণী), নামাজ গ্রামের হাসানের মেয়ে আঁখি (৫ম শ্রেণী) লুকমান হোসেনের ছেলে শান্ত, বেনাপোল গাজীপুরের সেকেন্দারের ছেলে সাব্বির হোসেন (৪র্থ শ্রেণী), ছোঁট আঁচড়া গ্রামের মনিরের ছেলে ইকরামুল (৪র্থ শ্রেণী) ও একই গ্রামের ঈমান আলীর ছেলে ইয়ানুর (৪র্থ শ্রেণী)।