প্রতিরোধ আন্দোলন ও থেমে নেই

0
135

আমার সিলেট ডেস্ক: অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি সেনাদের পাশবিক গণহত্যার জবাবে গাজা ও লেবানন-ভিত্তিক প্রতিরোধ আন্দোলনগুলো গতকাল (শুক্রবার) যুদ্ধের ৩৫তম দিনে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনসহ অন্যান্য যুদ্ধাস্ত্র দিয়ে দখলদারদের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়েছে।

গাজার ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের সামরিক বাহিনী আল-কাসসাম ব্রিগেড বলেছে, তারা গাজার অভ্যন্তরে বেশ কয়েকটি স্থানে আগ্রাসী ইসরাইলি সেনাদের রুখে দিয়েছেন। আল-কাসসাম যোদ্ধারা বলেছেন, তারা শনিবার ইসরাইলি সেনাদের ওপর ড্রোন ও কামানের গোলাবর্ষণ করেছেন এবং আল-ইয়াসিন ট্যাংক বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে কয়েকটি ইসরাইলি ট্যাংক ও সামরিক যানে আঘাত করেছেন।

সেইসঙ্গে আল-কাসসাম যোদ্ধারা ইসরাইলের রাজধানী তেল আবিবের পাশাপাশি মেফতাহিম ও নিরিম বসতি লক্ষ্য করে ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছেন। পাশাপাশি, তারা গাজার উপকণ্ঠে দখলদার সেনাদের রাইম ঘাঁটিতে বোমাবর্ষণ করেছেন।

ইসরাইলি গণমাধ্যমে গাজায় স্থল অভিযান শুরু হওয়ার পর তাদের ৩৮ সেনার নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে। তবে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ সংগঠনগুলো বলছে, নিহত ইসরাইলি সেনাদের প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি। পার্স টুডে অবলম্বনে

লেবাননের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহ ঘোষণা করেছে, তারা গাজার ‘সাহসি ও সম্মানিত’ প্রতিরোধ যোদ্ধাদের সমর্থনে ইসরাইলের বেশ কয়েকটি সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

হিজবুল্লাহ বলেছে, তারা ইসরাইলের হাতে বেদখল হয়ে যাওয়া লেবাননের গ্রাম ইফতাহ কাদিশে অবস্থিত একটি ইসরাইলি সেনা ঘাঁটিতে আত্মঘাতী ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়েছেন।
এছাড়া, তারা উত্তর ইসরাইলের হাজোদেত ইশুয়া বসতিতে দখলদার সেনাদের একটি দলের ওপর আরো দু’টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছেন। সেইসঙ্গে হিজবুল্লাহ ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলীয় আল-আসি এলাকার পাশাপাশি আরো কয়েকটি এলাকায় দখলদার সেনাদের ওপর গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে। এতে ৪ ইসরাইলি সেনা মারাত্মক জখম

ওদিকে ইসরাইলি বাহিনীর একজন মুখপাত্র হিজবুল্লাহর হামলায় শুক্রবার তাদের চার সেনার গুরুতর আহত হওয়ার কথা স্বীকার করেছে। ওই মুখপাত্র বলেছে, ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলীয় মেনারা এলাকায় ট্যাংক-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে তিন সেনা আহত হয়। এছাড়া, লেবানন সীমান্ত ঘেঁষে এক ড্রোন হামলায় তাদের চতুর্থ সেনা গুরুতর আহত ও আরেক সেনা সামান্য আহত হয়।

গত ৭ অক্টোবর গাজায় ইসরাইলি পাশবিক বিমান হামলা শুরুর পরদিন থেকে লেবাননের সীমান্তবর্তী ইসরাইলি সেনা ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে আসছে হিজবুল্লাহ। গত শুক্রবার (৩ নভেম্বর) হিজবুল্লাহ মহাসচিব সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ বহু প্রতীক্ষিত টেলিভিশন ভাষণে বলেন, ইসরাইলের বিরুদ্ধে সব অপশন টেবিলে রয়েছে। তিনি অবিলম্বে গাজার ওপর বর্বরোচিত আগ্রাসন বন্ধ করার জন্য তেল আবিবের প্রতি আহ্বান জানান। সাইয়্যেদ নাসরুল্লাহ বলেন, যদি কেউ ভয়াবহ আঞ্চলিক যুদ্ধ এড়াতে চায় সে যেন অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডের ওপর ইসরাইলি আগ্রাসন বন্ধ করার ব্যবস্থা করে।