প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তুরস্কে ফায়ার সার্ভিস টিমঃতুরস্ক-সিরিয়ায় মৃতের সংখ্যা ৫ হাজার ছাড়িয়ে

0
187

আমার সিলেট ডেস্কঃ তুরস্কে স্মরণকালের সংঘটিত ভয়াবহ ভূমিকম্পে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজ পরিচালনায় সহযোগিতার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ থেকে সাহায্যকারী দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স উদ্ধারকারী দল তুরস্কে পাঠানো হচ্ছে। সেই দলের সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের ১২ সদস্যের উদ্ধারকারী দল প্রস্তুত করা হচ্ছে।
ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম থেকে জানা যায় তুরস্ক ও সিরিয়ায় প্রায় ৫ হাজারের অধিক লোক মৃত্যুবরণ করেছে ভয়াবহ ওই ভূমিকম্পে। তবে এর সংখ্যা আরো কয়েকগুণ বৃদ্ধির আশঙ্কা করছে বিভিন্ন মহল।

আজ মঙ্গলবার (৭ ফেব্রুয়ারি-২০২৩) সন্ধ্যায় ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্সের সদর দফতরের সিনিয়র স্টাফ অফিসার শাহজাহান সিকদারের সই করা পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

এর আগে মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশে তুরস্কের রাষ্ট্রদূত মোস্তফা ওসমান তুরান এক খুদেবার্তায় জানান, ভয়াবহ ভূমিকম্পে তছনছ তুরস্ককে সহায়তা দিতে বাংলাদেশ থেকে উদ্ধারকারী দল তুরস্কে পাঠানো হবে।

গতকাল সোমবার (৬ ফেব্রুয়ারি) তুরস্কে সংঘটিত ভয়াবহ ভূমিকম্পের কারণে তুরস্ক সরকার কর্তৃক আন্তর্জাতিক সাহায্য চাওয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর নেতৃত্বে তুরস্কে একটি সম্মিলিত সাহায্যকারী দল পাঠানোর নির্দেশনা দিয়েছেন। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাইন উদ্দিন ১২ সদস্যের এই উদ্ধারকারী দল প্রস্তুত করছেন।

এক প্রতিক্রিয়ায় মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাইন উদ্দিন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সম্মিলিত উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসকে অন্তর্ভুক্ত করায় আমরা সম্মানিত বোধ করছি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্ধারকাজ পরিচালনার জন্য এটি ফায়ার সার্ভিসের প্রথম বিদেশ গমন। বর্তমান সরকারের সময়ে ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা বৃদ্ধির এটি একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। এটি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের জন্য একটি অভাবনীয় স্বীকৃতি। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের প্রত্যেক সদস্য এ জন্য গর্বিত। আমি বিশ্বাস করি, ফায়ার সার্ভিসের সব সদস্য নিজের সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আস্থার প্রতিদান দেবেন।’

প্রসঙ্গত, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স থেকে উদ্ধারকারী দলের সদস্য হিসেবে যারা যাচ্ছেন, তারা ইন্টারন্যাশনাল সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ অ্যাডভাইজারি গ্রুপের (আইএনএসএআরএজি) স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী বিধ্বস্ত ভবনে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজ পরিচালনার বিষয়ে আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত।
উল্লেখ্য,শুধু তুরস্কেই ৩ হাজার ৪১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
অপরদিকে সিরিয়ার সরকার ও বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে মারা গেছে ১ হাজার ৬০২ জন। দুই দেশ মিলে ভূমিকম্পে নিহত মানুষের সংখ্যা বেড়ে ৫ হাজার ২১ জনে দাঁড়িয়েছে। তুরস্ক ও সিরিয়ার সরকার ও হাসপাতাল নিহতের এ সংখ্যা জানিয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও অনেক বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা ডব্লিউএইচও’র কর্মকর্তারা আভাস দিয়েছেন নিহত মানুষের সংখ্যা ২০ হাজারে পৌঁছাতে পারে। তুরস্কের দুর্যোগ ও জরুরি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক কর্তৃপক্ষ আফাদ জানিয়েছে, কমপক্ষে ২,৮৩৪টি ভবন ধ্বংস হয়ে গেছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গাজিয়ান্তেপ শহর। ভূমিকম্পের পরে শতাধিক আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে।