প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আস্থা রেখে পূর্বের মজুরিতে কাজে ফিরছে চা শ্রমিকরা

0
392
ধানমন্ত্রীর প্রতি আস্থা রেখে পূর্বের মজুরিতে কাজে ফিরছে চা শ্রমিকরা
ধানমন্ত্রীর প্রতি আস্থা রেখে পূর্বের মজুরিতে কাজে ফিরছে চা শ্রমিকরা

“দূর্গাপূজার আগেই প্রধানমন্ত্রীর সাথে ভিডিও কনফারেন্সের দাবী”

জহিরুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টারঃ মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসকের সাথে রোববার রাত ৯ টার দিকে শ্রমিক নেতাদের আন্দোলন প্রত্যাহার করতে জরুরী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা বলে মজুরী নির্ধানের দাবী জানিয়েছেন চা শ্রমিক নেতৃবৃন্দরা।

চা শ্রমিক ইউনিয়ন ও মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক এর যৌথ বিবৃতিতে গতকাল সোমবার ২১আগস্ট রাতে নিম্নবর্ণিত শর্তে একমত পোষণ করে জানিয়েছেন,
(১) মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি বিশ্বাস ও আস্থা রেখে তার সম্মানে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের চলমান ধর্মঘট ২২ আগষ্ট থেকে প্রত্যাহার করে কাজে যোগদান করবেন।

(২) আপাতত অর্থাৎ পূর্বের ১২০ টাকা হারের মজুরিতে শ্রমিকগণ কাজে যোগদান করবেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে ভিডিও কনফারেন্স পরবর্তীতে মজুরির বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সদয় বিবেচনার পর চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হবে মর্মে শ্রমিক নেতৃবৃন্দ দাবী জানান।

(৩)আসন্ন শারর্দীয় দূর্গাপূজার পূর্বে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে ভিডিও কনফারেন্স যুক্ত হওয়ার জন্য চা শ্রমিক নেতৃবৃন্দরা আবেদন করেছেন যা জেলা প্রশাসক কর্তৃক মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে উপস্থিত হবে।

(৪) চা শ্রমিকদের অন্যান্য দাবী সমূহ লিখিত আকারে জেলা প্রশাসকের নিকট দাখিল করবেন।জেলা প্রশাসক মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সদয় বিবেচনার জন্য দাবীসমূহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রেরণ করবেন।

(৫) বাগান মালিক গণ বাগানের প্রচলিত প্রথা মোতাবেক ধর্মঘটকালীন মজুরি শ্রমিকগনের পরিশোধ করবেন।

আজ ২২ আগষ্ট সোমবার থেকে চা শ্রমিকরা কাজে যোগ দেবেন বলে জানিয়েছে পরেশ কালিন্দি । তবে আন্দোলন চলাকালীন সময়ের মজুরী দেওয়া হবে বলে সিদ্ধান্তে উল্লেখ করা হয়েছে।

চা শ্রমিকদের চলমান মজুরি বৃদ্ধির দাবীতে ৯ দিনে আন্দোলন চলে আসছে।বেশ কয়েক দফায় উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হলেও বার বার ব্যর্থ হয়েছেন, শ্রমিক, মালিক ও সরকার পক্ষ পর্যায়ে।

গত শনিবার শ্রীমঙ্গল শ্রম অধিদপ্তরের কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ১৪৫ টাকায় মজুরি আপাত নির্ধারণ করে দেওয়া হলে শ্রমিক নেতারা মেনে নিয়ে নিয়ে চলমান আন্দোলন প্রত্যাহারে ঘোষনা দেন নৃপেন পাল।

মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান এর সভাপতিত্বে এসময় উপস্থিত ছিলেন, মৌলভীবাজার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকারিয়া, শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলী রাজিব মাহমুদ মিঠুন,বিভাগীয় শ্রম দপ্তর শ্রীমঙ্গল উপ- পরিচালক মোহাম্মদ নাহিদুল ইসলাম। বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি পংকজ কন্দ, বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের (ভারপ্রাপ্ত) সাধারন সম্পাদক নৃপেন পাল, অর্থ সম্পাদক পরেশ কালিন্দী, বালিশিরা ভ্যালীর সভাপতি বিজয় হাজরা, কমল চন্দ্র বোনার্জি, মোঃ শহিদুল, নির্মল দাশ সহ প্রমুখ।

গতকাল রবিবার সকাল থেকে সিলেট, হবিগঞ্জ, বড়লেখা, কুলাউড়া, বড়লেখা, শ্রীমঙ্গলে বিক্ষোভ সমাবেশ ও হবিগঞ্জে শ্রমিকরা দীর্ঘ সাড়ে ৫ টা ঘন্টা মহাসড়কে অবরোধ করে রাখে।