প্রবল শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে কমপক্ষে ৭ জন নিহত

    0
    219

    আমার সিলেট  24 ডটকম,অক্টোবরভারতের উড়িষ্যা ও অন্ধ্র প্রদেশের উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হেনেছে প্রবল শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় পাইলিন। টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে জানিয়েছে, বিগত ২৩ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর শক্তি নিয়ে ঘূর্ণিঝড়টি ঘণ্টায় ২১০ থেকে ২২০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া নিয়ে এগিয়ে এলেও ঘণ্টায় ২৪০ কিলোমিটার বেগে আঘান হানছে। আঘাত হানার পর থেকে অন্তত ছয় ঘণ্টা এ ঘূর্ণিঝড়ের শক্তি অব্যহত থাকতে পারে বলেও জানানো হয়েছে। অন্তত ৬ লাখ মানুষ এ ঘূর্ণিঝড়ের ঝুকির মধ্যে রয়েছে বলেও খবরে বলা হয়। পাইলিনের প্রভাবে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল, পশ্চিমবঙ্গের কিছু অংশ, ঝাড়খণ্ড, ছত্তিশগড়, বিহার ও উত্তর প্রদেশে বৃষ্টিপাত হয়েছে।

    ধারণা করা হচ্ছে- ১৯৯৯ সালে আঘাত হানা ঘুর্ণিঝড়ের ভয়াবহতাকেও ছাড়িয়ে যাবে এ পাইলিন। ওই ঘূর্ণিঝড়ে কমপক্ষে ১০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছিল।এদিকে পাইলিনের প্রভাবে উড়িষ্যায় ব্যাপক ঝড় ও বৃষ্টিপাত হচ্ছে। ঝড়ে কমপক্ষে ৭ জন নিহত হয়েছে। নিহতদের ২ জন ঝড়ে গাছ উপড়ে পড়ে মারা গেছে। ৩৫ বছর বয়সী একজন উড়িষ্যার জগৎসিংপুর জেলার গারামা গ্রামে প্রচণ্ড ঝড়ে একটি গাছ পড়ে মারা যান। একইভাবে রাজ্যের রাজধানীতে মারা যান ৪২ বছর বয়সী এক নারী। গঞ্জম জেলার খালিকোতে গাছ পড়ে একজন মারা গেছে। তার পরিচয় জানা যায়নি।
    অন্যদিকে পাইলিনের প্রভাবে বাংলাদেশের উপকূলীয় জেলাগুলোতে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টিপাত হয়েছে বলে জানা গেছে। শনিবার দুপুরের পর থেকেই খুলনার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে দমকা হওয়া ও ঝড়ো বৃষ্টি। আবহাওয়া অফিস থেকে খুলনাসহ মংলা সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। পাইলিনের প্রভাবে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঝড় ও বৃষ্টিপাত হচ্ছে।
    ভারতীয় টিভি চ্যানেলগুলোর খবরে বলা হয়, গত দুই দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী এ ঘূর্ণিঝড়টি শনিবার রাত ৮টার দিকে উড়িষ্যার গোপালপুরে আঘাত করে। এরপর ঝড়টি অন্ধ্র প্রদেশের ওপর দিয়ে বয়ে যেতে পারে বলে ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের বরাত দিয়ে খবরে জানানো হয়েছে । ঝড়ের প্রভাবে স্বাভাবিকের চেয়ে সাড়ে তিন মিটার উঁচু জোয়ার এবং উপকূলীয় এলাকায় ৩০০ থেকে ৬০০ কিলোমিটার সাগরের পানিতে প্লাবিত হয়েছে বলে এনটিবি থেকে জানা যায়। ঝড়ে এক কোটি ২০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
    এছাড়া সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে উড়িষ্যা ও অন্ধ্র প্রদেশের সাড়ে পাঁচ লাখ বাসিন্দাকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। হাওড়া-বিশাখাপত্তম রুটে ৫৬টি ট্রেন চলাচল বাতিল করা হয়েছে। গতিপথ পাল্টে অন্যদিকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে ১৬টি ট্রেন। রোববারও ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হতে পারে। ঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির মুখে থাকা উড়িষ্যার গঞ্জাম, জগৎসিংপুর ও খোরদায় রিজার্ভ পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এর বাইরে উড়িষ্যার পুরী ও অন্ধ্র প্রদেশের শ্রীকাকুলাম ঘূর্ণিঝড় পাইলিনের প্রভাবে ঝুঁকির মুখে আছে। এ পাঁচ জেলায় ২৩টি সাইক্লোন সেন্টার ও একশটি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে।
    ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর বলেছে, পাইলিনের প্রভাবে শনিবার বিকাল ৩টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা উড়িষ্যার কিছু এলাকায় অতি ভারী বর্ষণসহ পুরো প্রদেশ এবং অন্ধ্রপ্রদেশের উত্তরাঞ্চলীয় উপকূলীয় এলাকায় ভারী বর্ষণ হতে পারে। ভারী বর্ষণ হতে পারে পশ্চিমবঙ্গের উপকূলীয় এলাকায়ও।
    এনডিটিভি আর ও জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়ে প্রাণহানি এড়াতে উড়িষ্যার উপকূলীয় জেলাগুলো থেকে সাড়ে চার লাখ মানুষকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে, যার মধ্যে শুধু গঞ্জাম থেকেই নেয়া হয়েছে এক লাখ ২০ হাজার মানুষকে। অন্ধ্র প্রদেশ থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে এক লাখের বেশি মানুষকে। পক্ষান্তরে ঝড় পরবর্তী দুর্যোগ মোকাবেলায় ব্যাপক প্রস্তুতি হিসেবে ভুবনেশ্বর বিমানবন্দরের নিয়মিত কার্যক্রম বন্ধ রেখে বিমানবাহিনীকে ব্যবহারের জন্য দেয়া হয়েছে।