ফতোয়া বাজদের শিকার নুরজাহানের আত্মহননের ২১বছর

    0
    240

    “গতকাল ১০ জানুয়ারী ছিল নুরজাহান আত্মহননের ২১ তম বার্ষিকী। কিন্তু মূত্যুবার্ষিকীতে উপজেলা প্রশাসন ,মহিলা পরিষদ কিংবা মানবাধিকার সংস্থা কোন কর্মসুচী পালন করেনি”

    আমারসিলেট24ডটকম,১০জানুয়ারী,শাব্বিরএলাহীঃ দেশ কাঁপানো ফতোয়া বাজদের শিকার মৌলভীবাজারজেলার কমলগঞ্জের হতভাগী নুরজাহানের আত্নহননের গতকাল শুক্রবার ছিল ২১ তম বার্ষিকী। যা নিরবেই কেটে গেল। উপজেলার পাহাড় টিলা বেষ্টিত ছোট গ্রাম ছাতকছড়া। সেই গ্রামের আশ্রব উল্যার যুবতী কন্যা নুরজাহান বেগম (লক্ষী) ছিলো ভাই বোনদের মধ্যে চতুর্র্থ। নুরজাহান বেগম লক্ষীর প্রথমে বিয়ে হয় শেরপুর এলাকার আব্দুল মতিনের সঙ্গে। বিয়ের পর দীর্ঘ দিন স্বামীর কোন খোঁজ খবর না থাকায় পিতা আশ্রব উল্লা মেয়ে নুরজাহানকে নিয়ে আসেন ছাতকছড়া গ্রামের নিজ বাড়ীতে। পিতার বাড়ীতে নুরজাহান আসার পর স্থানীয় মসজিদের ইমাম মাওলানা আব্দুল মান্নানের  কু-নজর পড়ে গৃহবধু সুন্দরী নুরজাহানের উপর এবং তাকে বিয়ে করার জন্য নুরজাহানের পিতার কাছে বিয়ের প্রস্তাব পাঠায়। নুরজাহানের পিতা আশ্রব উল্লা কথিত মাওলানার প্রস্তাবে রাজী না হয়ে একই গ্রামের মোতালিব হোসেন মতলিব মিয়ার সঙ্গে নুরজাহানের দ্বিতীয় বিয়ে  দেন। এই দ্বিতীয় বিয়েকে কেন্দ্র করে সুত্রপাত ঘটে এই হৃদয় বিদারক ঘটনার। বিয়ে করতে না পেরে মাওলানা আং মান্নান প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে এবং নানা ছলচাতুরী শুরু করে। বিয়ের ৪৫দিন পর মাওলানা আং মান্নান নুরজাহান ও আব্দুল মতলিবের ২য় বিয়েকে অবৈধ বলে ফতোয়া জারী করে এবং গ্রাম্য সালিশের ডাক দেয়। মাওলানা মান্নানের কথা মত ১৯৯৩ সালের ১০ জানুয়ারী সকালে একই গ্রামের নিয়ামত উল্লার বাড়ীতে গ্রাম্য সালিশী বিচার বসে। সালিশী বিচারে গ্রামের মনি সর্দার, দ্বীন মোহাম্মদ, নিয়ামত উল্লা ও মাওলানা মান্নান প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ নুরজাহান ও মতলিবের পরিবারকে দোষী সাব্যস্ত করে। সেই বিচারে গৃহবধু নুরজাহানকে মাটিতে পুঁতে ১০১ টা পাথর নিক্ষেপ করার রায় ঘোষনা দেয়া হয়। সালিশী রায় কার্যকর করার পর উপস্থিত গ্রাম্য সর্দার মনির মিয়া নুরজাহানের উদেশ্যে বলতে থাকে এত কিছুর পর তোর বেঁচে থাকা উচিত নয়। তর বিষ পান করে মরে যাওয়া উচিত। গ্রাম্য এ সর্দারের কটাক্ষ উক্তি সহ্য করতে না পেরে ক্ষোভে ও দুঃখে গৃহবধু নুরজাহান (লক্ষী) সেই দিনই বিষ পানে আত্মহনন করে। গতকাল ১০ জানুয়ারী ছিল নুরজাহান আত্মহননের ২১ তম বার্ষিকী। কিন্তু মূত্যুবার্ষিকীতে উপজেলা প্রশাসন ,মহিলা পরিষদ কিংবা মানবাধিকার সংস্থা কোন কর্মসুচী পালন করেনি।