ফুটবলের কিংবদন্তি পেলের জীবনাবসান ও কিছু স্মৃতি

0
924

আমার সিলেট ডেস্কঃ ফুটবলের কিংবদন্তি পেলের জীবনাবসান।তিনি আন্তর্জাতিক ফুটবল খেলেছেন ১৪ বছর এবং তার ক্লাব ক্যারিয়ার ২১ বছরের। ১৯৫৬ সালে ফুটবল শুরু করা পেলেকে ৫০, ৬০ এবং ৭০-এর দশকের সেরা ফুটবলার বলা হয়। ওই সময়ে তিনি তিনটি বিশ্বকাপ জিতেছেন।

ফিফার মতে, ১২শ’র ওপরে গোল করেছেন পেলে। তাকে শতাব্দি সেরা ফুটবলারের তকমা দিয়েছেন ফিফা প্রেসিডেন্ট জিওন্নি ইনফান্তিনো। সর্বকালের সেরা ফুটবলারও বলা হয় পেলেকে। ফুটবলের রাজা তিনি। গত কাল বৃহস্পতিবার (২৯ ডিসেম্বর) পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেছেন পেলে।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম থেকে জানা যায়, ক্লাব সান্তোসের মাঠেই জীবনের বেশ কিছু স্মরণীয় ম্যাচ খেলেছেন কিংবদন্তি ফুটবলার পেলে। আর সেই মাঠেই অনুষ্ঠিত হবে এই ফুটবলারের শেষকৃত্য অনুষ্ঠান।

দুনিয়ার মায়া চিরদিনের জন্য ত্যাগ করেন সর্বকালের সেরা ফুটবলার এডসন আরান্তেস ডো নাসিমন্তো (পেলে)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৮২ বছর। সোমবার এবং মঙ্গলবার- দুইদিন ধরে শেষ কৃত্যানুষ্ঠান আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

আজ সান্তোস ক্লাবের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, পেলেকে ভক্তদের শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য সাও পাওলোর ভিলা বেলমিরো স্টেডিয়ামকে নির্ধারণ করা হয়েছে। যেটা আবার সান্তোসেরও হোম ভেন্যু।

বিবৃতিতে ক্লাবটি জানিয়েছে, পেলের কফিন সাও পাওলোর আলবার্ট আইনস্টাইন হাসপাতাল থেকে সোমবার সকালে ভিলা বেলমিরো স্টেডিয়ামের মাঝ সার্কেল বরাবর রাখা হবে। ওইদিন সকাল ১০টা থেকে ভক্তরা শেষবারের মত পেলেকে দেখতে পাবেন। পরের দিন একই সময়ে এসে শেষ শ্রদ্ধা জানানো সমাপ্ত ঘোষণা করা হবে।

কিংবদন্তি ফুটবলার পেলের জীবনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলো-

পেলে আন্তর্জাতিক ফুটবল খেলেছেন ১৪ বছর এবং তার ক্লাব ক্যারিয়ার ২১ বছরের। ১৯৫৬ সালে ফুটবল শুরু করা পেলেকে ৫০, ৬০ এবং ৭০-এর দশকের সেরা ফুটবলার বলা হয়। ওই সময়ে তিনি তিনটি বিশ্বকাপ জিতেছেন।১৯৫৮ বিশ্বকাপে তরুণ পেলের উত্থান। দুর্দান্ত ফুটবল দেখান তিনি ওই আসরে। ১৯৬২ বিশ্বকাপও জেতেন তিনি। কিন্তু গ্রুপ পর্বের এক ম্যাচ ছাড়া খেলা হয়নি। এরপর ১৯৭০ বিশ্বকাপ ঘরে তোলে পেলের ব্রাজিল।

দশটি ক্যাম্পিওনাতো পুলিস্তা: সান্তোসের হয়ে ব্রাজিলের সবচেয়ে পুরনো পেশাদার লিগ ক্যাম্পিওনাতো পুলিস্তার দশটি শিরোপা জিতেছেন পেলে। সাল: ১৯৫৮, ১৯৬০, ১৯৬১, ১৯৬২, ১৯৬৪, ১৯৬৫, ১৯৬৭, ১৯৬৮, ১৯৬৯ এবং ১৯৭৩।

ছয়টি ব্রাজিলেইরো সিরি আ’ এবং চারটি তরনিইও রিও-সাও: সান্তোসের হয়ে ছয়টি ব্রাজিলেইরো সিরি আ’ জিতেছেন পেলে। যথা: ১৯৬১, ১৯৬২, ১৯৬৩, ১৯৬৪, ১৯৬৫, ১৯৬৮। চারটি তরনিইও রিও-সাও জিতেছেন পেলে (১৯৫৯, ১৯৬৩, ১৯৬৪ ও ১৯৬৬)।

কোপা লিবার্তোদোস, ইন্টারন্যাশিওনাল কাপ: পেলে ১৯৬২ ও ১৯৬৩ সালে কোপা লিভার্তোদোস জিতেছেন। একই বছর ইন্টারন্যাশিওনাল কাপ জিতেছেন। ১৯৬৮ সালে একটি ইন্টারন্যাশিওনাল সুপার কাপ জিতেছেন তিনি। ১৯৭৭ সালে নিউ ইয়র্ক কসমোসের হয়ে একটি ‘এনএএসএল সুপার বোল’ জিতেছেন এই কিংবদন্তি খেলোয়াড়।

২০১৪ সালে পেলেকে সম্মানসূচক ব্যালন ডি’অর দেওয়া হয়। পেলে যেভাবে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করেছেন তাতে অনেকগুলো ব্যালন ডি’অর পেতে পারতেন তিনি। কারণ ১৯৫৭, ১৯৫৮, ১৯৫৯, ১৯৬০, ১৯৬১, ১৯৬২, ১৯৬৩, ১৯৬৪, ১৯৬৫, ১৯৬৯ এবং ১৯৭৩ ক্যাম্পিওনাতো পুলিস্তার সেরা গোলদাতা ছিলেন তিনি।

ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি ১৯৫৮ বিশ্বকাপের সেরা তরুণ খেলোয়াড়ের পুরস্কার জেতেন। ১৯৫৮ ও ১৯৭০ সালে অল স্টার টিমে জায়গা পান। ১৯৫৯ কোপা আমেরিকার সেরা খেলোয়াড় ও সর্বোচ্চ গোলদাতা হন। ১৯৬২ ও ১৯৬৩ আসরের কোপা ইন্টারন্যাশিওনাল কাপের সেরা গোলদাতা তিনি। ১৯৭৩ সালে দক্ষিণ আমেরিকার সেরা ফুটবলার হন। ১৯৭৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের লিগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় নির্বাচিত হন। ১৯৭৫, ১৯৭৬ ও ১৯৭৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সেরা দলের সদস্য ছিলেন তিনি।