বাংলার ঘরে ঘরে আনন্দের জোয়ার

    0
    219

    আমার সিলেট 24ডটকম,অক্টোবর আজ  ১৬ অক্টোবর বাংলার ঘরে ঘরে পবিত্র ঈদুল-আদ্বহার আনন্দ। বিশ্বব্যাপী মুসলমান সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসবের একটি হলো এই পবিত্র ঈদুল-আদ্বহা ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত পরম আনন্দের একটি দিন পবিত্র ঈদুল-আদ্বহা। সারা বিশ্বের মুসলমানরা পবিত্র ঈদুল-আদ্বহায় মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি ও করুণা লাভের জন্য কুরবানি দিয়ে থাকেন। আজ দেশে পবিত্র ঈদের দিন ধনী-গরিব নির্বিশেষে ধর্মপ্রাণ সকল মুসলমান ঈদগাহে সমবেত হয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেছে। সামর্থ্যবানরা প্রিয় পশু কুরবানি করছেন। কুরবানির পশুর গোশত নিজে খাবেন এবং আত্মীয়স্বজন ও দরিদ্র মানুষের মধ্যে বিলিয়ে দিচ্ছেন । এভাবেই ত্যাগের মধ্য দিয়ে সকল মুসলমান চেষ্টা করে থাকেন আল্লাহর পরম সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য ।

    মুসলমানদের এই পবিত্র ঈদুল-আদ্বহা উৎসবের সঙ্গে মিশে আছে ত্যাগের চরম পরীক্ষা। ইসলামের ইতিহাস অনুযায়ী, হযরত ইব্রাহিম (আঃ) প্রায় বৃদ্ধ বয়সে পুত্রসন্তান লাভ করেন। পুত্র ইসমাইল ছিলেন তার প্রাণের চেয়েও প্রিয়। কিন্তু স্বপ্নে আল্লাহর কাছ থেকে সবচেয়ে প্রিয় বস্তুকে কুরবানি করার আদেশ পেয়ে কয়েকবার বহু পশু কুরবানির পর শেষ পর্যন্ত প্রিয় পুত্রকেই তিনি কুরবানি করার উদ্যোগ নেন। তবে পরবর্তী সময়ে আল্লাহর ইচ্ছায় একটি দুম্বা কুরবানির মাধ্যমে আল্লাহর সেই নির্দেশ বাস্তবায়িত হয়। এভাবেই আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পশু কুরবানির মধ্য দিয়ে সৃষ্টি হয় ত্যাগের এক মহান আদর্শ। এ ত্যাগ ও আনুগত্যের দৃষ্টান্ত অনুসরণ করতে প্রতি বছর হিজরি সনের জিলহজ মাসের ১০ তারিখে উদযাপিত হয় পবিত্র ঈদুল-আদ্বহা।

    পবিত্র ঈদুল-আদ্বহা উপলক্ষে গত কয়েকদিন ধরেই আমাদের দেশে উৎসবের পরিবেশ বিরাজ করছিল। মুসলমানরা কুরবানির পশু এবং আনন্দের অনুষঙ্গ পোশাকসহ অন্যান্য কেনাকাটার মাধ্যমে পবিত্র ঈদুল-আদ্বহা উৎসব উদযাপনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে রেখেছিলেন। অনেকে ঈদে প্রিয়জনকে উপহার প্রদান এবং আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধবকে দাওয়াত  করছেন।আজ বুধবার সকালে দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ জামাতে আদায়ের মধ্য দিয়ে ঈদের দিন শুরু হয় । সামর্তবান ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী হালাল চতুষ্পদ প্রাণী কুরবানি করছে।

    কুরবানির পশুর গোশত ৩ ভাগ করে ১ ভাগ নিজে খাওয়া, ১ ভাগ প্রতিবেশী ও আত্মীয়দের মধ্যে বিতরণ এবং আরেক ভাগ গরিবদের মধ্যে বিতরণ করার বিধান।  এলাকার প্রত্যেক কোরবানি দাতার বাড়ি থেকে গোশত সংগ্রহের মাধ্যমে সমাজের গরিব-দুঃখীদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে আজকের এই পবিত্র ঈদুল-আদ্বহার উৎসবের আমেজ বাংলার ঘরে ঘরে প্রতিটি মানুষের জীবনে শান্তি, স্বস্তি আর নিরাপত্তা নিশ্চিত হোক, অবসান হোক অন্ধকার অমানিশার। পবিত্র ঈদুল-আদ্বহার আনন্দ ছড়িয়ে পড়ুক এ দেশের প্রতিটি অঙ্গনে  হৃদয় থেকে হৃদয়ে এই প্রত্যাশা সকলের।পবিত্র ঈদুল-আদ্বহা “ঈদ মোববার”