বালু ও পাথর উত্তোলনের ফলে ডুবে যেতে পারে সিলেটের জাফলং সেতু!

0
222

উত্তর পূর্ব অঞ্চলের মেঘা প্রকল্পটি ভেঙ্গে পড়ার আশংঙ্কা!

রেজওয়ান করিম সাব্বির, জৈন্তাপুর (সিলেট) প্রতিনিধিঃ

সিলেটের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের সবচেয়ে বড় প্রকল্প জাফলং সেতু ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। যে কোন মুহুত্বে সেতুটি ক্ষতি সাধিত হতে হতে পারে। অপরিকল্পিত ভাবে জাফলং নদীর বালু ও পাথর উত্তোলনের ফলে সেতুর ২টি পিলার ব্যাতিত সবকয়টি পিলারের পাইলিং ৩০ হতে ৩৫ ফিট পর্যন্ত ভূগর্ভ হতে বেরিয়ে পড়েছে। সেতুর উপর হালকা যান চলাচলে মাত্রাতিরিক্ত ঝাকুনির সৃষ্টি হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট বালু ও পাথর খেকু চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেনা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন।

সরেজমিনে জাফলং নদী ঘুরে দেখা যায়, পাথর ও বালু খেকু এবং উপজেলা প্রশাসনের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা, স্বার্থনেষী মহল, সুযোগ সন্ধানী হাইব্রিড নেতাদের লেলুপ দৃষ্টি জাফলং পিয়াইন নদীর বালু ও পাথরের উপর। চক্রটি গত বৎসরের আগষ্ট সেপ্টেম্বর হতে ইসিএ ভূক্ত এলাকা জাফলং পিয়াইন ও ডাইকী নদীর উৎস মুখ হতে জাফলং ব্রিজ পর্যন্ত বোমা মেশিনসহ বিভিন্ন যন্ত্র দিয়ে বালু পাথর অব্যহত রাখার কারনে ইতোমধ্যে ব্রিজটি দুটি পিলার ব্যতীত সব কয়েকটি পিলার এর ৩০ হতে ৩৫ ফিট পর্যন্ত ফাইলিং পিলার বেরিয়ে পড়েছে। বর্তমানে ব্রিজটির উপর দিয়ে যেকোন ধরনের হালকা যান চলাচল করলে ব্রিজটিতে বড় ধরনের ঝাঁকুনির সৃষ্টি হচ্ছে। তাই যে কোন সময় ব্রিজটি ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে।

গোয়াইনঘাট উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা জাফলং ব্রিজ ব্যবহারকারী রিয়াজ উদ্দিন, রফিক আহমদ, শোয়েব আহমদ, নাছির উদ্দিন, হেলাল আহমদ, গোলাম হোসেন, জমশেদ হোসেন, রফিকুল ইসলাম, আব্দুন শুকুর, রহিম উদ্দিন, মঞ্জুর আহমদ, মনির হোসেন সহ শতাধিক ব্যক্তির সাথে আলাপকালে তারা বলেন, ‘২০১৮ সনের ১৪ এপ্রিল শনিবার বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনে সিলেটের সীমান্ত জনপদ গোয়াইনঘাট উপজেলার পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের প্রতীক্ষিত জাফলং সেতুর উদ্বোধন করেন বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা জনমানুষের নেত্রী শেখ হাসিনা।জাফলং সেতু উদ্বোধনের সঙ্গে সিলেট সদর উপজেলার সাথে জাফলংয়ের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি উত্তর সিলেটের জৈন্তাপুর-গোয়াইনঘাট-কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সহজতর যোগাযোগ, পর্যটন সম্ভাবনার উন্নয়ন ব্যবস্থাপনায়ও নবদ্বার উন্মোচিত হয়।’

আরো জানা যায়,বৃহত্তর উত্তর-পূর্ব সিলেটের সর্ব বৃহৎ ও মেগা উন্নয়ন প্রকল্প জাফলং ব্রীজ। ভারতের মেঘালয়ের পাহাড় বয়ে আসা পিয়াইন নদীর জাফলং খেয়াঘাট এলাকায় এলজিডি’র তত্তাবধানে প্রায় ২৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩৬০ মিটার দৈর্ঘ্য এই ব্রিজটি জেলা সদরের সাথে গোয়াইনঘাট উপজেলার পূর্ব জাফলং এর যোগাযোগ দূরত্ব কমে আসা এবং সহজতর হয়।

২০০৮ সালের শেষের দিকে ব্রিজ বাস্তবায়ন প্রকল্প গ্রহণে সর্বশেষ উদ্যোগী হন বর্তমান সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রনালয়ের মাননীয় মন্ত্রী ইমরান আহমদ এমপি। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে চতুর্থদফা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে বর্তমান সংসদ সদস্য ইমরান আহমদ জাফলং ব্রিজ প্রকল্প উন্নয়নে সরকারের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার দ্বারস্থ হন। প্রধানমন্ত্রীর ইতিবাচক সিদ্ধান্তে শুরু হয় প্রাতিষ্ঠানিক দৌড়ঝাঁপ। এলজিইডিসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে নিরলস পরিশ্রম করে প্রকল্প দাঁড় করান।

২০১৩ সালের ১৭ই সেপ্টেম্বর সিলেটের গোলাপগঞ্জের সমাবেশ হতে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জাফলং ব্র্রিজ প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০১৮ সনের ১৪ এপ্রিল শনিবার বাংলা নববর্ষের প্রথমদিনে খেয়া পারাপারসহ জনদুর্ভোগ লাগবে জনসাধারণ ও যানবাহন চলাচলের জন্য আনুষ্ঠানিক ভাবে মেঘা উন্নয়ন প্রকল্পটি উদ্বোধন বর্তমান সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রনালয়ের মাননীয় মন্ত্রী ইমরান আহমদ এমপি।

জাফলং ব্রিজটি শুধু ব্রিজই নয়, ইতিহাসের মাইলফলকও। উত্তর সিলেটের যোগাযোগ, পর্যটন সম্ভাবনা, আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে নবদ্বারের উন্মোচন হয়। সহজতর যোগাযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি পর্যটন, ব্যবসা বাণিজ্য কৃষি আবাদ উন্নয়নে যুগান্তরকারী ভূমিকা পালন করবে। পর্যটন ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনা আরও এগিয়ে যায়, সুদৃঢ় হয়। ব্রিজটি বাস্তবায়ন হওয়ায় দেশ-বিদেশের পর্যটকরা সহজেই তিন উপজেলার পর্যটন স্পট গুলো ঘুরে দেখতে পারছে।

তারা আরও বলেন, জাফলং পাথরেেকায়ারী ইসিএভূক্ত এলাকা হওয়ায় বাল পাথর উত্তোলন বন্ধ করে দেয় সরকার। কিন্তু কতিপয় স্বার্থনেষী মহলের কারনে আজ সরকারের উত্তর-পূর্ব সিলেটের সবচেয়ে বড় মেঘা প্রকল্পটি ৪বৎসরের মধ্যে ধ্বংসের ধারাপ্রান্তে এসে দাড়িয়েছি। এর জন্য দায়ী উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা, উপজেলার স্বার্থনেষী রাজনৈতিক হাইব্রিড নেতা, সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কতিপয় ব্যক্তিরা। তাদের মদদে এবং মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ফলে জাফলং সেতুর নিচ হতে বালু পাথর লুটে নিয়ে সরকারের মেঘা প্রকল্পটি হুমকীর মুখে পড়েছে।

এভাবে মাস খানের চলতে থাকলে যে কোন মুহুত্বে ব্রিজটি সর্ম্পূণ নদীর পানিতে তলিয়ে যাবে। এখইন সময় সরকারের উচ্চ পর্যায়ের হতে বিষয়টি সরজমিন তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনকরার জন্য। নতুবা ৪বৎসরের মধ্যে সরকারের মেঘা প্রজেক্টটি জাফলং ব্রিজ ধ্বংস হয়ে যাবে। ফিরে আসতে হবে উত্তরপূর্ব সিলেটের গোয়াইনঘাটের জাফলংবাসীকে সেই পুরাতন খোয়া নৌকার যুগে।

গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিলুর রহমান জানান, “বিষয়টি দ্রুত তদন্ত স্বাপেক্ষ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।”