বিএনপির জন্য কাজ করতে কি রাজি হয়েছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস?

    0
    254

    আমার সিলেট ডেস্ক,২৭ আগস্ট : সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল বিএনপিতেই যোগ দিয়েছেন নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ও গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহাম্মদ ইউনূস?

    বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দলটি আগামীতে সরকার গঠন করলে নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ও গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহাম্মদ ইউনূস কে রাষ্ট্রপতি করা হবে- মূলত এ শর্তেই শেষ পর্যন্ত বিএনপির জন্য কাজ করতে তিনি রাজি হয়েছেন বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির শীর্ষ স্থানীয় একটি সূত্র একটি নিউজকে নিশ্চিত করেছে। তবে বিএনপিতে তার এ যোগদান সরাসরি রাজনীতির মাঠের জন্য আনুষ্ঠানিক নয়; ইতিমধ্যেই তিনি অনানুষ্ঠানিকভাবে দলটির আন্তর্জাতিক লবিস্ট হিসেবে কাজ শুরু করেছেন বলেও সূত্রটি জানিয়েছে। তারই অংশ হিসেবে এরই মধ্যে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, তুরস্কসহ মধ্যপ্রাচ্যের বেশকিছু দেশে বিএনপির পরামর্শে বিতর্কিত মানবাধিকার সংস্থা অধিকার, ব্যাপক সমালোচিত আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, হেফাজতে ইসলাম ও যুদ্ধাপরাধী জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে লবিং করে বেশ সফলও হয়েছেন।
    জানা যায়, গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে সরকারের সাথে ড. ইউনূসের যে শীতল সম্পর্ক যাচ্ছে তাতে ইউনূস অনানুষ্ঠানিকভাবে হলেও রাজনীতিতে নাম লেখাতে পারেন বলে আগেই ধারণা করা হচ্ছিল। আর তা নিশ্চিতভাবেই হওয়ার কথা আওয়ামী লীগ, মহাজোট তথা বর্তমান সরাকার বিরোধী। বিষয়টি বিএনপি, তাদের কয়েকজন মিত্র ও  ড. ইউনূসের সম্প্রতিক কর্মকাণ্ডেও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আর এর সূত্রপাত আগে হয়ে থাকলেও তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে- সামাজিক উদ্যোক্তা হিসেবে গত মে মাসে বিশ্বখ্যাত ফোর্বস ম্যাগাজিন ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে আজীবন সম্মাননা দেয়ার পর। তখন বেগম খালেদা জিয়ার অভিনন্দনসহ গ্রামীণ ব্যাংক ভবনে গিয়ে তাকে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা জানায় বিএনপির শীর্ষ নেতারা। এর পর থেকেই জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে- ড. মুহাম্মদ ইউনূস কি তাহলে জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল বিএনপিতে, নাকি নিজে দল গঠন করে ১৮ দলীয় জোটে যোগ দিচ্ছেন !
    এদিকে বিএনপি চেয়ারপার্সনের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ একটি দলীয় সূত্র একটি নিউজকে নিশ্চিত করেছে বলে জানা গেছে যে, আন্তর্জাতিক লবিং ছাড়াও আপাতত পরোক্ষভাবে দেশের জন্য বেগম খালেদা জিয়া যেসব দায়িত্ব ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে দিয়েছেন সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- ধারাবাহিকভাবে ১৮ দলের শরীক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সাথে আনুষ্ঠানিক কিংবা অনানুষ্ঠানিক পর্যায়ে একান্তভাবে মিলিত হয়ে তাদেরকে পরামর্শ দেয়া এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদকে ম্যানেজ করে মহাজোট থেকে ছাড়িয়ে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটে ভিড়ানো। সে কার্যক্রম তিনি ইতিমধ্যেই শুরু করে দিয়েছেন এবং বিএনপির সাথে সুর মিলিয়ে নির্দলীয়-নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া এদেশে কোন দল যাতে জাতীয় নির্বাচনে না যায় সে এজেন্ডা বাস্তবায়ন শুরু করে দিয়েছেন বলে একটি নিউজ  সূত্র থেকে জানা গেছে ।