বিটিআরআই’র সাবেক শিক্ষককে ঘাড়ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়ার নির্দেশ!

0
358

“অবসরকালীন পাওনা টাকা চাওয়ায় এমন হুমকির কথা সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করলেন এক শিক্ষক”

শ্রীমঙ্গল (মৌলভীভাজার) প্রতিনিধি: দীর্ঘ (৩৮) বছর একনিষ্ঠার সাথে শিক্ষকতা করে অবশেষে ঘাড় ধাক্কার হুমকি নিয়ে এবং অবসর শেষে গ্রাচুয়িটি প্রভিডেন্ট ফান্ড এর বিধি মোতাবেক প্রকৃত পাওনা না পাওয়ার বেদনা নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করলেন বিটিআরআই উচ্চ বিদ্যালয়ে সাবেক সিনিয়র শিক্ষক মোহাম্মদ শাহ আলম।
রোববার (২ অক্টোম্বর) সকাল ১১টায় শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাব হল রুমে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন,বিধি মোতাবেক আমি পরিচালক স্কুল সভাপতি বরাবর অবসর শেষে আমার প্রাপ্য টাকা পাওয়ার জন্যে আবেদন করলে বিধি মোতাবেক প্রকৃত পাওনা না দিয়ে সামান্য অর্থ ৪ লক্ষ টাকার চেক প্রাপ্তি স্বীকারে সই করতে বলেন।
তিনি আরও বলেন, এরই প্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ আমাকে পূর্বের দেয়া নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাসা ছাড়ার নির্দেশ দেন। এখানে আরও উল্লেখ্য যে পরিচালক আমার বিষয়টি বিবেচনায় না নিয়ে চা বোর্ডের সচিব বরাবর ফোনে কথা বলে জানান যে, আবেদনকারী শিক্ষক টাকা নিতে অস্বীকৃতি জানায়। তখন সচিব মহোদয় পরিচালককে বিদ্যুৎ, গ্যাস লাইন, পানির লাইন বিচ্ছিন্ন করে ওই শিক্ষককে বাসা থেকে ঘাড়ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেন।
এই অবস্থায় একজন শিক্ষকের দীর্ঘচাকুরী জীবনের প্রাপ্যটুকু না পেয়ে বরং ঊর্র্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের এমন অপ্রত্যাশিত ও অসৌজন্যমুলক আচরণে গভীরভাবে বেদনাহত হয়েছেন বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, এমনটি আমার জীবনে কখনো কল্পনাও করতে পারিনি।
তিনি আরও বলেন, আমি গত ১৪/০৯/২০১২ ইং তারিখে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর আমার পাওনাদির জন্য আবেদন করি। যেহেতু বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ের অধীনে চা বোর্ড পরিচালিত হয় এবং চা বোর্ডের অধীনে বিটিআরআই এবং বিটিআরআই স্কুল পরিচালিত হয়। আমার আবেদন টি সচিব মহোদয় সাদরে গ্রহন করেন এবং চা বোর্ডের কর্তৃপক্ষকে বিধিমোতাবেক পাওনা পরিশোধের জন্য চেয়ারম্যানকে নির্দেশ প্রদান করে। এটা বলার পরেও সংশ্লিষ্ট সচিব মহোদয় এ ব্যাপারে কোনো প্রকার ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো আমাকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ভয়ভীতি প্রদানসহ অশালীন আচরণ করে চলেছেন। যা আমার জীবদ্দশায় অত্যন্ত মানহানিকর বলে মনে করি। এটা শুনার পরেও পরিচালক কোনো মন্তব্য করেননি।
তিনি তার বক্তব্যে সাংবাদিকদের বলেন,আমি এক অসহায় শিক্ষক। আমি আপনাদের মাধ্যমে সরকারের ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের দৃষ্টি আকর্ষন করছি। আমি যেন আমার প্রাপ্তাদি বুঝে পেতে পারি এই আশা ব্যক্ত করছি।