বিদেশ যেতে জমি বিক্রি করে কেহ যেন নিঃস্ব না হনঃপ্রধানমন্ত্রী

    0
    193

    আমারসিলেট24ডটকম,২৩নভেম্বরঃ সারাবিশ্বে নতুন শ্রমবাজার খুঁজে বের করার তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নতুন শ্রমবাজার খুঁজে বের করে দক্ষ শ্রমিক পাঠাতে উন্নত প্রশিক্ষণ দিন। ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় পরিদর্শনের অংশ হিসেবে আজ রবিবার সকালে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এ তাগিত দেন। তিনি বলেন, দেশের বিশাল জনসংখ্যা সমস্যা নয় বরং দেশের সম্পদ। অতীতে বিএনপি জামায়াত সরকারের লোকজন ব্যবসায় জড়িত ছিল বলে বিদেশে লাখ লাখ বাংলাদেশী অবৈধ হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, সচিব খোন্দকার শওকত হোসেনসহ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
    শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ ছোট দেশ হলেও আমাদের অনেক জনসংখ্যা এবং এটি আমাদের সম্পদ। তাদেরকে ঠিকভাবে প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে গড়ে তোলা গেলে আমাদের লক্ষ্য পূরণ সহজ হবে। তিনি বলেন, কারো কথায় প্ররোচিত হয়ে কেউ বিদেশে যাওয়ার সময় যাতে প্রতারণা কিংবা বিপদের সম্মুখীন না হয় সে বিষয়ে আমাদের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ভূমিকা রাখতে পারে।
    সরকার প্রধান বলেন, চোখে রঙিন স্বপ্ন দেখিয়ে মানুষকে বিদেশ পাঠানো হতো। অথচ তারা কি কাজ করবো তাও ঠিক থাকতো না। পরবর্তীতে অনেক সময়ই মানুষকে কাজ না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হতো। আমরা এ জায়গা থেকে মানুষকে মুক্ত করতে চাই। দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে প্রবাসীদের অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা বৈদেশিক মুদ্রার রির্জাভ ২২ বিলিয়ন ডলারের ওপর অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। যার সিংহভাগ প্রবাসীদের অর্থ।
    প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার সুবিধার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জমি-জমা বিক্রি করে, ধারকর্জ করে কেউ আর নিঃস্ব না হন, বিদেশগামীরা যেন তাদের বাবা-মা, ভাই-বোনকে নিঃস্ব করে না যান, সেজন্য প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে ঋণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিদেশগামীদের ডাটাবেজ করার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এতে মানুষকে বিভ্রান্ত করার সুযোগ কমে যাবে।
    জনশক্তি রফতানিকারক এজেন্সিগুলোকে সর্তক করে মহাজোট নেতা বলেন, কারো ব্যবসা আমরা বন্ধ করতে চাই না। ব্যবসা চলবে। সাধারণ মানুষকে শোষণ করে কিংবা বিভ্রান্ত করে সে ব্যবসা যেন না হয়। ব্যবসায়ীরা লাভ করবেন। কিন্তু লাভটা যেন সীমিত হয়। লাভ করে গরিব মানুষকে যেন নিঃস্ব করে দেওয়া না হয়।  সংসদ নেতা বলেন, দক্ষ শ্রমিক তৈরিতে আমাদের ট্রেনিং ইনিস্টিটিউটগুলো গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়, শ্রম মন্ত্রণালয় ও যুব মন্ত্রণালয়ের কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এগুলোর মধ্যে সমন্বয় দরকার। কোন কোন ট্রেডে আমাদের ট্রেনিং হবে সে ট্রেনিং আমরা আমাদের দেশের অভ্যন্তরীণ কর্মসংস্থান ও বিদেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থার মধ্যে একটা সমন্বয় করতে হবে। বিদেশগামী গৃহকর্মীদের প্রশিক্ষণের সময়সীমা আরো বাড়ানোর পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা গৃহকর্মীর কাজে বিদেশ যাচ্ছেন, এখন তাদের ৩ সপ্তাহের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এটিকে আরো বাড়ানো যেতে পারে। তাদের প্রশিক্ষিত করতে পারলে তাদের আর অসুবিধার মধ্যে পড়তে হবে না।
    গৃহকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের জন্য স্মার্টকার্ড চালুসহ সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, অতীতে গৃহকর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে কোনো প্রশিক্ষণ ছাড়াই পাঠানো হতো। তারা কোথায় যাচ্ছেন, কার কাছে যাচ্ছেন, কি কাজ করছেন তার কোনো হিসেব-নিকেশ থাকতো না। ফলে তারা কষ্টের মধ্যে পড়তেন। কেউ যাতে মুখরোচক কথা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে না পারেন, সে বিষয়ে সবাইকে সর্তক থাকার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, বিভ্রান্ত হয়ে মানুষ যেন কোনো কিছু না বুঝে বিদেশ যাত্রা শুরু না করেন, সে বিষয়ে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়কে ব্যাপক প্রচারণা চালাতে হবে।
    প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোন দেশে কোন ধরনের লোকবল প্রয়োজন সেটা খুঁজে বের করে সেভাবে আমাদের লোকজনকে প্রশিক্ষণ দিয়ে সেসব দেশে প্রেরণ করতে হবে। তিনি বলেন, জনশক্তি দক্ষ হলে তারা আরো বেশি অর্থ উপার্জন করতে পারেন। এতে পরিবারগুলো যেমন লাভবান হবে, তেমনি দেশও লাভবান হবে। বিদেশে শ্রমবাজার সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে সুবিধা হবে।
    নতুন শ্রমবাজার খোঁজার ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশের বাংলাদেশের দূতাবাস ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নজর দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে মহাজোট নেতা বলেন, আমাদের দেশে ইয়াং ওর্য়াকিং ফোর্স আছে। বহু দেশ বৃদ্ধ দেশে পরিণত হয়েছে। সেখানে কাজ করার যুবশক্তির অভাব। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আমাদের নতুন নতুন কর্মসংস্থানের জন্য বাজার চিন্তা করতে হবে। কোন দেশে কোন ধরনের লোকের চাহিদা বেশি রয়েছে, সেটা নিরুপণ করতে হবে। দক্ষ জনশক্তি গড়তে প্রশিক্ষণ ইনিস্টিটিউটগুলোর সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।