বিয়ানীবাজারে ডেলিভারি কাজে অবহেলায় শিশু মৃত্যুর অভিযোগঃনিষ্পত্তির উদ্যোগ

0
188

এমরান আহমদ, বিয়ানীবাজার থেকেঃ বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্বশীলদের অবহেলায় এক নবজাতকের মৃত্যু নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বজনরা। (৪ মে) বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রসবের সময় শিশুর মৃত্যু হলে স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে ধরে অভিভাবকরা মরদেহ বাড়ি নিয়ে দেখতে পান নবজাতকের দেহ থেকে মাথা অনেকটা আলাদা করা।

এ বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকাবাসী রাতে হাসপাতাল প্রাঙ্গনে জড়ো হয়ে ভিক্ষোভ করেন এবং দ্বায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

উপজেলার কুরার বাজার ইউনিয়নের বৈরাগী বাজার এলাকার আইসক্রিম বিক্রেতা ওহিদুর রহমান, স্ত্রী প্রসূতি রহিমা বেগমকে বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
স্বজনরা জানান শিশুটি স্বাভাবিক অবস্থার চেয়ে একটু বড় হওয়ায় প্রসবের সময় সমস্যা কথা জানিয়েছেন হাসপাতালের গাইনি বিভাগের দায়িত্বশীলরা। বিকেলে প্রসব বেদনা হলে দায়িত্বশীল দুই নার্সের সাথে একজন চিকিৎসকের সহায়তায় মৃত নবজাতকের জন্ম হয়।

প্রসূতি রহিমা বেগমের মা গণমাধ্যমকে জানান যে, চিকিৎসকেরা তাদের জানিয়েছিলেন বাচ্ছাটি বড়। একথা শুনে তিনি দায়িত্বশীলদের বলেন, উপজেলার একটি প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে যাবেন। উনার এ প্রস্তাবে ডাক্তার রাজি হন নি। আছরের নামাজের সময় তিনি বাড়ি যান, বাড়ি গিয়ে জানতে পারেন প্রসূতি মেয়েকে ডেলিভারির জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে আলাদা রুমে, জানতে পেরে তিনি বিয়ানীবাজার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে দেখতে পান তারা তিনজন (দায়িত্বরত চিকিৎসক,নার্স) শিশুটির মাথায় ধরে টানিতেছেন।

একপর্যায়ে মৃত শিশুটিকে কাপড় দিয়ে মুড়িয়ে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। বাড়িতে নিয়ে যখন শেষ বিদায়ের গোসল দেওয়া হবে ঠিক তখনই সবাই লক্ষ্য করেন মৃত নবজাতকের দেহ থেকে মাথা অনেকটা আলাদা করা।

এমন মর্মান্তিক ছবি তুলে গ্রামের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে শেয়ার করলে গ্রামবাসী এবং স্বজনরা জড়ো হয়ে হাসপাতালে এসে দায়িত্বশীলদের কাছে এর কারণ জানতে চান এবং ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

ডেলিভারির দায়িত্বে থাকা হাসপাতালের নার্স লাকি আক্তার এবং সুজালা কস্তার বিরুদ্ধে টাকা দাবির অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী স্বজনরা।

আগামী সোমবার (৯ মে) উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম পল্লবসহ উপজেলা প্রশাসন, থানা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বশীল, ভুক্তভোগী পরিবার এবং এলাকার গণ্যমান ব্যক্তিবর্গদের নিয়ে আলোচনা মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।