বিশ্বের সবচেয়ে ধনী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীতে পরিণত হয়েছে আইএস

    0
    216

    আমারসিলেট24ডটকম,২৪অক্টোবরঃ জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) খুব দ্রুত বিশ্বের সবচেয়ে ধনী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীতে পরিণত হয়েছে। সংগঠনটি কালোবাজারে তেল বিক্রি, জোর করে অর্থ আদায় ও মুক্তিপণ থেকে মাসে লাখ লাখ ডলার সংগ্রহ করছে। গত কাল বৃহস্পতিবার মার্কিন কর্মকর্তারা গণমাধ্যমকে একথা জানিয়েছেন। এদিকে গণমাধ্যমে জানা যায়, আল-কায়েদার মতো আইএস’র অধিকাংশ তহবিলের জন্য ধনী দাতা অথবা স্টেট-স্পন্সরের ওপর নির্ভরশীল নয়। শুধুমাত্র দখলকৃত তেল শোধনাগারগুলো থেকে জঙ্গিরা প্রতিদিন ৫০ হাজার ব্যারেল তেল বিক্রি করতে পারে। তারা এগুলো তুরস্কসহ বিভিন্ন দালালের মাধ্যমে বিশেষভাবে হ্রাসকৃত মূল্যে বিক্রি করছে।

    সন্ত্রাস ও অর্থ বিষয়ক গোয়েন্দা তথ্য সংক্রান্ত ট্রেজারি আন্ডার সেক্রেটারি ডেভিড কোহেন বলেছেন, আইএস চলতি বছরের গোড়ার দিকে ইরাক ও সিরিয়ায় অভিযান চালিয়ে দখলকৃত তেলক্ষেত্রগুলো থেকে অপরিশোধিত তেল বিক্রি করে প্রতিদিন ১০ লাখ মার্কিন ডলার আয় করছে। তিনি বলেন, অধিকাংশ সন্ত্রাসী সংগঠন যেভাবে অর্থ সংগ্রহ করে থাকে, আইএস তাদের চেয়ে ভিন্ন সূত্র থেকে ‘নজিরবিহীন গতিতে অর্থ সংগ্রহ করছে’। এ কারণে আইএসআইএল নামেও পরিচিত সংগঠনটি যুক্তরাষ্ট্রের সামনে একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। দেশটি জঙ্গি গোষ্ঠীটির অর্থের উৎস বন্ধে কাজ করে যাচ্ছে।
    কোহেন বলেন, আমাদের কাছে রাতারাতি আইএসআইএল-এর ধনভান্ডার শূণ্য করার মতো কোন গোপন অস্ত্র নেই। এটা স্থায়ী লড়াই হবে এবং আমরা এই যুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছি। কারনেগি এন্ডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট মারওয়ান মুয়াশের বলেন, আইএস-কে এখন বিশ্বের সবচেয়ে ধনী এবং অর্থসমৃদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
    কোহেন বলেন, ইরাকে কুর্দিদের কাছেও তেল বিক্রি করা হয়েছে। মার্কিন প্রশাসন এ চোরাকারবারের দালালদের খোঁজে বিষয়টির ওপর অতি সাবধানে নজর রাখছে। এছাড়াও জঙ্গি গোষ্ঠীটি এ বছর অপহরণ থেকে ২ কোটি মার্কিন ডলার সংগ্রহ করেছে। তারা বিশেষত সাংবাদিক ও ইউরোপীয়দের জিম্মি করেছে। জঙ্গি এ সংগঠনটি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও অর্থ দাবি করছে। এ কাজে একটি ‘অত্যাধুনিক অর্থ সংগ্রহকারী চক্র’ কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, জঙ্গি সংগঠনটি মেয়েদের যৌনদাসী হিসেবে বিক্রির মাধ্যমেও অর্থ আয় করছে। সংগঠনটির বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে গণহত্যা, ধর্ষণ ও অন্যান্য ভয়াবহ অপরাধের অভিযোগ উঠেছে।
    প্রসঙ্গত চলতি বছরের জুন থেকে ইরাক ও সিরিয়ার বৃহৎ অঞ্চলের দখল নিতে থাকে আইএস। ইরাকি সেনাবাহিনীকে হটিয়ে দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মসুল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র মসুল বাঁধের নিয়ন্ত্রণ নেয় তারা। এছাড়া ইরাকি বাহিনীর কাছ থেকে যক্তুরাষ্ট্রের দেয়া আধুনিক যুদ্ধাস্ত্রগুলোও ছিনিয়ে নেয় আইএস যোদ্ধারা। সিরিয়া ও ইরাকের বিশাল অংশ দখল করে নেয়া ইসলামি জঙ্গিগোষ্ঠী দ্য ইসলামিক স্টেট ইন ইরাক অ্যান্ড দ্য লেভান্ত (আইএসআইএল) নিজেদের দখলকৃত এলাকাকে ইসলামি খিলাফত বলে ঘোষণা দেয়।সুত্রঃ ইন্টারনেট