বেনাপোল দিয়ে কমেছে পাসপোর্টযাত্রী পারাপারঃটাকার মান কমে যাওয়ায় কি এ সঙ্কট?

0
281
বেনাপোল দিয়ে কমেছে পাসপোর্টযাত্রী পারাপারঃটাকার মান কমে যাওয়ায় কি এ সঙ্কট?
বেনাপোল দিয়ে কমেছে পাসপোর্টযাত্রী পারাপারঃটাকার মান কমে যাওয়ায় কি এ সঙ্কট? ছবি প্রতিনিধি

মোঃ ওসমান গনি, বেনাপোল প্রতিনিধিঃ বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে পাসপোর্টযাত্রী পারাপার কমেছে। ভারতে বাংলাদেশি টাকার মান কমে যাওয়ায় এ সঙ্কট তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইমিগ্রেশন সূত্র জানায়, জুলাই মাসের ২২-৩১ তারিখ পর্যন্ত বেনাপোল চেকপোস্ট ও রেলপথে ভারতে যাতায়াত করেছেন ৪২ হাজার ২০৩ জন। এরমধ্যে ভারতে গেছেন ১৮ হাজার ৮৫৭ জন ও ভারত থেকে এসেছেন ২৩ হাজার ৩৪৬ জন। চলতি মাসের ১-১০ আগস্ট পর্যন্ত ভারতে যাতায়াত করেছেন ৪৩ হাজার ৩৩২ জন। এরমধ্যে ভারতে গেছেন ২২ হাজার ৩৯০ জন ও ভারত থেকে এসেছেন ২০ হাজার ৯৪২ জন। কিন্তু ১১-১৬ আগস্ট পর্যন্ত এ পথে যাতায়াত করেছেন মাত্র ২৩ হাজার ২৩৫ জন। এরমধ্যে ভারতে গেছেন ১১ হাজার ৬৭৮ জন ও ভারত থেকে এসেছেন ১১ হাজার ৫৫৭ জন।

বেনাপোল চেকপোস্ট পুলিশ ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, ভারতে যাওয়া বাংলাদেশী পাসপোর্ট যাত্রীদের সংখ্যা কমেছে। সেখানে বাংলাদেশী টাকার মান কমে যাওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে জেনেছি। টাকার মান বাড়লে এ সমস্যা থাকবে না।

এদিকে আশঙ্কাজনক ভাবে যাত্রী কমে যাওয়ায় হতাশায় পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। কোলকাতার নিউমার্কেট, সদর স্ট্রিট, মার্কুইস স্ট্রিট, বড় বাজার, মির্জা গালিব স্ট্রিট, বেলগাছিয়া, চিৎপুর, টালিগঞ্জ পার্ক সার্কাস, এন্টালি, আনোয়ার শাহ রোড, মল্লিকবাজার, রাজাবাজার, ধর্মতলার টিপু সুলতান মসজিদ চত্বর, মেটিয়ানুরুজ, খিদিরপুর, পার্ক স্ট্রিট, জাকারিয়া স্ট্রিট এলাকার ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

দেশ ট্রাভেল পরিবহনের পেট্রাপোলের দায়িত্বপ্রাপ্ত আলী হোসেন শেখ জানান, টাকার মান কমে যাওয়ায় গত দুই সপ্তাহে পর্যটকদের আসা যাওয়া থমকে গেছে। পেট্রাপোল থেকে কলকাতায় এখন ৪০ সিটের একটি শ্যামলী পরিবহনে মাত্র ১৫-২০ জন যাত্রী নিয়ে ছাড়ছে। কলকাতা থেকে আসছে একই যাত্রী নিয়ে।

সোহাগ পরিবহনের ম্যানেজার শহিদুল ইসলাম বলেন, ঢাকা থেকে কলকাতাগামী পাসপোর্টযাত্রীর সংখ্যা অর্ধেকে নেমে এসেছে। টাকার মান কমে যাওয়া ও ডলার সঙ্কটে যাত্রীরা কলকাতায় যেতে চাচ্ছেন না।

বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে প্রতি বছর প্রায় ২০ লাখ যাত্রী যাতায়াত করেন। ভ্রমণকর বাবদ সরকার পাসপোর্ট প্রতি ৫০০ টাকা, বন্দরকে টার্মিনাল চার্জ ৫০ টাকা পায়। এতে ভ্রমণ কর বাবদ বছরে সরকারের রাজস্ব আসে প্রায় শত কোটি টাকা ও টার্মিনাল চার্জ হিসেবে বন্দর পায় প্রায় ১০ কোটি টাকা।