বড় অঙ্কের অর্থের লোভ দেখিয়ে রায়ের অংশবিশেষ বের

    0
    200

    আমারসিলেট 24ডটকম,০৫অক্টোবর:সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর যুদ্ধাপরাধ মামলার রায়ের খসড়ার অংশবিশেষ তার আইনজীবীর এক সহকারী ট্রাইবুনালের পরিচ্ছন্নতা কর্মীর মাধ্যমে বড় অঙ্কের অর্থের লোভ দেখিয়ে বের করেছিলেন। এ কাজে ট্রাইবুনালের অন্য এক কর্মচারী তাকে সহযোগিতা করেন বলে জানা যায় ।গত কাল এক সংবাদ সম্মেলনে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম এ কথা জানিয়েছেন।ওই কর্মকর্তা জানান,রায়ের খসড়া ফাঁসের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ট্রাইবুনালের পরিচ্ছন্নতা কর্মী নয়ন আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।জিজ্ঞাসাবাদে নয়ন জানিয়েছে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আইনজীবীর এক সহকারীর ফাঁদে পা দিয়ে তিনি এ কাজ করেছেন।

    এতে ট্রাইবুনালের এক কর্মচারী তাকে সহযোগিতা করেছেন। ট্রাইব্যুনালের কর্মচারী ও আইনজীবী সহকারীর নাম প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানান এই গোয়েন্দা কর্মকর্তা।ট্রাইবুনালের কম্পিউটার থেকে পিটিশনের তারিখ নিতে ফখরুল ইসলামের এক সহকারী নয়ন আলীকে একটি পেনড্রাইভ দেন। নয়ন তাকে সহযোগিতা করেন।তবে পেনড্রাইভে পিটিশনের সময় ছাড়াও সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর রায়ের কম্পোজ করা কিছু অংশ চলে যায়।এরপর সাকার আইনজীবীর ওই সহকারী নয়নকে রায়ের খসড়ার বাকি অংশ এনে দিতে চাপ দেয়। তা না দিলে “রায়ের কম্পোজ করা অংশ নয়ন রায় ঘোষণার আগেই প্রকাশ করেছে বলে”ট্রাইবুনাল কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দেয়ার হুমকি দেন তিনি।অন্যদিকে রায়ের খসড়ার ওই অংশ এনে দিলে নয়নকে মোটা অঙ্কের বখশিস দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন আইনজীবীর ওই সহকারী।তবে টাকার অঙ্ক বলা হয়নি।মনিরুল ইসলাম বলেন, এরপর ট্রাইব্যুনালের এক কর্মচারীর সহযোগিতায় পেনড্রাইভে করে আইনজীবীর ওই সহকারীকে রায়ের খসড়ার অংশবিশেষ সরবরাহ করা হয় বলে নয়ন জানিয়েছে।

    জানা যায় নয়ন মাঝে মধ্যে ট্রাইবুনালের চিঠিপত্র লেখার কাজও করতেন।যারা রায়ের কম্পোজ করা কিছু অংশ সংগ্রহ করেছেন তারা দুই ধরনের অপরাধ করেছেন বলে এক কর্মকর্তা বলেন । বিচারাধীন বিষয়ের তথ্য গোপনে সংগ্রহ করা এবং রায় ঘোষণার আগেই তা প্রকাশ করে তারা অপরাধ করেছেন বলেন ঐ কর্মকর্তা।    উল্লেখয়,পুলিশ নাম প্রকাশ না করলেও পুলিশের গণমাধ্যম কার্যালয়ে নয়ন আলী সাংবাদিকদের সামনে বলেন, আইনজীবী ফখরুল ইসলামের সহকারী মেহেদী হাসান তাকে দিয়ে রায়ের খসড়ার কম্পোজ করা কিছু অংশ সংগ্রহ করেছেন। আর খসড়াটি সংগ্রহ করতে ট্রাইবুনালের কর্মচারী ফারুক মেহেদী সহযোগিতা করেছেন।গত মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর যুদ্ধাপরাধের রায় ঘোষণা করা হয়। এর আগেই ইন্টারনেটে মামলার  রায় পাওয়া গেছে বলে সালাউদ্দিন ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়।পরদিন উক্ত ঘটনায় ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার নাসির উদ্দিন মাহমুদ এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় একটি জিডি করেন। তারপর ঘটনার তদন্ত শুরু করে গোয়েন্দা পুলিশ।শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলে আইনজীবী ফখরুল ইসলামের কার্যালয় থেকে দুটি কম্পিউটারসহ কিছু জিনিসপত্র ও জব্দ করেছে পুলিশ।রায়ের অংশবিশেষ ফাঁসের ঘটনায় তথ্যপ্রযুক্তি আইনে নয়ন আলীসহ তিনজনকে আসামি করে একটি মামলা করা হয়েছে।