‘ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল আন্তর্জাতিক মানের। গুজব তদন্তে কমিটি গঠন

    0
    607

    শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো নিয়ে সৃষ্ট গুজবের বিষয়টি তদন্ত করতে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। কমিটিকে এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
    আজ বুধবার মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ও কৃমিনাশক বড়ি খাওয়ানোর কর্মসূচি নিয়ে সরকারের বক্তব্য তুলে ধরে এ তথ্য জানানো হয়। সম্মেলনে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী মজিবুর রহমান ফকির বলেন, একটি কুচক্রী মহল দেশজুড়ে এ বিষয়ে গুজব ছড়িয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে। ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল স্বীকৃত গবেষণাগারে পরীক্ষা করে দেখা গেছে, এই ওষুধ আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন, জীবাণুমুক্ত ও নিরাপদ।
    গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত অনেক বাবা-মা গুজবে আতঙ্কিত হয়ে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো শিশুদের নিয়ে হাসপাতালে গেছেন। বিষয়টি উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সংশ্লিষ্ট চিকিত্সকেরা তাঁদের চিকিত্সা দিয়েছেন। তবে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খেয়ে কোনো জায়গা থেকে নিশ্চিত মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
    মজিবুর রহমান বলেন, ‘সরবরাহকৃত ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল আন্তর্জাতিক মানের। এতে সাধারণত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয় না। শিশু বিশেষজ্ঞরা এর সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন।’
    সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, পরিকল্পিতভাবে এ গুজব ছাড়ানো হয়। মূলত চট্টগ্রাম থেকে এটি শুরু হয়। কক্সবাজারের একটি মসজিদ থেকে মাইকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল নিয়ে বিরূপ প্রচার চালানো হয়। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
    সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যসচিব এ এম নিয়াজউদ্দিন, অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খন্দকার মো. সিফায়েত উল্লাহ।
    গতকাল সারা দেশে শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ খাওয়ানো হয়। এক লাখ ২০ হাজার স্থায়ী স্বাস্থ্যকেন্দ্র ছাড়াও ২০ হাজার ভ্রাম্যমাণ কেন্দ্রের মাধ্যমে শিশুদের ভিটামিন খাওয়ানোর কথা ছিল। ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের ভিটামিন ক্যাপসুল ও দুই থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের ভিটামিনের সঙ্গে একটি কৃমিনাশক বড়ি খাওয়ানো হয়।
    তবে হরতাল ও গুজবের কারণে কর্মসূচি বেশ খানিকটা ব্যাহত হয়েছে। অনেক কেন্দ্রে ভিড় কম ছিল। অনেকে কেন্দ্রে এসেও গুজব শুনে আতঙ্কে ভিটামিন না খাইয়ে শিশুকে নিয়ে ফিরে গেছেন।
    Polio dose