ভৈরবগন্জবাজার উচ্চ বিদ্যালয়ে গোলযোগের ভিত্তিতে থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

0
283

নিজস্ব প্রতিনিধি,আমার সিলেট রিপোর্টঃ মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ভৈরবগন্জবাজার উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক ও স্কুল কমিটির সভাপতির সাথে রোববার (২১ মে) সকাল ১০ টা থেকে সাড়ে ১০ টায় দুদফায় গোলযোগের অভিযোগ উঠেছে এবং উভয় পক্ষ পাল্টাপাল্টি থানায় অভিযোগ করেছে।

রোববার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশের উপস্হিতিতে স্কুল এলাকা শান্তিপুর্ন রয়েছে। বাজারবাসী ও জানান পুলিশের উপস্হিতিতে পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রয়েছে।
শেষ পর্যন্ত এ ঘটনায় উভয় পক্ষের ৩ জন আহতের সংবাদ পাওয়া গেছে।
স্কুল কমিটির সুত্রে জানা যায়, এতে স্কুলের মৌলভী শিক্ষক আব্দুল মোতালিব গুরুতর আহত হয়।তাকে প্রথমে শ্রীমঙ্গল ও পরে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বর্তমানে নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন।
একই ঘটনায় অপর পক্ষের মোঃ রিপন মিয়ার দাবী তাদেরও দুইজন যথা- শাহিনুর রহমান শামিম ও সাইফুর রহমান রিপন নামে দুই জন মৌলভীবাজারে চিকিৎসা নিয়েছে।

ঘটনার সুত্রপাতে স্হানীয় বিভিন্ন সুত্রে জানা যায়,স্কুলে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে কিছু দিন ধরে দুই’টি গ্রুপের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এলাকায় প্রচার হচ্ছে। এর মধ্যে এক গ্রুপের অভিযোগ,বর্তমান স্কুল কমিটি ও শিক্ষকদের একটি অংশ মিলে অবৈধ ভাবে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ করেছে।

এর মধ্যে অপর পক্ষের অভিযোগ স্হানীয় কিছু লোক বর্তমান ভারপ্রাপ্ত শিক্ষকের ইন্দনে একটি সিন্ডিকেট তৈরী করে দীর্ঘ দিন ধরে স্কুলের উন্নয়নে বাঁধা তৈরি করছে।কখনো কখনো তারা অনৈতিক দাবীও করছে বলে লোকমুখে শুনা যাচ্ছে।তবে এর কোনটির সত্যতা আমাদের কাছে নেই বলে এলাকার কিছু লোকের দাবি।
এ ছাড়াও লেখা পড়ার মান ও বেতন ভাতা নিয়ে ও নানা কথা শুনা যায় বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্কুল এলাকার বাসিন্দাদের থেকে জানা যায়।তবে স্কুলের মধ্যে মারামারির ঘটনা কি নিয়ে তা এখনো পরিস্কার বলা যাচ্ছে না,এতে পাশে থাকা প্রাইমারী স্কুলের শিশু ছাত্ররা মারাক্তক ভয় পেয়েছে।এভাবে বহিরাগতরা স্কুলে ঝামেলা করলে স্কুলের বদনাম হবে ছাত্রছাত্রীরা ভয়ে স্কুলে আসতে চাইবেনা।এ ক্ষেত্রে শিক্ষকদের আরও সতর্ক থাকা উচিত বলে তারা মনে করেন।

এদিকে ঘটনার পর শ্রীমঙ্গল থানায় উভয় পক্ষ অভিযোগ করে।অভিযোগের মুল বক্তব্য সংক্ষেপে উল্লেখ করা হলো।

স্কুল ও কমিটির পক্ষে সদ্য নির্বাচিত বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফনি ভূষণ রায় চৌধুরীর অভিযোগ থেকে সংক্ষিপ্ত বর্ননায় জানা যায়, ২১মে রোববার সকাল প্রায় ১০ টায় বিদ্যালয়ের ক্লাস চলাকালীন সময়ে শাহিনুর রহমান শামীম বিদ্যালয়ে অনধিকার প্রবেশ করিয়া বিদ্যালয়ের পিয়ন ললিতা কানুকে বলে যে, তোর সভাপতিসহ প্রধান শিক্ষক কোথায় আছে। তখন পিয়ন ললিতা কানু জানেন না মর্মে জানালে শাহিনুর রহমান শামীম তাহাকে বিভিন্ন প্রকার গালিগালাজ করে চলে যায়। তারপর পিয়ন আমাকে উক্ত বিষয়টি অবহিত করিলে আমি বিষয়টি বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপিতিকে অবহিত করি। পরবর্তীতে একইদিন সকাল অনুমান সাড়ে ১০টায় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বিদ্যালয়ে আসিলে শাহিনুর রহমান শামীম আরও কয়েকজনকে নিয়ে বেআইনীভাবে লাঠি নিয়া বিদ্যালয়ের অফিসে প্রবেশ করে সভাপতিকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি দিতে থাকে।গালিগালাজ করিতে বাঁধা দিলে মোতালিবকে এলোপাতাড়িভাবে কিল, ঘুষি, লাথি ও মাথায় মেরে মারাক্তক জখম করে।
এতে আহত মোতালিবকে প্রাণে মারার ও হুমকি প্রদান করে। এ সময় সকল আক্রমণ কারী এলোপাতারী ভাবে বিদ্যালয়ের অফিস রুমের কম্পিউটার, প্রিন্টার মেশিনসহ অফিসের বিভিন্ন জিনিস পত্র ভাংচুর করে প্রায় লক্ষ টাকার ক্ষতি করে চলে যায়।

অপরদিকে শাহিনুর রহমান শামিমের নামে করা অভিযোগ থেকে সংক্ষিপ্ত মুল বক্তব্য হচ্ছে প্রসাশনের বিভিন্ন দপ্তরে দরখাস্তের ফলে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে একই দিন স্কুলের নৈশ প্রহরী আবুল হোসেনকে দিয়ে আমাকে স্কুলে ডাকাইয়া আনিয়া এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করে আমাকে দোষারোপ করতে থাকলে, সভাপতির সাথে আমার বাক-বিতণ্ডা হয়। বাক-বিতণ্ডার এক পর্যায়ে সভাপতির হুকুমে অন্যরা আমাকে এলোপাথাড়ি মারধর করে জখম করে।এছাড়াও তারা আমাকে প্রাণে হত্যার হুমকি দেয়।

এক প্রশ্নের জবাবে স্কৃুলকমিটির সভাপতি তবারক মিয়া জানান,সাবেক ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক আইনুল মোস্তফার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের কারনে গত সময়ে একবার সকলের পক্ষ থেকে অনাস্থা প্রস্তাবও আনা হয়েছিল। এর পরে এবারও অনিয়মের কারনে কয়েকবার শোকজ করা হয়েছে এর কোন সদুত্তর দিতে পারেনি। এতে স্কুল কমিটিকে কোন প্রকার পাত্তা দেয়নি বলে বিষয়টি সরকারি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত আকারে জানানো হয় এবং সর্বশেষ লিখিতভাবে সকল আইনকানুন মতে অধিকাংশের মতে নতুন ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে।

সাবেক ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক আইনুল মোস্তফা সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,”আমাকে শোকজ করলে তো অবশ্যই রেজুলেশন থাকবে? তাছাড়া নিয়োগ স্বচ্ছ না হাওয়ায় আমি পরিক্ষায় অংশ গ্রহন করিনি।বাইরের কোন সিন্ডিকেট এর সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই এটি তাদের বিষয়।”
এ ব্যাপারে এসআই মিয়া মোঃ নাসির বলেন “আমরা আসার পর থেকে পরিবেশ শান্ত রয়েছে।”

এ ব্যাপারে শ্রীমঙ্গল থানার ওসি জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার আমার সিলেটকে বলেন,”ঘটনার সাথে সাথে ৩ দফায় পুলিশ পাঠিয়েছি,এলাকা শান্ত রয়েছে। উভয়ের অভিযোগ পেয়েছি। এটি একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এর ভালোমন্দ আমাদের সকলের উপর নির্ভর করে।আমরা উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসন ও শিক্ষা প্রশাসনসহ আমার উর্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে পরামর্শ করে সঠিক তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যাবস্হা গ্রহন করবো।”