মঙ্গলবারে কয়েকটি জেলায় পবিত্র ঈদুল-আদ্বহা পালিত হবে

    0
    258

    আমার সিলেট  24 ডটকম,অক্টোবরআগামীকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশের কয়েকটি জেলায় পবিত্র ঈদুল-আদ্বহা পালিত হবে। সৌদি আরবের সাথে সঙ্গতি রেখে আগামীকাল চট্টগ্রাম, চাঁদপুর, শরিয়তপুর মাদারীপুর ও মৌলভীবাজার সহ বিভিন্ন জেলায় কোরবানী দেয়া হবে। ইতিমধ্যেই এসব গ্রামের ঈদের নামাজ আদায়ের সব প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে কর্তৃপক্ষ। গত ৫ অক্টোবর শনিবার জিলহজ্জ মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ায় সোমবার ১৪ অক্টোবর পবিত্র মক্কা শরীফে হজ্জব্রত পালিত হচ্ছে। তাই মঙ্গলবার সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ঈদ উদযাপিত হবে।  চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার মির্জাখীল দরবার শরীফের মুরিদগণ পবিত্র ঈদুল ফিতর পালন করেন একদিন আগে। এরই ধারাবাহিকতাই দরবার শরীফের মুরিদগণ সৌদি আরবের সাথে সঙ্গতি রেখে এবারো আগাম কুরবানি দেবেন। ইতোমধ্যে ঈদের নামাজ আদায়ের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে দরবার শরীফ কর্তৃপক্ষ। আগামীকাল সকাল ৯টায় মির্জাখীল দরবারের মাঠে পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। দরবার শরীফের পীর  মাওলানা মোহাম্মদ আরেফুল হাই-এর বড় ছেলে মুফতি মাওলানা মোহাম্মদ মকছুদুর রহমান নামাজে ইমামতি করবেন। চট্টগ্রাম ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে থাকা মির্জাখীল দরবারের অনেক মুরিদ ঈদের নামাজ আদায়ের জন্য ইতোমধ্যে দরবার শরীফে চলে এসেছেন। দরবার সূত্র মতে, সাতকানিয়ার মির্জাখীল, গাটিয়াডেঙ্গা, পশ্চিম বাজালিয়া, মাদার্শা, চন্দনাইশের কাঞ্চননগর, হারালা, বাইনজুরি, কানাই মাদারি, সাতবাড়িয়া, বরকল, দোহাজারী, জামিরজুরি, বাঁশখালীর কালিপুর, চাম্বল, শেখের খীল, ডোংরা, ছনুয়া, আনোয়ারার বরুমছড়া, তৈলারদ্বীপ, লোহাগাড়ার পুটিবিলা, কলাউজান, বড়হাতিয়া, পটিয়া, বোয়ালখালী, হাটহাজারী, সন্দ্বীপ, রাউজান, ফটিকছড়ির কিছু এলাকাসহ চট্টগ্রামের ত্রিশটি গ্রামের মানুষ আগামীকাল ঈদুল আজহা উদযাপন করবে। চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলায় ও প্রায় ৩৫ গ্রামে আগামীকাল আগাম ঈদুল আযহা পালিত হবে। গত ৩০ বছর পূর্ব থেকে আরব দেশ সমূহের সাথে মিল রেখে মুসলমানদের দুই প্রধান উৎসব ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা পালিত হয়ে আসছে। ১৯৮৩ সালে সর্ব প্রথম সাদ্রা গ্রামে আগাম ঈদ উদ্যাপন শুরু হয়। ওই গ্রামে মরহুম পীর মাওলানা ইসহাক (রহ:) এই নিয়ম চালু করেন। সেই থেকে ওই গ্রামের পাশাপাশি আশপাশের গ্রামের লোকজন তার অনুসারী হয়ে পড়ে। হাজীগঞ্জের সাদ্রা, বলাখাল, রামপুর, অলিপুর, রামচন্দ্রপুর, ফরিদগঞ্জের বাশারা, শোলা, চৌরাঙ্গা, গড়িয়ানা, মুন্সীরহাট, কাইতাড়া, নুরপুর, মূলপাড়া, বদরপুর, প্রতাপপুর, মহেশপুর, তেলিসাইর, উভারামপুর, সুরঙ্গচাল, সাচনমেঘ, মতলবের পাঁচানি, সাড়ে পাঁচানি ও এখলাসপুর এবং কচুয়া ও শাহ্রাস্তির কয়েকটি গ্রামে এ ঈদুল-আদ্বহা পালন করা হবে। আরো জানান, আগামীকাল সোমবার সৌদি আরবে পবিত্র হজ্ব অনুষ্ঠিত হবে। পরদিন মঙ্গলবার সাদ্রাসহ প্রায় ৩৫টি গ্রামে আমরা ঈদুল আযহার নামাজ আদায় ও কোরবানি করবো।

    মাদারীপুর ও শরিয়তপুরে ও  বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে হযরত সুরেশ্বরী (রঃ) সহ মাদারীপুরের ৫০ গ্রামের অনুসারীরা সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে আগামীকাল মঙ্গলবার ঈদুল-আদ্বহা উদযাপন করবে। সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের সাথে মিল রেখে শরিয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বর দরবার শরীফের প্রতিষ্ঠাতা হযরত জানশরীফ শাহ্ সুরেশ্বরী (র.) এর মাদারীপুর ও শরিয়তপুর জেলাসহ বাংলাদেশের প্রায় ১ কোটি ধর্মপ্রাণ মুসলমান মঙ্গলবার ১৫ অক্টোবর মঙ্গলবার ঈদুল-আদ্বহা উদযাপন করবে বলে নূরে আক্তার হোসাইন নিশ্চিত করেছে।
    ঈদুল-আদ্বহা উপলক্ষে মাদারীপুর সদর উপজেলার চরকালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ ও কালকিনির আন্ডারচর খানকা শরীফ মাঠে ঈদের বৃহৎ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। চরকালিকাপুর ঈদের জামাতে ইমামতি করবেন মাস্টার আবুল হাসেম মিয়া ও আন্ডারচর খানকা শরীফ মাঠের ঈদের জামাতে ইমামতি করবেন মাওলানা মোকসেদ মিয়া। এ সকল গ্রামের মানুষের মধ্যে বিরাজ করছে ঈদের আনন্দ।
    শরিয়তপুর দরবার শরীফের মাদারীপুর জেলার প্রধান খাদেম ও পাঁচখোলা ইউপির প্রাক্তন চেয়ারম্যান আব্দুস সাত্তার মোল্লা জানান, সদর উপজেলার পাঁচখোলা, জাজিরা, মহিষেরচর, জাফরাবাদ, চরকালিকাপুর, তাল্লুক, বাহেরচরকাতলা, চরগোবিন্দপুর, আউলিয়াপুর, ছিলারচর, কুনিয়া, মস্তফাপুর, কালকিনির সাহেবরামপুর, আন্ডারচর, আলীনগর, বাঁশগাড়ী, খাসেরহাট, আউলিয়াপুর, রামারপোল, ছবিপুর, ছিলিমপুর, ক্রোকিরচর, সিডিখান, কয়ারিয়া, রমজানপুর, বাটামারা, রাজারচর, শিবচরের পাচ্চর, স্বর্ণকারপট্টিসহ মাদারীপুর জেলার চারটি উপজেলার ৫০ গ্রামের অর্ধলক্ষাধিক ধর্মপ্রাণ মুসলমান বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে মঙ্গলবার ঈদ-উল-আযহা উদযাপন করবেন।
    মাদারীপুর সদর উপজেলার চরকালিকাপুর গ্রামের হাশেম মাস্টার জানান, সুরেশ্বর দরবার শরীফের প্রতিষ্ঠাতা হযরত জান শরীফ শাহ্ সুরেশ্বরী (র.) এর অনুসারীরা ১৪৩ বছর পূর্ব থেকে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের সাথে মিল রেখে রোজা রাখেন এবং ঈদ-উল-ফিতর ও ঈদুল-আদ্বহা উদযাপন করে আসছেন।
    এছাড়াও বান্দরবানের লামা, আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়ি, কক্সবাজারের চকরিয়া, টেকনাফ, মহেশখালী, কুতুবদিয়া ও হ্নীলার বেশ কয়েকটি গ্রামের কিছু লোক একই সময়ে ঈদুল-আদ্বহার  নামাজ আদায় করবেন।