মনে হচ্ছে ছাত্র রাজনীতি এখন ব্যক্তি ও গোষ্ঠীস্বার্থ নির্ভরঃরাষ্ট্রপতি

    0
    200

    আমারসিলেট24ডটকম,১৩জানুয়ারীঃ রাষ্ট্রপতি আলহাজ্জ মোঃ আবদুল হামিদ বলেন,  নেতৃত্ব সৃষ্টিতে ছাত্র রাজনীতির প্রয়োজন রয়েছে। তাই তিনি ছাত্র রাজনীতির বিপক্ষে নন। তবে সে রাজনীতি হতে হবে আদর্শিক ও জনকল্যাণমুখী। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে ছাত্র রাজনীতিকে জাতির বৃহত্তর কল্যাণে আদর্শিক ও গণমুখী করে তুলতে হবে।

    আজ মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৯তম সমাবর্তনে তিনি একথা বলেন। এ সময় তিনি বর্তমানে ছাত্র রাজনীতিতে আদর্শের অনুপস্থিতি দেখে নিজের বেদনার কথা তুলে ধরে অতীত ঐতিহ্যের কথা মনে করিয়ে ছাত্রদের গণমুখী রাজনীতির ধারায় ফিরতে বলেন।
    রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেন, ষাটের দশকে আমরা যারা ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম তাদের সকলেরই আদর্শ ছিল। সে আদর্শ হল দেশ ও জনগণের কল্যাণ সাধন। যেখানে ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কোনো স্বার্থের কোনো স্থান ছিল না।

    তিনি বলেন,বর্তমান ছাত্র রাজনীতিতে অনেক ক্ষেত্রে সে আদর্শের অনুপস্থিতি আমাকে বেদনাহত করে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, ছাত্র রাজনীতি এখন ব্যক্তি ও গোষ্ঠীস্বার্থ নির্ভর হয়ে পড়েছে। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে ছাত্র রাজনীতিকে জাতির বৃহত্তর কল্যাণে আদর্শিক ও গণমুখী করে তুলতে আমি সকলের প্রতি আহ্বান জানাই।

    এ সময় ১৯৫৯ সালে ছাত্রলীগের মাধ্যমে রাজনীতিতে আসা আবদুল হামিদ বাঙালির সেই সংগ্রামের অধ্যায়ে ছাত্র রাজনীতির উজ্জ্বল ভূমিকার কথা আজকের স্নাতকদের মনে করিয়ে দেন।
    রাষ্ট্রপতি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জন্ম দিয়েছে অনেক বরেণ্য রাজনীতিবিদের। তারা মহান স্বাধীনতাসহ জাতীয় উন্নয়নে বিপুল অবদান রেখেছেন। মূলত ছাত্র রাজনীতির পথ বেয়েই তাদের উত্থান ঘটেছে। তাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে ছাত্র রাজনীতির রয়েছে এক বিশাল সংযোগ।

    এ বছর সমাবর্তনের বক্তা ছিলেন জেনেভাভিত্তিক মেধাস্বত্ত্ব সংগঠনের (The World Intellectual Property Organization-WIPO) মহাপরিচালক ফ্রান্সিস গারি (Francis Gurry) । তাকে ডক্টর অব ল’জ (Doctor of Laws)  ডিগ্রি প্রদান করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য আবদুল হামিদ তার হাতে তুলে দেন সম্মানসূচক ‘ডক্টর অব লজ’ ডিগ্রি।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক ও উপ উপাচার্য (শিক্ষা) নাসরীন আহমেদও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

    ৪৯তম এ সমাবর্তনে মোট ৬ হাজার ১০৪ জনকে ডিগ্রি প্রদান করা হয়। তাদের মধ্যে ৩ হাজার ৩৬৭ জন মেয়ে ও ২ হাজার ৭৩৭ জন ছেলে। ডিগ্রিপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন, পিএইচডি ৪২ জন, এমফিল ২০ জন, স্বর্ণপদক ২৯ জন, এমডি, এমএস ৪৯ জন, অনার্স ৩ হাজার ১৬০ জন, মাস্টার্স ৫৬৫ জন, এমবিবিএস ১ হাজার ৬২৫ জন, বিডিএস ৩১৯ জন, নার্সিং ও ফিজিওথেরাপি ১৮৬ জন, হোমিওপ্যাথিক ও আয়ুর্বেদিক ১০৯ জন। কৃত্বিতের জন্য ৩৬ জন শিক্ষার্থীকে দেয়া হয় স্বর্ণ পদক।