মন্ত্রণালয়ের স্মারক জাল করে এসিল্যান্ড পদে চাকুরীর অভিযোগ

    1
    233

    আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,৯ফেব্রুয়ারী,চান মিয়াসিলেটে মন্ত্রণালয়ের স্মারক জাল করে অত্যন্ত দাপটের সাথে মিউনিসিপ্যালিটি ভূমি অফিসে কর্মরত রয়েছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) নূুরুল আমিন। এরআগে কারাবরন ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের অভিযোগে গোলাপগঞ্জ সহকারী তহশীলদার থেকে তাকে বরখাস্ত করা হয়। তার যাবতীয় অপকর্মের সুষ্ঠু তদন্ত ও এব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্যে জনৈক মামুনুর রশিদ সিলেট বিভাগীয় কমিশনার বরাবরে একটি লিখিত আবেদন করেছেন। জানাযায়, মিউনিসিপ্যালিটি ভূমি অফিসে কর্মরত সহকারী কমিশনার (ভূমি) নূরুল আমিন গোলাপগঞ্জ সহকারী তহশীলদার থেকে বরখাস্তের পর জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ের স্মারক নং-০৫.১৩০.০৩২.০০.০০.৩৬৩.২০৯০-২২৯, তাং-০৪.০৬.২০১৩ইং এর সরকারী আদেশ জাল ও এর ভূল ব্যাখ্যা করে পূনরায় চাকুরীতে যোগদান করেছেন। এ ভয়াবহ জালিয়াতির ঘটনায় তাকে ফৌজদারী আদালতে সোপর্দের ব্যাপারে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের (রাজস্ব শাখা) স্মারক নং-০৫.৬০.০০০০.০০৬.২৭.০১২.১৩-১২২৬, তাং-৩১.১২.২০১৪ইং মূলে জেলা প্রশাসক বরাবরে প্রেরন করা হলে রহস্যজনক কারনে এর কোন অগ্রগতি লক্ষ্য করা যায়নি। তার বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জ আদালতে জিআর-২৪৭/২০১২ইং সহ একাধিক মামলা রয়েছে। এসব মামলায় দীর্ঘদিন থেকে জেল খাটায় সরকারী কর্মচারী (শৃংখলা ও আপীল)-বিধি-১৯৮৫ এর (বাংলাদেশ সার্ভিস রুল) ৭৩নং বিধির ২নং নোট মোতাবেক নূরুল আমিনকে চাকুরী থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। কিন্তু চরম জালিয়াতি ও প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে জনৈক মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া এন.ডি.পি (৭১২৮) এর সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার সম্পর্কিত ৪এপ্রিল ২০১৩ইং এর স্মারকের অপব্যবহার করে নিজের বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার পূর্বক কার্যক্ষেত্রে যোগদান করেন। তিনি এলাকায় সীমাহীন দূর্নীতি, অপকর্ম, ভূমি জবরদখলসহ সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িত থাকায় জেল খাটার মামলাটি তার ব্যক্তিগত মামলা। ফলে শৃংখলা ও আচরণ বিধিমালার-২৬ (গ) ধারায় বলা হয়েছে, ব্যক্তিগত কোন মামলায় জেল হাজতে নীত কিংবা কারাবদ্ধ হলে তিনি বিধি মোতাবেক সাময়িকভাবে বরখাস্ত বলিয়া বিবেচিত হবেন। কিন্তু কতিপয় অসাধু কর্মকর্তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে লালিত জালিয়াত নূরুল আমিন থেকে যাচ্ছে ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। জানাগেছে, ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন-৩ এর স্মারক নং-৩১.০০.০০০০.৩৭.০২.১৩৭.২০৯৪-২০৬, তাং-২৩.০৬.২০১৪ইং মুলে একজন ইউনিয়ন ভূমি সহঃ কর্মকর্তার সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার প্রসঙ্গে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে বলা হয়েছে, জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ের ৪জুন ২০১৩ইং এর জারীকৃত একটি প্রজ্ঞাপন সাধারণ আদেশ/পরিপত্র হিসেবে জারী হয়নি বিধায় সকলের জন্যে সরাসরি প্রযোজ্য নয়। অধিকন্তু, বস্তুনিষ্ঠ কারণ থাকলে ফৌজদারী মামলার পাশাপাশি বিভাগীয় মামলাও চলতে পারে এবং সে সূত্রেও সাময়িক বরখাস্থের সূযোগ আছে। একজন ইউনিয়ন ভূমি সহঃ কর্মকর্তার ব্যাপারে ভূমি মন্ত্রণালয় কঠোর আইনী ব্যবস্থা গ্রহণের মতামত দিলেও প্রতারক নূরুল আমিনের ক্ষেত্রে প্রশাসন নীরবতা পালন করছে। জানাগেছে, সুনামগঞ্জের লক্ষণশ্রী ইউনিয়নের হালুয়ারগাঁও গ্রামের মনফর আলীর পুত্র নূরুল আমিন নিজ বাড়ি সংলগ্ন পাকা দেয়াল নির্মাণ করে কোটি টাকার সরকারী ভূমি জবরদখল, বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িত থাকা ও সাধারন মানুষের জায়গা-সম্পদ আত্মসাতসহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত রয়েছেন। তহশীলদার থাকাকালীন ঘুষ গ্রহনের মাধ্যমে সিলেট ও সুনামগঞ্জে নামে-বেনামে একাধিক বাসা-বাড়িসহ রাতারাতি হয়েছেন কোটি কোটি টাকার মালিক। তার যাবতীয় অপকর্মের সুষ্ঠু তদন্ত ও এব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্যে সুনামগঞ্জের হালুয়ারগাঁও গ্রামের আব্দুল মতিনের পুত্র মামুনুর রশিদ সিলেট বিভাগীয় কমিশনারসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক দফতরে লিখিত আবেদন করেছেন। কিন্তু প্রশাসনের নাকের ডগায় বসে এসব অপকর্ম করলেও রহস্যজনক কারনে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছেনা। দেশে আইন থাকলেও এর যদি যথাযথ প্রয়োগ না হয় তাহলে এ আইন জনগনের কি উপকারে আসবে! আর সাধারন মানুষই বা কার কাছে চাইবে আইনের আশ্রয়?