মসজিদে জোর পুর্বক অবস্থানঃগ্রামবাসীর সাথে তাবলীগ-পুলিশের সংঘর্ষঃনিহত-১

    0
    234

    আমারসিলেট24ডটকম,১০নভেম্বরঃ নরসিংদি জেলার বেলাবো উপজেলায় এক গ্রামবাসীর সঙ্গে  কথিত তাবলীগ জামাতের লোকজন ও পুলিশের ত্রিমুখী সংঘর্ষে গুলিবর্ষণে একজন নিহত হয়েছে। এতে আহত হয়েছে অন্তত আরও ১০ জন।

    গতকাল রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার বারৈচা গ্রামে এ সংঘর্ষ হয়।

    তাৎক্ষণিকভাবে নিহতের নাম পরিচয় জানা যায়নি। আহতদের উদ্ধার করে রায়পুরা উপজেলা কমপ্লেক্স, ভৈরবের বিভিন্ন বেসরকারি ও নরসিংদী জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

    বর্তমানে ওই গ্রামে উত্তেজনা বিরাজ করায় বিশেষ পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

    পুলিশ এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে তাবলীগ জামাতের ২০/২৫ জন লোক দুপুরে বারৈচা বাজার জামে মসজিদে অবস্থান নেয়। গ্রামবাসী তাদের জানিয়ে দেন সামাজিক সিদ্ধান্তে ওই মসজিদে ছয় উছুলের ইলিয়াছি তাবলীগ জামাতের সদস্যদের অবস্থান করতে দেয়া হয়না। পরে মসজিদের ইমাম আলী আকবর (৩৮) তাদের মসজিদ ত্যাগ করার জন্য অনুরোধ করেন। কিন্তু তাবলীগ জামাতের লোকজন গ্রাম বাসীর সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে রাত সাড়ে ৭টা পর্যন্ত মসজিদে জোর পুর্বক অবস্থান করেন।

    এ পর্যায়ে ইমাম আলী আকবর তাদের আবারো মসজিদ ত্যাগ করার অনুরোধ জানালে তাবলিগিরা নরসিংদী জেলার পুলিশ সুপারকে বিষয়টি অবহিত করে এবং ইমামকে আটক করে রাখে তাবলীগ পন্থিরা। এতে উত্তেজিত হয়ে যায় এলাকাবাসী। তারা বিক্ষোভ শুরু করলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে তাবলীগ জামাতের লোকজনের ওপর গ্রামবাসী হামলা করে।

    ঘটনাস্থলে আসে বেলাবো থানা পুলিশ। এসময় ত্রিমুখী সংঘর্ষ শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিপেটা, টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এতে আহত হয় অন্তত ২০ জন।

    পরে আহতদের কে উদ্ধার করে পুলিশ ও স্থানীয়রা রায়পুরা উপজেলা কমপ্লেক্স, ভৈরবের বিভিন্ন বেসরকারি ও নরসিংদী জেলা হাসপাতালে পাঠায়।

    রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সূত্রে জানা যায়, এ হাসপাতালে রাবার বুলেটে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ৩জনকে আনা হয়েছে। তাদের চিকিৎসা চলছে।

    নরসিংদী জেলা হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ২জনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এর মধ্যে একজন মাথায় গুলিবিদ্ধ একজন মারা গেছে। তার পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি।

    বারৈচা এলাকার প্রত্যক্ষদর্শীদের কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, গ্রামের সামাজিক সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে পুলিশ সুপার তার সিদ্ধান্ত বহাল রাখতেই পুলিশ দিয়ে লাঠিপেটা ও গুলি চালিয়েছে গ্রামবাসীদের উপর।

    বেলাব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বদরুল আলম বলেন, স্থানীয়রা তাবলীগের লোকজনকে মসজিদে উঠতে না দেয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হয়েছে। কয়েকজনের শরীরে শর্টগানের বুলেট লাগায় আহত হতে পারে। বর্তমানে ওই গ্রামে উত্তেজনা বিরাজ করায় বিশেষ পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।