মার্কিন সরকারের কর্মকাণ্ড ও ওবামার কথার মধ্যে মিল নেই

    0
    229

    আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,২০ফেব্রুয়ারী: আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা দাবি করেছেন, তার সরকার ইসলাম ধর্মের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে না। তারা যুদ্ধ করছেন ইসলামের অপব্যাখ্যাকারীদের বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, ইসলাম ধর্মের সঙ্গে আইএসআইএল-কে মেলানোর অর্থ ওই গোষ্ঠীগুলোর প্রচারণাকে গুরুত্ব দেয়া। বুধবার ওয়াশিংটনে চরমপন্থাবিরোধী এক সম্মেলনে বিশ্বের ৬০টি দেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে তিনি এসব কথা বলেন।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে এর আগেও সুন্দর সুন্দর কথা বলেছেন। ২০০৯ সালে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেয়ার পর মিশরে এবং সম্প্রতি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে ইতিবাচক কথা বলেছেন তিনি।  একইসঙ্গে তিনি মুসলমানদের প্রতি বন্ধুত্বের হাতও প্রসারিত করেছেন।

    কিন্তু সমস্যাটা হলো- ‌ইসলাম ধর্ম ও মুসলমানদের বিষয়ে মার্কিন সরকারের নানা কর্মকাণ্ড এবং ওবামার মুখের কথার মধ্যে কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যায় না। ওবামা ক্ষমতায় আসার আগে থেকেই ইসলাম বিদ্বেষী নীতি অনুসরণ করে আসছে আমেরিকা।

    ১৯৯০’র দশকে সোভিয়েত ইউনিয়ন তথা কমিউনিজমের পতনের পর থেকে ইসলাম ধর্মের বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু করে আমেরিকা। ইসলাম ধর্মের ভাবমর্যাদা নষ্ট করতে আমেরিকার সহযোগিতায় গঠিত হয় আল কায়েদা ও তালেবানের মতো কিছু উগ্র গোষ্ঠী। এসব উগ্র গোষ্ঠীর নৃশংসতাকে অজুহাত করেই এখন বিশ্বের সব মুসলমানদের ওপর নানাভাবে আঘাত হানছে আমেরিকা ও তার মিত্র দেশগুলো।

    এসব সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে দমনের নামে পাশ্চাত্যের দেশগুলো গোটা বিশ্বের মুসলমানদের জীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। এ সময়ের মধ্যে তারা আফগানিস্তান, ইরাক, পাকিস্তান, সিরিয়া, ইয়েমেন, সোমালিয়া ও লিবিয়ায় সামরিক হামলা চালিয়েছে। এতে নিহত হয়েছে লাখ লাখ মুসলমান।

    ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরে আমেরিকার টুইন টাওয়ার ধ্বংসের ঘটনাকে অজুহাত করেও পাশ্চাত্য ইসলাম-বিদ্বেষ ও ইসলাম-আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে। সর্বশেষ সিরিয়ার সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী সরকারের পতন ঘটাতে যুগের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর আরেক গোষ্ঠীর জন্ম দিয়েছে আমেরিকা। আইএসআইএল নামের এ গোষ্ঠীটি নিজেদেরকে খাঁটি ইসলাম ধর্মের অনুসারী বলে দাবি করছে।

    কিন্তু বাস্তবতা হলো, এ গোষ্ঠীটিই ইসলাম ধর্ম ও এর অনুসারীদের জন্য সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে চলেছে। আইএসআইএল ইসলাম ধর্মের নাম ব্যবহার করে এমন সব কাজ করছে যেগুলোর সঙ্গে ইসলামের কোনো ধরনের সম্পর্ক নেই। আইএসআইএল নামের বিষধর সাপটি এখন মাঝেমধ্যে পাশ্চাত্যের স্বার্থেও আঘাত হানছে যেমনটি পোষা বিষধর সাপের ছোবলেও অনেক সময় লালন-পালনকারী সাপুড়ের মৃত্যু ঘটে।

    আমেরিকাসহ পাশ্চাত্যের সরকারগুলোর ইসলাম বিদ্বেষী আচরণের কারণে এখন গোটা বিশ্বেই চরমপন্থা বা উগ্রপন্থার দ্রুত বিস্তার ঘটছে। এর ফলে ইসলাম ও খ্রিস্টান- উভয় ধর্মের অনুসারীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

    এ অবস্থায় গোটা বিশ্বকে উগ্রবাদের কবল থেকে মুক্ত করতে লোক-দেখানো বক্তৃতা-বিবৃতির চেয়ে কার্যকর ও আন্তরিক পদক্ষেপ জরুরি। অর্থাৎ মুসলমনাদের ওপর পাশ্চাত্য যেসব জুলুম করছে, তার ইতি ঘটাতে হবে। আল-আকসা মসজিদের ওপর আধিপত্যের অবসান ঘটাতে হবে, পাশ্চাত্যের সংস্কৃতি মুসলমানদের ওপর চাপিয়ে দেয়া ও স্বৈরাচারী সরকারগুলোর প্রতি সমর্থনের নীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে এবং ইসলাম ধর্মের অবমাননা বন্ধ করতে হবে।ইরনা