মৌলভীবাজার মনু নদী শহর প্রতিরক্ষা বাঁধ ধসে পড়েছে : জনমনে বন্যা আতঙ্ক

    0
    441

    মৌলভীবাজার, ২৬ এপ্রিল : বরাদ্দের অভাবে আটকে গেছে মনু নদী মৌলভীবাজার শহর প্রতিরক্ষা বাঁধের মেরামত কাজ। প্রায় ছয় মাস আগে পৌর এলাকার বড়হাট নামক স্থানে বাঁধ ধসে পড়ে। দীর্ঘ ৬ মাস পড়েও এ বাঁধ মেরামত না হওয়ায় বর্ষা মৌসুম শুরু না হতেই এলাকাবাসীর মধ্যে বন্যা আতঙ্ক বিরাজ করছে। বাঁধ মেরামতে এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে গত বুধবার বিকেলে জেলা প্রশাসক, পানি উন্নয়ণ বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ও পৌরসভার মেয়র ধসে পড়া স্থল সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন বলে জানা গেছে।

    মৌলভীবাজার মনু নদী শহর প্রতিরক্ষা বাঁধ ধসে পড়েছে : জনমনে বন্যা আতঙ্ক
    মৌলভীবাজার মনু নদী শহর প্রতিরক্ষা বাঁধ ধসে পড়েছে : জনমনে বন্যা আতঙ্ক

    পানি উন্নয়ণ বোর্ড কর্তৃপক্ষ সূত্র জানায়, গত বছরের নভেম্বর মাসে মৌলভীবাজার পৌর এলাকার বড়হাট নামক স্থানে মনু নদী শহর প্রতিরক্ষা বাঁধের প্রায় দুইশ মিটার জুড়ে ফাটল দেখা দেয়। এর কিছু অংশ ধসে পড়ে। এ খবর পেয়ে জেলা প্রশাসন, জেলা পরিষদ প্রশাসক, পাউবো ও পৌরসভা কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিক সরেজমিন গিয়ে বাঁধের উপর দিয়ে যানবাহন চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা দেন। এরপর গত ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম দিকে বাঁধ মেরামতে বরাদ্দ প্রাপ্তি সাপেক্ষে টাকা প্রদানের শর্তে টেন্ডার আহ্বান করে পাউবো। সিলেটের মেসার্স জামিল এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান দুই কোটি টাকা ৮৫ লাখ টাকার এই কাজটি পায়। পাউবো মৌলভীবাজার ১৪ মার্চ কাজ শুরুর জন্য নোটিশ দিলে কর্তৃপক্ষের বরাদ্দ না থাকায় বাকিতে এই কাজ করতে অসম্মতি জানায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি। ফলে বিপাকে পড়ে কর্তৃপক্ষ। এরপর গত বুধবার বিকেলে জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান, পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী আজিজ মোহাম্মদ চৌধুরী, জেলা পরিষদ প্রশাসক আজিজুর রহমান, পৌর মেয়র ফয়জুল করিম ময়ুনসহ অনেকে বাঁধের ধসে পড়া অংশ পরিদর্শন করে পানি উন্নয়ণ বোর্ড কর্তৃপক্ষকে বাঁধ মেরামতে দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে সুপারিশ করা হয়। তারা আরো বলেন যদি অতিস্বত্তর এই স্থানটি মেরামত করা না হয় তাহলে ১০ টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা এবং ঢাকা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়ক সারাদেশ থেকে বিছিন্ন হয়ে যাবে। সংশ্লিষ্ট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলীর নেতৃত্বে একটি এ কাজের জন্য দ্রুত টাকা বরাদ্দ অনুমোদনের জন্য ঢাকায় গেছেন বলে জানা গেছে।
    মনু নদী শহর বন্যা প্রতিরক্ষা বাঁধের মেরামত করা না হলে মৌলভীবাজার শহরসহ সদর ও শ্রীমঙ্গল উপজেলার অন্তত ৭টি ইউনিয়নের জনগণ, ফসলী জমি ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্যা আক্রান্ত ও ভাঙ্গন কবলে পড়ার আশঙ্কায় আতঙ্কিত এলাকার সাধারণ মানুষ।
    মৌলভীবাজার পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী আজিজ মোহাম্মদ চৌধুরী জানান, স্পেশাল বরাদ্দের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে বর্ষা মৌসুমের আগে শহর প্রতিরক্ষা বাঁধের সংস্কার ও মেরামত কার্যক্রম পরিচালনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।