রবিউল নির্মমতার শিকার হয়ে হারিয়েছে দুই হাত

    0
    470

    প্রায় দেড় মাস পর শিশুসন্তান রবিউল ইসলামকে ফিরে পেয়েছেন মা নাসিমা বেগম। কিন্তু তাঁর মধ্যে আনন্দ নেই। কারণ, এর মাঝেই রবিউল নির্মমতার শিকার হয়ে হারিয়েছে দুই হাত।
    প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, অপহরণের পর সৎবাবাই রবিউলের দুই হাত কনুই পর্যন্ত কেটে ফেলেছে। শিশুটির অভিযোগও সৎবাবার বিরুদ্ধে। সে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসাধীন।
    নাসিমা বেগম বলেন, তিনি রবিউলসহ চার সন্তান নিয়ে বনানী থানা এলাকার কড়াইল বস্তিতে থাকেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় রবিউল (৮)। বিভিন্ন জায়গায় খুঁজে তাকে না পেয়ে তিনি বনানী থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। গতকাল সন্ধ্যায় বনানী থানার পুলিশ রবিউলকে হাসপাতাল থেকে বস্তিতে নিয়ে এলে তিনি ছেলের করুণ অবস্থা দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
    বনানী থানার অপারেশন কর্মকর্তা আবু বকর মিয়া বলেন, ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে কে বা কারা দুই হাত কাটা, রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় রবিউলকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করায়। তখন তার পরিচয় পাওয়া যায়নি। তাকে নিয়ে একটি জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হলে রোকসানা নামের এক নারী শিশুটির চিকিৎসা ও দেখভালের দায়িত্ব নেন। ১৬ মার্চ তিনি শিশুটিকে পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করান। রবিউলকে নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর পুলিশ গতকাল পঙ্গু হাসপাতালে যায়। সেখান থেকে সন্ধ্যায় তার দেখানো মতে পুলিশ তাকে কড়াইল বস্তিতে নিয়ে যায়। নাসিমাকে দেখিয়ে আবার রবিউলকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
    শিশুটি বলেছে, তার সৎবাবা জাহাঙ্গীরসহ কয়েকজন তাকে ধরে রেললাইনসংলগ্ন ঝোপঝাড়ে নিয়ে বঁটি দিয়ে হাত কেটে দিয়েছে। মাথা ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত করেছে।
    আবু বকর বলেন, মামলার প্রক্রিয়া চলছে। নির্মম এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের ছাড় দেওয়া হবে না।’
    নাসিমা বলেন, রবিউলের বাবার মৃত্যুর পর তাঁর সঙ্গে জাহাঙ্গীরের বিয়ে হয়। দুই বছর ধরে জাহাঙ্গীরের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ নেই। তবে জাহাঙ্গীর মাঝেমধ্যে কড়াইল বস্তিতে আসতেন। মাস দুয়েক আগে এসে হুমকি দিয়ে গেছেন। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলের এ অবস্থা যে-ই করুক না ক্যান, আমি তার বিচার চাই।’
    কনুইয়ের ওপর থেকে ব্যান্ডেজ বাঁধা শিশুটি ব্যথা-যন্ত্রণায় মাঝেমধ্যে কান্নাকাটি করছে। ব্যথা কমলে কথা বলছে, হাসছে।