রাজনৈতিক সংকট নিরসনে হাসিনা-খালেদা সংলাপের জন্য হাইকোর্টের রুল

    0
    497

    ॥ আব্দুল মজিদ ॥ hasina_khaleda

    বর্তমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসনের মধ্যে সংসদে এবং সংসদের বাইরে রাজনৈতিক সংলাপ অনুষ্ঠানের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
    একই সঙ্গে রাজনৈতিক অধিকার প্রয়োগ এবং রাজনৈতিক কার্যক্রমের নামে বোমা ও ককটেল নিক্ষেপ, যানবাহন ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগসহ সংঘটিত অন্যান্য বেআইনি কার্যক্রম বন্ধে ব্যবস্থা নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে স্বরাষ্ট্রসচিবের প্রতি রুল জারি করা হয়েছে।
    একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি মো. নিজামুল হক ও বিচারপতি জাফর আহমেদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বেঞ্চ আজ বুধবার এ রুল জারি করেন। চার সপ্তাহের মধ্যে বিবাদীদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
    ১৪ মার্চ হাইকোর্টে রিট আবেদনটি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুহাম্মদ ইউনূস আলী আকন্দ। এতে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দল, বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দল, নির্বাচন কমিশন, মন্ত্রিপরিষদের সচিব ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বিবাদী করা হয়। তবে সম্পূরক আবেদনে প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেত্রীকে বিবাদী করা হয়।
    রিটের পক্ষে আইনজীবী নাজমুল হুদা ও ইউনূস আলী আকন্দ শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এম কে রহমান। সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিত রায়।
    শুনানিতে ইউনূস আলী বলেন, দুই নেত্রীর সংলাপের সঙ্গে জনস্বার্থ জড়িত। জনস্বার্থে হাইকোর্ট অতীতে অনেক আদেশ দিয়েছেন। এ ব্যাপারে আদালত আদেশ দিতে পারেন।
    নাজমুল হুদা পত্রিকায় প্রকাশিত সহিংসতার খবর তুলে ধরে আদালতের উদ্দেশে বলেন, ‘এ থেকে উদ্ধার পেতে হলে আপনাদের এগিয়ে আসতে হবে। আপনাদের হাত অনেক লম্বা। আপনারা হস্তক্ষেপ করতে পারেন।’
    আদালত বলেন, ‘প্রশ্ন হলো, আমরা তাঁদের বসার জন্য বাধ্য করতে পারি কি না।’ জবাবে সংবিধানের ৩১ ও ১০২ অনুচ্ছেদ তুলে ধরে নাজমুল হুদা বলেন, ‘সাংবিধানিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হলে আদালতের তা দেখার অধিকার আছে। আদালত বিষয়টি বিচারিক নোটিশে নিতে পারেন।’
    তবে এই রিট গ্রহণযোগ্য নয়, উল্লেখ করে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এম কে রহমান বলেন, ‘রিটে ১৪ দল ও ১৮ দলকে বিবাদী করা হয়েছে। দুই জোটের নিবন্ধন নেই। এখানে জোট কোনো আইনি কর্তৃপক্ষ নয়। তাদের বিবাদী করা যায় না। নির্বাচন কমিশন ইতিপূর্বে জোটভুক্ত নিবন্ধিত দলগুলোকে সংলাপের জন্য ডেকেছিল। বিএনপিসহ অনেকেই তাতে সাড়া দেয়নি। সংলাপ একটি রাজনৈতিক বিষয়। অবাস্তবায়নযোগ্য বিষয়ে আদালত কোনো আদেশ দিতে পারেন না।’
    শুনানি শেষে আদালত বলেন, ‘দেশে বিরাজমান পরিস্থিতি বিচারিক নোটিশে নিয়ে ও এর সঙ্গে জনগুরুত্ব বিবেচনায় আমরা রুল জারি করছি।’