রাষ্ট্রপতিকে গার্ড অব অনার, শ্রদ্ধা জানালেন সর্বস্তরের মানুষ

    0
    443

    সদ্য প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানকে আজ বৃহস্পতিবার বঙ্গভবনে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়েছে। এরপর অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, ডেপুটি স্পিকারের পক্ষে চিফ হুইপ, তিন বাহিনীর প্রধান ও মুক্তিযোদ্ধা কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের চেয়ারম্যান শ্রদ্ধা জানান। এখন জিল্লুর রহমানের মরদেহ বঙ্গভবনের দরবার হলে রাখা হয়েছে। সেখানে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ তাঁর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান।
    বেলা দুইটা ১০ মিনিটের দিকে বঙ্গভবনে আসেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এরপর তিনি ও তাঁর দলের কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতা রাষ্ট্রপতির কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। রাষ্ট্রপতির পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন খালেদা জিয়া। পরে তিনি সেখানে রাখা শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেন। বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি কমরেড রাশেদ খান মেনন এমপি ও সাধারণ সম্পাদক কমরেড আনিসুর রহমান মল্লিক তাঁর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান।
    আজকের আনুষ্ঠানিকতা শেষে জিল্লুর রহমানের মরদেহ সেনানিবাসের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হবে। কাল শুক্রবার সকাল নয়টায় ভৈরবের হাজী আসমত আলী কলেজ মাঠে জিল্লুর রহমানের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। বাদ জুমা রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে তাঁর দ্বিতীয় ও শেষ জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
    আজ দুপুর ১২টার পর জিল্লুর রহমানের মরদেহ বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইট হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এরপর জাতীয় পতাকায় মোড়ানো তাঁর কফিনটি গ্রহণ করে সামরিক বাহিনী।
    একই বিমানে করে দেশে ফেরেন জিল্লুর রহমানের ছেলে সাংসদ নাজমুল হাসান ও পরিবারের অন্য সদস্যরা। বিমান থেকে নামার পর সদ্য প্রয়াত রাষ্ট্রপতির ছেলে, দুই মেয়ে তানিয়া রহমান ও তনিমা রহমান কান্নায় ভেঙে পড়েন। সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, আমির হোসেন আমুসহ আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারা তাঁদের সান্ত্বনা দেন।
    এরপর আটজন সেনা কর্মকর্তা লাল গালিচার ওপর দিয়ে কফিনটি বিমানবন্দরের অস্থায়ী শোক বেদিতে রাখেন। সেখানে প্রথমে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শ্রদ্ধা জানান। এরপর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনা ও অন্য নেতারা শ্রদ্ধা জানান।
    বিমানবন্দরে আরও উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিপরিষদ সদস্যরা, তিন বাহিনীর প্রধান ও শেখ রেহানা। এরপর সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল রাষ্ট্রপতির প্রতি সম্মান জানায়। সেখান থেকে তাঁর মরদেহ মোটর শোভাযাত্রাসহকারে একটা পাঁচ মিনিটে বঙ্গবভনে নিয়ে আসা হয়।
    বিমানবন্দর থেকে বঙ্গভবনে আসার পথে রাস্তার দুই পাশে সাধারণ মানুষ দাঁড়িয়ে রাষ্ট্রপতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
    গতকাল বুধবার বাংলাদেশ সময় বিকেল চারটা ৪৭ মিনিটে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন জিল্লুর রহমান। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। রাষ্ট্রপতির মৃত্যুতে আজ থেকে তিন দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া আজ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। Hasina in banani