রুবেলা ভাইরাসে হৃদযন্ত্রে ছিদ্রসহ শিশু অন্ধ হতে পারেঃনাসিম

    0
    241

    আমারসিলেট24ডটকম,২২জানুয়ারীঃ পর্যালোচনা ছাড়া নতুন কোনো মেডিক্যাল কলেজের অনুমোদন দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। আজ বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।
    টিকাদান ক্যাম্পেইন প্রসঙ্গে নাসিম বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে বৃহত্তম টিকাদান কর্মসূচির আয়োজন হতে যাচ্ছে ২৫ জানুয়ারি থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এ কর্মসূচির আওতায় ৯ মাস থেকে ১৫ বছর বয়স পর্যন্ত দেশের পাঁচ কোটি ২০ লাখ শিশুকে হাম ও রুবেলা টিকা দেওয়া হবে। এর আগে এতো বেশি সংখ্যক শিশুকে একযোগে একটি কর্মসূচির আওতায় টিকা দেওয়া হয়নি। এ ছাড়া এবারই প্রথম ১৫ বছর বয়স পর্যন্ত ছেলে ও মেয়ে শিশু টিকা পাবে।
    হাম ও রুবেলা কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকারের খরচ হচ্ছে ৫১২ কোটি ৭০ লাখ টাকা। তিনি বলেন, ২০০৬ সালে ক্যাচআপ ক্যাম্পেইনের আওতায় ৯ মাস থেকে ১০ বছর বয়স পর্যন্ত সাড়ে তিন কোটি শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হয়। ২০১০ সালে টিকা দেওয়া হয়েছিল এক কোটি ৮০ লাখ শিশুকে।
    নতুন মেডিক্যাল কলেজের অনুমোদন বিষয়ে মন্ত্রী জানান, প্রশাসনিকভাবে ইতিপূর্বে নতুন ১২টি মেডিক্যাল কলেজের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এগুলো যথাযথ প্রক্রিয়ায় অনুমোদন হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এগুলোর ব্যাপারে পর্যালোচনার সুযোগ রয়েছে। এগুলো প্রাথমিক অনুমোদন হওয়ায় পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তবে মেডিক্যাল কলেজগুলোর সংখ্যা জানাননি।
    মন্ত্রী আরো বলেন, হাম ও রুবেলা ভাইরাসজনিত রোগ। যেকোনো বয়সে হাম হতে পারে। তবে শিশুদের মধ্যে এর প্রকোপ, জটিলতা ও মৃত্যু বেশি।জটিলতার মধ্যে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, অপুষ্টি, এনকেফেলাটিস, অন্ধত্ব, বধিরতা অন্যতম। অন্যদিকে গর্ভধারণের তিন মাসের সময় রুবেলা ভাইরাস আক্রমণ করলে ৯০ ভাগ ক্ষেত্রে মা থেকে গর্ভে শিশু আক্রান্ত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে গর্ভপাত এমনকি গর্ভের শিশুর মৃত্যুও হতে পারে। শিশুর হৃদযন্ত্রে ছিদ্র হতে পারে, শিশু অন্ধও হতে পারে। বাংলাদেশে প্রতি ১০ লাখে দুই হাজার ৯৭৯ জন রুবেলায় আক্রান্ত হয়। রুবেলা নিয়ে কোনো শিশু যাতে জন্ম না নেয়, এজন্য গত বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে সরকার বিনা মূল্যে রুবেলা টিকা দিতে শুরু করে।
    সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ সচিব এম এম নিয়াজ উদ্দিন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. খন্দকার মো. সিফায়েত উল্লাহ, পরিবার কল্যাণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক গণেশ চন্দ্র সরকারসহ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ, লায়ন্স ইন্টারন্যাশনাল এবং রোটারী ইন্টার ন্যাশনাল এর প্রতিনিধি ছাড়াও মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।