শক্তিশালী প্রতিপক্ষ থাইল্যান্ডকে পরাজিত করল বাংলাদেশ

    0
    210

    আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৬ফেব্রুয়ারী দীর্ঘ ১৬ বছর পর শক্তিশালী প্রতিপক্ষ থাইল্যান্ডকে পরাজিত করে স্বপ্নের ফাইনাল নিশ্চিত করলো স্বাগতিক বাংলাদেশ। একই সাথে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি রোববার ফাইনালে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে লড়াইয়ের ম্যাচটিও নিশ্চিত হলো বাংলাদেশের।শুক্রবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটির প্রথমার্ধে ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে অর্থাৎ ৪০ মিনিটে মামুনুলের কর্নার কিক থেকে ৫ নম্বর জার্সি পরিহিত খেলোয়ার নাসির চৌধুরি ১টি গোল করেন। ফলে ১-০ গোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। এর আগে শুক্রবার বিকেল ৫টায় বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপ আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্ণামেন্টের সেমিফাইনালে ‘বি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন থাইল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামে ‘এ’ গ্রুপের রানার্স আপ বাংলাদেশ।
    অবশ্য ম্যাচের প্রথম ১৫ মিনিটে অপরিকল্পিত ভাবে ফুটবল খেলতে থাকে দুই দল। ম্যাচের ১৯ মিনিটে সোহেল রানার ডানদিকে থেকে একটি ক্রস হেমন্ত ভিনসেন্ট নিয়ন্ত্রণে নিতে না পারলে গোলের সুযোগ নষ্ট হয় বাংলাদেশের। খেলার ২৩ মিনিটে আবারো থাইল্যান্ডের শিবিরে আক্রমণ চালায় লাল-সবুজরা। এবারো সুযোগ নষ্ট করেন সোহেল রানা। পরের মিনিটে লম্বা থ্রো থেকে এমিলির একটি হেড রুখে দেন থাইল্যান্ডের গোল রক্ষক। পরে ম্যাচের ৪০ মিনিটে প্রথম গোলের দেখা পায় বাংলাদেশ। মামুনুলের কর্নার কিক থেকে নাসির চৌধুরি হেড করে গোল করেন। ফলে গোল শূন্য হয়ে বিরতিতে যায় থাইল্যান্ড।
    পরে খেলায় ফিরে গোল শোধ করতে মরিয়া হয়ে ওঠে থাইল্যান্ড। ২ মিনিট পরে কাউন্টার এটাকে বাংলাদেশের গোলবারে শট নেয় থাইল্যান্ডের ফুটবলার। তবে গোলবারের পাশ দিয়ে বল চলে যায় বাহিরে। এদিকে খেলার ৫০ মিনিটের মাথায় মামুনুল আর সোহেল রানার একটি প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। খেলার ৬০ মিনিটে প্রতিপক্ষের আরেকটি হেড প্রতিহত করেন বাংলাদেশের গোলরক্ষক শহীদুল আলম সোহেল। ৬৩ মিনিটের মাথায় আবারো অতর্কিত একটি শট রুখে দেন সোহেল। একই সময় ক্রসবারে লেগে থাইল্যান্ডের একটি বল ফিরে আসে।
    প্রসঙ্গত এ পর্যন্ত বাংলাদেশ-থাইল্যান্ড মুখোমুখি হয়েছে ১৪ ম্যাচে। জয়ের পাল্লাটা ঝুঁকে আছে থাইদের দিকেই। ১৪ ম্যাচের ৯টিতেই জয় থাইল্যান্ডের। বাংলাদেশ জিতেছে মাত্র ২ ম্যাচে। বাকি ৩ ম্যাচ ড্র হয়। ১১ গোলের বিপরীতে ২৯ গোল হজম করেছে বাংলাদেশ। সর্বশেষ দু’দল মুখোমুখি হয়েছে ২০১২ সালে ব্যাংককে অনুষ্ঠিত এক প্রীতি ম্যাচে। সে ম্যাচের ফল মোটেও সুখকর নয় লাল-সবুজ জার্সিধারীদের। থাইদের কাছে ০-৫ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছিল বাংলাদেশ।
    সেমিফাইনালের এ ম্যাচে দর্শকের ঢল নামে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে। মাঠে বল গড়াবার আগেই পরিপূর্ন হয়ে যায় ২৬ হাজার দর্শক ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন গ্যালারি। নকআউট পর্বের এ ম্যাচটিকে ঘিরে টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছে স্বাগতিক বাংলাদেশ শিবিরের দর্শক-সমর্থক থেকে শুরু করে কর্মকর্তা ও খেলোয়াড়দের মধ্যে। ইতোমধ্যে সেমিফাইনালে খেলার লক্ষ্য পুর্ণ করলেও দীর্ঘদিন পর আয়োজিত এ টুর্ণামেন্টের শিরোপা জয়ের মাধ্যমে দেশের ফুটবল অঙ্গনের সোনালী অতীত ফিরিয়ে আনতে চায় স্বাগতিক খেলোয়াড়রা। এজন্য দেশবাসীকে নতুন করে টুর্ণামেন্টে ফাইনালে খেলার প্রতিশ্রুত দিয়েছেন স্বাগতিক অধিনায়ক মামুনুল। এদিকে থাই অধিনায়ক পার্মপাক পাকর্ন বলেন, কালকের ম্যাচটি আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ওই ম্যাচে আমরা জয় পেতে চাই। এজন্য আমরা সামর্থ্যরে শতভাগ উজাড় করে দিয়ে খেলব। বৃহস্পতিবার স্থানীয় একটি হোটেলে ম্যাচ পুর্ব সংবাদ সম্মেলনে তারা এসব কথা জানান তারা।