শিক্ষকের নির্যাতনে ছাত্রের আত্মহত্যাঃময়না তদন্ত ছাড়াই দাপন

    0
    222

    আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,১২ফেব্রুয়ারী,এম ওসমান: বেনাপোল পোর্ট থানার বাহাদুরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র সোলাইমান (১২) নামে এক স্কুল ছাত্র শিক্ষকদের শারিরিক ও মানসিক নির্যাতনের কারণে বিষ ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহত্যা করেছে। সে বাহাদুরপুর ইউনিয়নের শাখারীপোতা গ্রামের শাহাবুদ্দিনের ছেলে।

    স্থানীয়রা জানান, বাহাদুরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র সোলাইমান আবেগের বশবতী হয়ে একই শ্রেণীর এক ছাত্রীকে প্রেমের প্রস্তাব দেয়। উক্ত স্কুল ছাত্রী বিয়টি তার পরিবারের সদস্যদের নিকট বললে তারা মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে ছেলেটিকে মারধর করার জন্য স্কুলে আসে। এ সময় অত্র স্কুলের প্রধাণ শিক্ষক এসএম গোলাম রসুল ছেলেটিকে তার রুমে ডাকেন। ছাত্রটি শ্রেণী কক্ষে আসার সাথেসাথে সাদেক নামের এক শিক্ষক তাকে বেত্রাঘাত শুরু করে। পর্যায়ক্রমে শিক্ষক আমিনূর, ইন্দ্রজিৎ, আব্দুল্লাহ ও মনোরমা তাকে মারধর করেন এবং বাজে বাজে কথা বলে হুসিয়ারি দেন। স্কুল ছুটির পরে ছাত্র সোলাইমান বাড়ীতে গিয়ে অপমানের জ্বালা সহ্য করতে না পেরে গ্যাস ট্যাবলেট (বিষ জাতীয় কীটনাশক ঔষধ) খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে।

    পরে ছেলেটির আত্মীয় স্বজনসহ স্থানীয়রা তাকে প্রথমে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে যশোরে নেওয়ার পরামর্শ দেয়। তখন তাকে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বুধবার সকালে তার মৃত্যু হয়। সন্ধ্যায় তার লাশ নিজ এলাকায় দাফন করা হয়েছে। এ সময় তার শরীরে আঘাতের চিহ্ণ ছিল।

    স্থানীয়রা আরো জানান, বাহাদুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের চরম নির্মমতায় এ স্কুল ছাত্রের প্রাণ গেলেও তাদের হৃদয়ে সামান্যতমও ব্যাথা অনুভূত হয়নি। ছাত্রের লাশতো দেখেইনি এবং তার জানাযাতেই যায়নি উক্ত স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা। বরং স্থানীয় প্রশাসনসহ সকল মাতবরদের সাথে দেনদরবার করে ময়না তদন্ত ছাড়াই লাশটির দাফন কাজ সম্পন্ন করেছেন।

    এ বিষয়ে বাহাদুরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধাণ শিক্ষক গোলাম রসুল বলেন, প্রেম ঘটিত বিষয়টি জানার পর ছাত্র সোলাইমানকে ডাকা হয়েছিল। তবে তাকে কোন প্রকার মারধোর করা হয়নি। তার বাবা-মাকে স্কুলে ডেকে আনার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু সে যে আত্মহত্যার মতো এমন দূর্ঘটনা ঘটাবে এটা খুবই দুঃখ জনক।

    বাহাদুরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানূর রহমান বলেন, লোকমুখে ঘটনার বিবরণ শুনেছি। ছেলেটির লাশ বুধবার সন্ধ্যায় তার নিজ এলাকায় দাফন সম্পন্ন হয়েছে।