শেষ টেস্টে ১২৮ রানের লিড পেল বাংলাদেশ

    0
    144

    আমারসিলেট24ডটকম,১৪নভেম্বরঃ জোবায়ের হোসেন ও শফিউলের বোলিং আক্রমণে তৃতীয় ও শেষ টেস্টে ১২৮ রানের লিড পেল বাংলাদেশের টাইগাররা। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের করা ৫০৩ রানের জবাবে জিম্বাবুয়ে গুটিয়ে যায় ৩৭৪ রানে।

    জিম্বাবুয়ের হয়ে চিগম্বুরা সর্বোচ্চ ৮৮ রান করেন। এছাড়া সিকান্দার রাজা ৮২, মাসাকাদজা ৮১ ও চাকাভা করেন ৬৫ রান।

    বাংলাদেশের পক্ষে জোবায়ের ৫টি ও শফিউল নেন দুটি উইকেট। এছাড়া সাকিব, তাইজুল ও রুবেল একটি করে উইকেট নেন।

    ৩২৩ রান পঞ্চম উইকেটের পতনের পর মোতাম্বামিকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন চিগম্বুরা। এই জুটি ভয়ঙ্কর হয়ে উঠার চেষ্টা করেন। তবে সাকিব মোতাম্বামিকে ফিরিয়ে জিম্বাবুয়েকে বড় ধরনের ধাক্কা দেন। সেখান থেকে আর মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি সফরকারী দলটি।

    সাকিব-তাইজুল ও জোবায়েরের ত্রি-মুখী আক্রমণে ৩৫৬ থেকে ৩৭৪- এই ১৮ রানের মধ্যে শেষ চার উইকেট হারিয়ে জিম্বাবুয়ে ৩৭৪ রানে গুটিয়ে যায়। একে একে ফিরে যান মোতাম্বামি (২০),শিঙ্গি মাসাকাদজাকে (০) ও সেঞ্চুরির পথে থাকা চিগম্বুরা (৮৮) ও নাতশাই মুশাঙ্গুয়ে (৯)।

    দলীয় ৩৫৬ রানের মাথায় মোতাম্বামিকে (২০) লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলে সাগরিকার পাড়ে ঢেউ তুলেন সাকিব। পরের ওভারেই শিঙ্গি মাসাকাদজাকে (০) আউট করে বাংলাদেশকে বড় লিডের স্বপ্ন দেখান তাইজুল। একটু পর সফরকারী বড় ধাক্কাটা দেন জোবায়ের। জোবায়েরকে তুলে মারতে গিয়ে ইমরুলকে কট দিয়ে সাজঘরে ফেরেন চিগম্বুরা। তবে আউট হওয়ার আগে ১৩০ বলে ৮৮ রানের ইনিংস খেলে বাংলাদেশকে যথেষ্ট ভুগিয়েছেন এই মারমুখী ব্যাটসম্যান।

    এরপর দলীয় ৩৭৪ রানের মাথায় জোবায়েরকে তুলে মারতে গিয়ে নাতশাই মুশাঙ্গুয়ে কট আউট হন।

    লাঞ্চের আগে ২০৯ রানে পঞ্চম উইকেটের পতনের পর চিগম্বুরা ও চাকাভার ব্যাটিং দৃঢ়তায় ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করছে সফরকারী জিম্বাবেুয়ে। ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে এই দুজন প্রতিরোধ গড়ে তুললে ম্যাচে ফেরে সফরকারী দলটি।

    ৯০ রানের জুটি গড়ার পথে চিগম্বুরা ও চাকাভা উভয়েই হাফ সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে মুশফিকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে দিন। এই জুটি ১১৩ রান তোলার পর ভাঙন ধরান শফিউল ইসলাম। শফিউলের বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ে সাজঘরে ফেরেন চাকাবা। আউট হওয়ার আগে ১৩৬ বলে ৬৫ রান করেন তিনি।

    এর আগে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে হ্যামিল্টন মাসাকাদজা ও সিকান্দার রাজা বেশ ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছিলেন। দুজন ১৬০ রানের জুটি গড়ে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ থেকে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে যাচ্ছিলেন। সেখান থেকে পরপর ৩ বার আঘাতে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরান শফিউল ইসলাম ও জোবায়ের হোসেন।

    দলীয় ১৬৯ থেকে ১৭২- এই ৩ রানের মধ্যে মাসাকাদজা, টেলর ও সিকান্দারকে সাজঘরে ফেরান বাংলাদেশের বোলাররা। মাসাকাদজাকে ফেরান শফিউল। আর টেলর ও সিকান্দারকে ফেরান জোবায়ের।

    মাসাকাদজা ১৫১ বলে ৮১ রান করে শফিউলের বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ে সাজঘরে ফেরেন। আউট হওয়ার আগে সিকান্দারকে নিয়ে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে দেশের পক্ষে রেকর্ড ১৬৭ রানের জুটি গড়েন। এর আগে ক্যাম্পবেল ও ডাকার ১৯৯৩ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ১৩৫ রান তোলেন।

    এরপর জিম্বাবুয়ে শিবিরে একই ওভারে জোড়া আঘাত হানেন জোবায়ের। টেলরের (১) সঙ্গে ফেরান ক্রমশ ভয়ঙ্কর হয়ে উঠা সিকান্দারকে। আউট হওয়ার আগে সিকান্দার ১১১ বলে ৮২ রান সংগ্রহ করেন।

    বৃহস্পতিবার টেস্টের দ্বিতীয় দিনের চা বিরতির পর ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই হোঁচট খায় জিম্বাবুয়ে। দ্বিতীয় ওভারের শেষ বলে রুবেল হোসেনের করা বলে উইকেটকিপার মুশফিকের হাতে কট দিয়ে ফেরেন ব্রায়ান চারি (০)।

    তবে এরপরের গল্পটুকু মাসাকাদজা ও সিকান্দার রাজার। দ্বিতীয় উইকেট জুটি এই দুজন অবিচ্ছিন্ন ১০৪ রানের জুটি গড়ে দলকে স্বস্তিজনক অবস্থানে রেখেছেন। তবে সেখান থেকে বাংলাদেশের বোলাররা আবার স্বাগতিকদের ম্যাচে ফেরান। চিগম্বুরা ও চাকাভা জুটি প্রতিরোধ গড়ে তুলতে ফের ম্যাচে ফেরে সফরকারীরা। তবে চাকাভাকে ফিরিয়ে সাগরিকার পাড়ে আবার উত্তেজনা ফিরিয়ে আনেন শফিউল।

    শেষদিকে চিগম্বুরা বাংলাদেশকে যথেষ্ট ভুগালেও দিনের শেষ ঘণ্টায় জোবায়ের-সাকিব আর তাইজুলের ত্রি-মুখী আক্রমণে ১২৮ রান দূরে থাকতেই গুটিয়ে যায় সফরকারীরা।

    এর আগে ইমরুল ও তামিমের জোড়া সেঞ্চুরি ও সাকিব আল হাসানের হাফ সেঞ্চুরির ওপর ভর করে প্রথম ইনিংসে ৫০৩ রানের পাহাড় গড়েছে বাংলাদেশ।

    বাংলাদেশের হয়ে ইমরুল ১৩০ ও তামিম করেন ১০৯ রান। এছাড়া সাকিব ৭১ ও মুমিনুল করেন ৪৮ রান।

    বাংলাদেশের ৫শ’ রানের পাহাড়ে উঠার পেছনে অবদান রয়েছে রুবেল হোসেন ও জোবায়ের হোসেনেরও। এই দুজন শেষ উইকেট জুটিতে ৫১ রান করেন, যা বাংলাদেশের হয়ে রেকর্ড। রুবেল ৪৫ রান করেন এবং জোবায়ের করেন ৫ রান।

    প্রথম দিনের দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান মুমিনুল হক (৪৬) ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (৫) বৃহস্পতিবার ব্যাটিংয়ে নেমেছিলেন। কিন্তু প্রথম ঘণ্টায় তাদের ফিরে যেতে হয়েছে। মুমিনুল দ্বিতীয় দিনে আরো দুই রান যোগ করেছেন।

    ৪৮ রানে পানিয়াঙ্গার বলে থার্ড স্লিপে টেলরকে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেয়ার আগে ৪৮ রান করেছেন। মুমিনুল আউট হওয়ার পর রিয়াদও ব্যক্তিগত ১৬ রান করে মাসাকাদজার বলে এলবিডব্লিউর শিকার হয়ে ফিরেছেন। মুশফিক ১৫ রান করে মাসাকাদজার শিকারে পরিণত হয়েছেন। আউট হওয়ার আগে ১৫ রান করেছেন মুশফিক।

    এরপর সাকিবের ব্যাটে টাইগার শিবিরে স্বস্তি ফিরে। সাকিব করেন ১১০ বলে ৭১ রান। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন শুভাগত হোম (৩৫)। সাকিবের বিদায়ের পর দ্রুত ফিরে যান তাইজুল (১)। অল্প সময়ের মধ্যে বিদায় নেন শফিউল (১০) ও ও শুভাগত (৩৫)।

    ৪৫২ রানে নবম উইকেট হারানো বাংলাদেশ শেষ জুটিতে রুবেল-জোবায়েরের বীরত্বে ৫০০ রান স্পর্শ করে। রুবেলের ৪৪ বলে ৪৫ রানের ‘ক্যামিও’ ইনিংসে ২টি চার ও চারটি ছক্কার মার রয়েছে।

    জিম্বাবুয়ের হয়ে সিকান্দার রাজা ১২৩ রানের বিনিময়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট লাভ করেন। তিনাশে পানিয়াঙ্গারা, ‘দুই মাসাকাদজা’ শিঙ্গি ও হ্যামিল্টন-প্রত্যেকেই দুটি করে উইকেট লাভ করেন।

    প্রথম দুই টেস্ট জিতে তিন ম্যাচ সিরিজে আপাতত ২-০ তে এগিয়ে রয়েছে মুশফিকের দল।  সুত্রঃ ইন্টারনেট।