শ্রমিকদের ন্যূনতম মূল মজুরি ৮ হাজারের দাবি

    0
    263

    আমার সিলেট  24 ডটকম,১৭নভেম্বরঃ গার্মেন্টস শ্রমিকদের ৮ হাজার টাকা ন্যূনতম মূল মজুরির দাবিতে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির উদ্যোগে ১৬ নভেম্বর বিকাল ৫ টার সময় সংগঠনের চৌমুহনাস্থ কার্যালয়ে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ জেলা কমিটির অন্যতম নেতা ও রিকশা শ্রমিক সংঘের সভাপতি সোহেল আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন কৃষক সংগ্রাম সমিতি মৌলভীবাজার জেলা সভাপতি কবি শহীদ সাগ্নিক, ধ্রুবতারা সাংস্কৃতিক সংসদ জেলা সাধারণ সম্পাদক অমলেশ শর্ম্মা, ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রজত বিশ্বাস ও সাংগঠনিক সম্পাদক এখলাছুর রহমান সোহেল, হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের জেলা সভাপতি মোঃ মোস্তফা কামাল, সহ-সভাপতি মোঃ আজিজ মিয়া, রিক্সা শ্রমিক সংঘের নেতা শাহজাহান মিয়া, হোটেল শ্রমিকনেতা সুমন বিশ্বাস প্রমুখ।

    সভায় বক্তারা গার্মেন্টস সেক্টরে সরকার ঘোষিত ৫৩০০ টাকা ন্যূনতম মজুরি প্রত্যাখান করে বলেন গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানিতে বিশ্বে দ্বিতীয় স্থান অধিকারী বাংলাদেশের শ্রমিকরা মজুরি পান যেখানে ৫০ ডলারের কম সেখানে শীর্ষ রপ্তানিকারী দেশ চীনের শ্রমিকরা মজুরি পান ৫০০ ডলার। শুধু তাই নয় বাংলাদেশের শ্রমিকরা বিশ্বের সবচেয়ে কম মজুরি পেলেও মালিকদের মুনাফার হার বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্যায়ে; মুনাফার হার চীনে ৩.২ শতাংশ, নেপালে ৪.৪ শতাংশ, ভিয়েতনামে ৬.৫ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়াতে ১০ শতাংশ, ভারতে ১১.৮ শতাংশ হলেও বাংলাদেশে মালিকদের মুনাফার হার ৪৩.১০ শতাংশ।

    মালিকদের নির্মম শোষণে নিষ্পেষিত শ্রমিকরা কখনও অগ্নি দগ্ধ, কখনও পদপিষ্ঠ, কখনও ভবন ধ্বসে মৃত্যুবরণ করে গার্মেন্টস শিল্পকে প্রতিষ্ঠিত করে মালিকদের মুনাফার পাহাড় সৃষ্টির পাশাপাশি বৈদশিক মুদ্রা অর্জন করে জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা রাখলেও এই শিপ্লের শ্রমিকদের বাঁচার মত মজুরি, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার থেকে সরকার ও মালিকরা বঞ্চিত করে চলেছেন। শ্রমিকদের তীব্র আন্দোলনের মুখে সরকার শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির লক্ষ্যে মজুরি বোর্ড গঠন এবং  ১ মে থেকে নতুন মজুরি কার্যকরের ঘোষণা দিলেও মালিকদের স্বার্থরক্ষাকারী সরকার এখন নতুন মজুরি ১ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর করার কথা বলছে। বক্তারা অবিলম্বে শ্রমিকদের বাঁচার মত ন্যূনতম মূল মজুরি ৮ হাজার টাকা ঘোষণার জোর দাবি জানান। অন্যথায় শ্রমিকরা তাদের বেঁচে থাকার তাগিদে দূর্বার শ্রমিক আন্দোলন গড়ে তুলে দাবি আদায় করবে।