শ্রীমঙ্গলে কালী মন্দিরের দেয়াল ভেঙ্গে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা!থানায় অভিযোগ

0
37
শ্রীমঙ্গলে কালী মন্দিরের দেয়াল ভেঙ্গে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা!থানায় অভিযোগ

আমার সিলেট রিপোর্ট: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার শহরতলির ৩ নং সদর ইউনিয়নের সবুজবাগ আবাসিক এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের সার্বজনীন শ্মশানঘাট এর কালী মন্দিরের বাউন্ডারি দেয়াল রাতের আঁধারে ভেঙ্গে ফেলার অভিযোগ উঠেছে এবং এব্যাপারে শ্রীমঙ্গল থানায় একটি অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।
অভিযোগ ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়,গত ৯ জুন ২০২৪ ইং তারিখে রাত ৮ টা হতে ১০ জুন ২০২৪ ইং তারিখ সকাল ৭টার কোন এক সময় সবুজবাগ এলাকার সবুজবাগ সার্বজনীন শশ্মান ঘাট কালী মন্দিরের পশ্চিম পাশের বাউন্ডারি দেওয়ালটি কে বা কারা ভেঙ্গে ফেলেছে। এতে মন্দিরের প্রায় ৭০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন মন্দির কর্তৃপক্ষ।
এব্যাপারে পরিমল দাস (৫৮), পিতা- মৃত রাজেন্দ্র চন্দ্র দাস শ্রীমঙ্গল থানায় একটি অভিযোগে জানান, তিনি সবুজবাগ সার্বজনীন শশ্মান ঘাট কালী মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক। গত ৯ জুন রাত প্রায় ৮ টায় মন্দিরের সেবায়েত মন্দির বন্ধ করিয়া বাড়ীতে চলে যায়। পরের দিন সকাল ৭ টার দিকে মন্দিরের এলাকা থেকে একজন আমাকে ফোন করিয়া জানায় মন্দিরের পশ্চিম পাশের দেওয়ালটি কে বা কারা ভেঙ্গে ফেলেছে।তাৎক্ষনিক আমি মন্দিরে আসিয়া মন্দিরের দেওয়াল ভাঙ্গার বিষয়টি দেখতে পাই। তিনি বলেন উপরোল্লেখিত যেকোন সময় অজ্ঞাত দুষ্কৃতিকারীরা শশ্মান ঘাট কালী মন্দিরের পশ্চিম পাশের দেওয়াল ভেঙ্গে প্রায় ৭০ হাজার (সত্তর হাজার) টাকার ক্ষতি সাধন করে। এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে শ্রীমঙ্গল থানার এসআই সুব্রত দাস ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
সরেজমিনে পরিমল দাস সহ আরো বেশ কয়েকজন এর সাথে কথা হয়।এক প্রশ্নের উত্তরে তারা জানান আমাদের আশেপাশে কোন মুসলিম নেই তবে অন্য একটি সম্প্রদায় রয়েছে যারা নাথ সম্প্রদায়, তাদের সৎকারের জায়গা আলাদা, যে ওয়াল টা ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে তার পাশে যে নতুন সমাধিটি দেখা যাচ্ছে এই সমাধির রাতেই ঘটনাটা ঘটেছে। তবে এ ব্যাপারে পুলিশের তদন্তের উপরে তাদের নির্ভরশীলতা রয়েছে বলে জানান।

একই ঘটনায় স্থানীয় ওয়ার্ড (৫ নং ওয়ার্ড) মেম্বার পিয়াস দাস এর সাথে কথা হলে তিনি দেওয়াল ভাঙ্গার ঘটনাটি স্বীকার করেন এবং বলেন, শ্রীমঙ্গল থানা থেকে এসআই সুব্রত দাস এসেছিল তদন্ত করার জন্য এবং আমি ও গিয়েছিলাম যতটুকু জানতে পেরেছি রাত্রে ওই এলাকার একজনের (হিন্দু ধর্মাবলম্বীর) সৎকারের পূর্বে বা পড়ে ঘটনাটি ঘটেছে তবে কে বা কারা বিষয়টি ঘটিয়েছে তা তদন্তকারী কর্মকর্তাকে স্থানীয়রা জানিয়েছে।

এ ব্যাপারে অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই সুব্রত দাসের সাথে কথা হলে তিনি জানান আমি ঘটনা স্থল পরিদর্শন করেছি এবং তদন্তের স্বার্থে অনেকের সাথেই কথা বলেছি।ঘটনার রাতে একই এলাকার এক মৃত ব্যক্তির সৎকার ছিল, এর সূত্র ধরে তদন্ত চলছে, তবে স্থানীয় হিন্দু ধর্মাবলম্বী মুরুব্বিরা বিষয়টি মীমাংসা করবেন বলে অনুরোধ করেছেন। যদি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা না হয় তাহলে আইন মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।