শ্রীমঙ্গলে রাষ্ট্র ও ইসলাম ধর্মের বিরুদ্ধে স্ট্যাটাসের অভিযোগে ডিজিটাল আইনে গ্রেপ্তার-১

0
474

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাষ্ট্র ও ধর্ম বিরোধী স্ট্যাটাসের অভিযোগে উপজেলা শহরের সবুজবাগ এলাকার প্রীতম দাস (৩৫) পিতা ক্ষিতেশ দাস নামক একজনকে গ্রেপ্তার করেছে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ।

অভিযোগের সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃত প্রীতম দাস রাষ্ট্র ও ইসলাম ধর্মকে নিয়ে  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের স্ট্যাটাস দেওয়ার অভিযোগে শ্রীমঙ্গল শহরের স্থানীয় এক যুবক মাহবুব আলম স্বেচ্ছা প্রণোদিত হয়ে শ্রীমঙ্গল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন গত ৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ ইং তারিখে।
ওই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আজ শুক্রবার ৯ সেপ্টেম্বর শ্রীমঙ্গল শহরের ১০ নং কালীঘাট রোড এলাকা থেকে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশের এসআই রাকিবুল হাসান ও অন্যান্য পুলিশ সদস্যদের সহযোগিতায় তাকে গ্রেপ্তার করে শ্রীমঙ্গল থানায় নিয়ে আসে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়,জৈনক প্রীতম দাস “রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন” নামে একটি সংগঠনের কেন্দ্রীয় সদস্য।
এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার স্ট্যাটাসটি ছড়িয়ে পড়লে গত ৩১ আগষ্ট তারিখে বাদ আসর শ্রীমঙ্গল শহরের স্থানীয় মুসল্লিদের উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়,ওই বিক্ষোভ ও পথসভা থেকে ইসলাম ধর্ম, ইমাম, মুয়াজজিন,ও মুসুল্লিদের বিরুদ্ধে কটুক্তি করেছে বলে তাকে  (প্রীতম দাস) দ্রুত গ্রেপ্তারের আবেদন জানানো হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে এবং এক সপ্তাহের একটি আল্টিমেটামও দেওয়া হয়।
সে সময় শ্রীমঙ্গল থানার তদন্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবিরসহ শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলি রাজিব মাহমুদ মিঠুন বলেন  “ধর্ম সংক্রান্ত যেকোনো কটুক্তি বা অবমাননাকারীকে ছাড় দেওয়া হবে না” বলে জানালে স্থানীয় মুসল্লীরা তাদের কথায় আশ্বস্ত হয়। ওই সময় শ্রীমঙ্গল উপজেলা চেয়ারম্যান ভানু লাল রায়,শ্রীমঙ্গল ব্যবসায়ীক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী কামাল হোসেনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রীতম দাস আটকের বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবিরের সাথে কথা হলে তিনি এর সত্যতা স্বীকার করেন এবং বলেন আমরা কথা দিয়েছিলাম কথা রেখেছি।এখন আইন অনুযায়ী বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হবে।এ ঘটনায় শ্রীমঙ্গল থানায় একটি মামলা নং ৬ তারিখ ৪-৯-২০২২ ইং দায়ের করা হয়।

প্রসঙ্গত,গ্রেপ্তার সংক্রান্ত আলোচনার সুত্র ধরে সজিব নামে এক ব্যাক্তি কথা প্রসঙ্গে বলেন,”সকল ধর্মের সচেতন মহল সজাগ থাকলে ধর্মবিরোধিতা সমাজে টিকবে না। ধর্ম বিরোধীরা শুধু পাকিস্তানের বিতর্কিত লেখক এর কথা নয়, তারা বিভিন্ন বিতর্কিত লেখকদের লেখা দিয়ে নিজেদের টাইমলাইনে স্ট্যাটাস দেয় যেটি তারা এসিড টেস্ট হিসেবে মনে করে। তিনি বলেন,আপনি খেয়াল করবেন তাসলিমা নাসরিন বাংলাদেশে বিতর্কিত লেখক হিসেবে পরিচিত অনেক সময় তার লেখাও আমাদের সমাজের কিছু বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীরা প্রচার করে থাকে। দেশে-বিদেশে এত বড় বড় লেখক থাকার পরেও তারা বিতর্কিত লেখকদের লেখা বাংলাদেশে কেন প্রচার করে এর পিছনে একটি টার্গেট রয়েছে যা একটু চিন্তা করলেই বুঝতে পারবেন বলে তিনি জানান।