শ্রীমঙ্গলে সঞ্জিত গোয়ালার প্রেম প্রতারণায় এক মুসলিম যুবতীর সর্বনাশ!

0
184

আমার সিলেট রিপোর্ট: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে সঞ্জিত গোয়ালা (২৮) নামে এক ব্যক্তি কর্তৃক এক মুসলিম মেয়েকে ধর্মান্তরিত হয়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ৮ বছর ধরে প্রেমের বাহানায় ৬ বছর ধরে ধর্ষন করে আসছে এবং নিয়মিত ধর্ষনের ফলে পাঁচবারের অধিক গর্ভপাতের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযুক্ত সঞ্জিত গোয়ালার পিতার নাম দীনেশ গোয়ালা, গ্রাম জুলেখা নগর চা বাগান।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, উল্লেখিত বাগানে প্রায় ২৭/২৮ টি পরিবার রয়েছে মুসলিম এবং হিন্দু পরিবার রয়েছে প্রায় দেড় শতাধিক। মুসলিম পরিবারের সংখ্যা কম হওয়ায় অধিকাংশ সময় ওরা আমাদের উপর নানাভাবে নির্যাতন চালিয়ে আসছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ না হওয়ায় আমরা ন্যায্য বিচার পাই না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দু’তিনজন স্হানীয় মুরুব্বির সাথে কথা বললে তারা বলেন প্রায় ছয় বছরের অধিক সময় ধরে এ ঘটনা ঘটে আসছে তাদের কাছে বিচার দিলে তারা বলে ধরে প্রমাণ দেখানোর জন্য।

এমতাবস্থায় বহুবার ছেলেটিকে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং শালিস ও হয়েছে।ছেলের বড় ভাই বিশাল গোয়ালার কাছে এর প্রতিকার চেয়ে কোন প্রতিকার পাওয়া যায়নি। ঘটনার দিন পরিবারের অন্য লোকদের অগোচরে জোরপূর্বক মেয়েটিকে আক্রমণ করলে তার চিৎকারে আমরা বাড়ি ঘরের মানুষ একত্রিত হয়ে ওকে আটক করি, বাঁধার ইচ্ছা থাকলেও আমরা তাকে না বেঁধে খোলা অবস্থায় রাখলে সে হঠাৎ দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে থানায় মামলা করলে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

মুরুব্বীদের একজন জানান বছরের পর বছর এ ঘটনায় আরো নেককারজনক ঘটনা ঘটেছে। এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করার জন্য আমরা মুখ বুঝে সহ্য করছি।

অপর এক মুরুব্বী বলেন সে মেয়েটিকে ধোঁকা দিয়েছে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে বিয়ে করার কথা বলে জিম্মি করে বছরের পর বছর তার ইজ্জত লুণ্ঠন করেছে।তার (সন্জিত গোয়ালার) প্রতারণা বুঝতে মেয়েটির বেশ সময় লেগে যায়।

তারা জানান বিষয়টি স্থানীয় মেম্বার শাহজাহান মিয়া এবং সিন্দুরখান ইউপি চেয়ারম্যান ইয়াছিন আরাফাত রবিনকে আমরা জানিয়েছি কোনো প্রতিকার হয়নি বাধ্য হয়ে আমাদেরকে থানায় মামলা দিতে হয়েছে এবং ধর্ষক সঞ্জিত গোয়ালাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে।

তিনি আরো জানান দীর্ঘ সময় মীমাংসার নামে নানা পায়তারা করে সময় নষ্ট করেছে।
এব্যাপারে ভিকটিম যুবতীর সাথে মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে দুই জন পুলিশ প্রহরায় রয়েছেন জানিয়ে কথা বলতে অপারগতা জানান।
তিনি বলেন, আমার জীবন আরও শেষ হয়ে যাবে এবং বলেন আমার প্রয়োজন হলে পরিবারের সাথে কথা বলে আপনাকে বিস্তারিত জানাবো।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই কামরুল ইসলাম বলেন, মামলা হওয়ার সাথে সাথে ওসি স্যারের নির্দেশ মোতাবেক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে, গ্রেপ্তারের পর মৌলভীবাজার আদালতে সোপর্দ করে ভিকটিম যুবতীকে অধিকতর তদন্তের জন্য ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে শ্রীমঙ্গল থানার পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত আমিনুল ইসলাম আমার সিলেট কে জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী-২০২০ এর) ৯ (১) ধারায় একটি মামলা হয়েছে,মামলার নাম্বার ১০, তারিখ ১৩ মে ২০২৪ ইং শ্রীমঙ্গল থানা।
আইন অনুযায়ী আমরা গ্রেফতারকৃত আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করেছি, বিজ্ঞ আদালত তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করেছেন। যেহেতু ধর্ষনের অভিযোগ, ভিকটিমকে ডাক্তারি পরীক্ষা করিয়ে তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।