শ্রীমঙ্গলে স্কুল ছাত্র ফাহাদের মৃত্যুর ঘটনার তদন্তে গাফিলতির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

0
324

শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ২ মাসের অধিক সময় ধরে অপেক্ষা করে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে ছেলে হত্যার বিচার চেয়ে এবং রেলওয়ে থানা পুলিশের তদন্তে অনাস্থা জানিয়ে নিহতের পরিবার সংবাদ সম্মেলন করেছেন।

আজ বুধবার (১৪ ডিসেম্বর) সকালে শহরের ‘টি ভ্যালী রেস্টুরেন্ট’ এ সংবাদ সম্মেলন করে নিহত এসএসসি পরীক্ষার্থী স্কুলছাত্র ফাহাদের বাবা জানান, স্কুলছাত্র ফাহাদ রহমান মারজান (১৭)-কে হত্যা করেছে তার সহপাঠীরা। আলোচিত এই মৃত্যুর তদন্তে নিহত ফাহাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সিডিআর যাচাই-বাছাই করে সন্দেহজনক ১৫ জনের নাম উঠে আসে। এর মধ্যে কয়েকজনকে ফাহাদের স্কুলের সহপাঠী বলে নিশ্চিত করেছে তদন্ত কর্মকর্তা।

গত ১২ অক্টোবর শ্রীমঙ্গল রেল স্টেশনের অদূরে শাহীবাগ রেল লাইনের পাশ থেকে রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় ফাহাদকে উদ্ধার করে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা যার নং ২৫-২২ দায়ের হয়। এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোল্লা সেলিমুজ্জামান ফাহাদের পরিবারকে জানান,তার স্কুলের কয়েকজন সহপাঠী পরিকল্পিত ভাবে ফাহাদকে খুন করে রেল লাইনে ফেলে রাখে।
অপরদিকে মৃত্যুর কয়েকদিন পূর্বে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি তার মায়ের নিকট ফোন করে ফাহাদকে সাবধানে চলাফেরা করার জন্য সতর্ক করেন। ফাহাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সিডিআর সূত্র ধরে তদন্ত কর্মকর্তা এসব তথ্য প্রকাশ করেন বলে জানান, ফাহাদের বাবা শ্রীমঙ্গল দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো.ফজলুর রহমান।

ফাহাদের বাবা আরও জানান, শ্রীমঙ্গল জিআরপি থানায় দায়েরকৃত অপমৃত্যু মামলার পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোল্লা সেলিমুজ্জামান মোবাইল কল লিস্ট (সিডিআর) রির্পোট আসার পর তাদের ডেকে নিয়ে জানান, সিডিআর রিপোর্ট বিশ্লেষণ করে তিনি নিশ্চত হন ফাহাদকে তার সহপাঠী মুন্না, টিআরজি মাহিন, রাব্বি,ডিজে ইরফান, ফুয়াদ,মান্না, মুরাদ,তানভীর, শাহরুখ, তানজিল,ইফতি, আরাফাত, সুমন,জুম্মন, জাহিদ ডনসহ আরও কয়েকজন মিলে হত্যা করে। শহরের সোনা মিয়া রোডস্থ লুৎফা এলাহী কমপ্লেক্সে (এহসান করিম মঞ্জিল)খুনিরা একত্র হয়ে মাস্টার প্লান করে ফাহাদকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পোস্টমোর্টেম রিপোর্ট আসার পর অপমৃত্যু মামলাকে হত্যা মামলায় রূপান্তর করে সব আসামীদের ধরে প্রকৃত রহস্য উৎঘাটন করা হবে’বলে এসআই মোল্লা সেলিমুজ্জামান তাদের জানান। কিন্ত পোস্টমোর্টেম রিপোর্ট হাতে আসার পর রেলওয়ে থানার ওসি সাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী ও তদন্ত কর্মকর্তা ট্রেনের আঘাতে ফাহাদের মৃত্যু হয়েছে বলে অপমৃত্যু মামলার ফাইনাল প্রতিবেদন দেবেন বলে জানান।
এনিয়ে ফাহাদের মৃত্যুর তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়।যদিও পোস্ট মোর্টেম রিপোর্টে মাথায় আঘাত জনিত ও মস্তিষ্কে রক্ত জমাটের কারণে মৃত্যু হয়।
এছাড়া কপালে দুটি ও পায়ের নিচে আঘাতের উল্লেখ রয়েছে।
ফাহাদের বাবার অভিযোগ- সিডিআর রিপোর্টের পর এ হত্যার ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নিতে তদন্ত কর্মকর্তা ও রেলওয়ে থানার ওসি সন্দেহভাজন আসামীদের সাথে যোগসাজস করে আর্থিক লেনদেন করেছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন,তদন্ত কর্মকর্তা মুল্লা সেলিমুজ্জামান এসব সিডিআর সংগ্রহের জন্য তাদের নিকট থেকে কয়েক দফায় ২২ হাজার টাকা গ্রহন করেন। তারপরও অজ্ঞাত কারণে ফাহাদ হত্যাকান্ডকে অপমৃত্যু হিসেবে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা চলছে।
মামলার তদন্ত ভিন্ন খতে নেয়ার কারণে ফাহাদের বাবা সাংবাদিকদের মাধ্যমে তদন্ত কর্মকর্তা ও ওসির বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া এবং তাদের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে মামলার তদন্তভার পিবিআই,সিআইডি বা র‌্যাবের মতো সংস্থার কাছে হস্তান্তরের দাবি জানান।

নিহত ফাহাদ শহরের কলেজ রোডস্থ শাহ মোস্তফা ইসলামিয়া হাইস্কুল থেকে সদ্য ফল প্রকাশিত এসএসসি পরিক্ষার্থী ছিল। মৃত্যুর দিন ছিল তার প্র্যাক্টিক্যাল পরীক্ষা। কিন্তু ওই দিন ১২ অক্টোবর ভোর রাতে অজ্ঞাত কে-বা কাহারা তাকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এসব বিষয়ে রেলওয়ে পুলিশের নিকট তথ্য উপাত্তের সকল প্রমাণ সরবরাহ করার পরও তারা তদন্তের নামে সময় ক্ষেপন ও মামলার আলামত নষ্ট করে আসামীদের বাঁচানোর পায়ঁতারা করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি ।
তিনি তার সন্তান হত্যার রহস্য উৎঘাটন করে খুনিদের গ্রেফতার ও বিচার দাবি করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশের আইজিপিসহ সংশ্লিষ্ট সকলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে থানার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোল্লা সেলিমুজ্জামানকে ফোন দেয়া হলে তিনি,আসামীদের নাম প্রকাশে অস্বীকৃতি জানিয়ে মামলার তদন্ত চলছে বলে লাইন কেটে দেন।

রেলওয়ে থানার ওসি সাফিউল ইসলাম পাটোয়ারীর সাথে ফোনে যোগাযোগ করলে এসআই সাব্বির নামে এক কর্মকর্তা জানান,তিনি (ওসি) অভিযানে রয়েছেন।

ফাহাদ মৃত্যুর তদন্তে পুলিশ কর্মকর্তার অনিয়ম ও অনাস্থার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে রেলওয়ে’র ডিআইজি জয়দেব ভদ্র জানান,বিষয়টির খোঁজ নিয়ে সিলেট জোনের এসপিকে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে ফাহাদের ছোট ভাই ফারদিন রহমান, মো. সালমান ছোট বোন নুসরাত জাহান জেনিফা, চাচা ইমাদ আলী ও মুছাব্বির আল মাসুদ ও কাউন্সিলর মীর এম এ সালামসহ স্থানীয় সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য গত ১২ অক্টোবর ২০২২ ইং তারিখ সকালে ফাহাদকে রক্তাক্ত যখমসহ গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে শ্রীমঙ্গল ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।