সনাতন পদ্ধতিতে নদীতে ছড়িয়ে পড়া ফার্নেস সংগ্রহের চেষ্টা

    0
    205

    আমারসিলেট24ডটকম,১৩ডিসেম্বরঃ থালা-বাসন, ফোম, বস্তা ও কলা পাতা দিয়ে সনাতন পদ্ধতিতে সুন্দরবনের শ্যালা নদীতে ছড়িয়ে পড়া ফার্নেস অপসারণের আপ্রাণ চেষ্টা চালানো হচ্ছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আহ্বানে শুক্রবার সকাল থেকে স্থানীয় জনগণ এ চেষ্টা শুরু করেছেন। সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকার মানুষ বিশেষ করে জেলে-বনজীবীরা শ্যালা নদ-নদী ও খাল থেকে তেল অপসারণের কাজ শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন সংলগ্ন লোকালয়ে মাইকিং করে ভাসমান তেল তুলে নেয়ার আহবান জানানো হয়। এর পরে শুক্রবার সকাল থেকেই স্বতঃর্স্ফূতভাবে এলাকার মানুষ তেল সংগ্রহের কাজে নেমে পড়েছে। তাদের সংগ্রহীত তেল স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পদ্মা অয়েল কোম্পানির কাছে লিটার প্রতি ৩০ টাকা দরে বিক্রি করছে। পক্ষান্তরে ভাসমান তেল সুন্দরবনে ছড়িয়ে পড়া রোধে ও তেল তোলার সুবিধার্থে জোয়ারের সময় খালগুলোতে ফার্নেস অয়েল যাতে বের হতে না পারে সে জন্য আগের দিন বিকেলে খালগুলোর মুখে নেট দিয়ে ব্যরিকেড দেয়া হয়।
    এদিকে কান্ডারি-১০ এসে পৌঁছালেও সেটি রাসায়নিক পদার্থ ছিটানোর কাজ শুরু করার জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছে। তবে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মু. শুকুর আলী। ফলে আপাতত ডিসপার্সেন্ট ফোম কেমিক্যাল ছিটানোর কাজ বন্ধ রয়েছে। বিআইডব্লি¬উটিএর চেয়ারম্যান মো. শামসুদ্দোহা খন্দকার জানান, প্রাথমিকভাবে ৩ দিন বন সংলগ্ন লোকালয়ের মানুষের সহায়তা নিয়েই তেল সংগ্রহের চেষ্টা করা হবে। পরে রাসায়নিক ব্যবহারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। অন্যদিকে মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারর্বার মাস্টার কে এম আকতারুজ্জামান জানান, ডুবে যাওয়া ট্যাংকারে ছিল প্রায় সাড়ে ৩ লাখ লিটার ফার্নেস অয়েল। কান্ডারিতে মাত্র ১০ হাজার লিটার তেলের তেজস্ক্রিয়তা কমানোর মতো রাসায়নিক রয়েছে।
    পূর্ব সুন্দরবনের শ্যালা নদীর চাঁদপাই রেঞ্জের মালবাহী জাহাজের ধাক্কায় ‘ওটি সাউদার্ন স্টার সেভেন’ নামে একটি তেলবাহী ট্যাংকার মঙ্গলবার ভোরে ডুবে যায়। ট্যাংকারটি গোপালগঞ্জের একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য খুলনার পদ্মা অয়েল ডিপো থেকে ৩ লাখ ৫৭ হাজার ৬৬৮ লিটার ফার্নেস অয়েল নিয়ে যাচ্ছিল। এ ঘটনায় ট্যাংকারের মাস্টার মোকলেসুর রহমান (৫০) এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
    ওই তেল পানিতে ছড়িয়ে পড়ায় মারাত্মক হুমকিতে পড়েছে সুন্দরবনের জীব-বৈচিত্র্য। বিশেষ করে জোয়ারে তেলযুক্ত পানি বনে প্রবেশ করায় গাছের গোড়ায় ও শ্বাসমূলে তেলের আবরণ লেগে যাওয়ায় শ্বাস-প্রশ্বাসে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। বিলুপ্ত প্রায় ইরাবতি ডলফিনসহ ৬ প্রজাতির ডলফিন ও ৩০০ প্রজাতির মৎস্য সম্পদসহ ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের অস্তিত্ব ঝুঁকির মুখে পড়েছে। তাই দ্রুত তেল অপসারণের প্রাণপন চেষ্টা চালানো হয়েছে।