সব ধরনের শঙ্কাকে উড়িয়ে দিয়েছে মাশরাফির দল

    0
    212

    আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,৮ফেব্রুয়ারী: বিশ্বকাপ মিশনে এসে প্রথম ম্যাচেই বাংলাদেশের সামনে আত্মবিশ্বাসের ফোঁয়ারা ছুঁটিয়েছিল আফগানরা কথার লড়াইয়ে। কিন্তু মাঠের ক্রিকেটে ছোট দলের তকমার বাইরে যেতে পারেনি যুদ্ধ বিধ্বস্ত আফগানিস্তান। বলা ভালো, বাংলাদেশই প্রথম বিশ্বকাপ অভিজ্ঞতায় আকাশ ছুঁতে দেয়নি আফগানদের। তাই ক্যানবেরায় মোহাম্মদ নবীদের পা মাটিতেই রইল।
    ব্যাটে-বলে দুরন্ত পারফরম্যান্সে সব ধরনের শঙ্কাকে উড়িয়ে দিয়েছে মাশরাফির দল। আফগানদের উড়িয়ে দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করেছে টাইগাররা।বুধবার মানুকা ওভালে আফগানিস্তানকে ১০৫ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ।
    মুশফিকুর রহিম-সাকিব আল হাসানের জোড়া হাফ সেঞ্চুরিতে প্রথমে ব্যাট করে ২৬৭ রান করেছিল বাংলাদেশ। জবাবে ৪২.৫ ওভারে ১৬২ রানে অলআউট হয়ে যায় আফগানিস্তান। ইনিংস সর্বোচ্চ ৭১ রান করে ম্যাচ সেরা হন মুশফিক।
    বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের সমানে ২৬৮ রানের টার্গেটটা আইসিসি সহযোগী আফগানিস্তানের জন্য অনেক কঠিন কর্মই ছিল। তৃতীয় ওভারে তিন রানেই তিন উইকেট হারিয়ে বসে আফগানরা। ইনিংসের প্রথম ওভারেই আঘাত হানেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি। জাবেদ আহমাদি কট এন্ড বোল্ড হন। পরের ওভারে রুবেল ফেরান আফসার জাজাইকে। তৃতীয় ওভারে এসে মাশরাফি দ্বিতীয় শিকার বানান আজগর স্ট্যানিকজাইকে।
    চতুর্থ উইকেটে নওরোজ মঙ্গল-সামিউল্লাহ শেনওয়ারির ৬২ রানের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিল আফগানিস্তান। মাহমুদউল্লাহর বলে ডিপ স্কয়ার লেগে দুর্দান্ত ক্যাচ ধরে নওরোজকে ফেরান রুবেল। তিনি ২৭ রান করেন। দলীয় ৭৮ রানে পঞ্চম ব্যাটসম্যান হিসেবে ফিরেন সামিউল্লাহ শেনওয়ারি। ৪২ রান করে রানআউট হন তিনি। এরপর ষষ্ঠ উইকেটে ৫৮ রানের জুটিতে প্রতিরোধ গড়েছিলেন অধিনায়ক নবী ও নাজিবউল্লাহ জাদরান। ইনিংসের ৩৭তম ওভারে সেই জুটি ভাঙেন সাকিব। ১৭ রান করে নাজিবউল্লাহ এলবির ফাঁদে পড়েন।
    পরের ওভারের প্রথম বলে মাশরাফি ফেরত পাঠান নবীকে। সর্বোচ্চ ৪৪ রান করেন আফগান অধিনায়ক। শেষদিকে মিরওয়াইস আশরাফ ১০, আফতাব ১৪ রান করেন। বাংলাদেশের পক্ষে মাশরাফি ২০ রানে ৩টি, সাকিব ২টি, রুবেল-মাহমুদউল্লাহ-তাসকিন ১টি করে উইকেট পান।
    এর আগে টসে জিতে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশের শুরুটা খারাপ হয়নি। তামিম-বিজয়রা উইকেট ধরে খেলেছেন। আফগান পেসারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের বিপরীতে আক্রমণ করার সুযোগ কমই পেয়েছেন তারা। দলীয় ৪৭ রানে সাজঘরে ফিরে গেছেন তামিম ইকবাল। মিরওয়াইস আশরাফের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন তিনি। ৪২ বলে ১৯ রান করেন তামিম। ৫ রান পর বিজয়ও আশরাফের শিকার হন। ৫৫ বলে ২৯ রান করে এলবির ফাঁদে পড়েন তিনি।
    সৌম্য-মাহমুদউল্লাহ তৃতীয় উইকেট জুটিতে রানের চাকা সচলের চেষ্টা করেছেন। তারা কিছুটা সফলও হয়েছেন। কিন্তু উইকেটে থিতু হতে না পারায় সেটি ধরে রাখতে পারেননি। তাদের ৫০ রানের জুটি বিচ্ছিন্ন হয় সৌম্য শাপুর জাদরানের বলে এলবিডব্লিউ হলে। সৌম্য ২৮ রান করেন। ৪৬ বলে ২৩ রান করে মাহমুদউল্লাহও শাপুরের দ্বিতীয় শিকার হন। ইনিংসের পরের গল্পটা বাংলাদেশের এগিয়ে চলার। দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান সাকিব ও মুশফিক ধীরে ধীরে চড়াও হন আফগান বোলারদের উপর। ইনিংস মেরামতের সঙ্গে দলকে বড় রানের ভিত গড়ে দেন তারা। তাদের ব্যাটে ব্যাটিং পাওয়ার প্লে’র ৫ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৪৮ রান তোলে বাংলাদেশ।
    এদিকে বাংলাদেশের পক্ষে ওয়ানডে ক্রিকেটে প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ৪ হাজার রান পূর্ণ করেছেন সাকিব আল হাসান। বুধবার আফগানদের বিরুদ্ধে ৩৭তম ওভারের শেষ বলে চার মেরে এই মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। সাকিব-মুশফিকের ১১৪ রানের জুটি ভেঙে যায় সাকিব হামিদ হাসানের বলে বোল্ড হলে। তিনি ৬৩ রান (৬চার, ১ছয়)  করেন। এই জুটি ভাঙার পর আবারও রানের গতি কমে যায়। ব্যাট হাতে সুবিধা করতে পারেননি সাব্বির রহমান (৩)। মুশফিক ৭১ রান (৬চার, ১ছয়) করে ফিরেন নবীর বলে।
    শেষ দিকে অধিনায়ক মাশরাফির ৯ বলে তিন চারে ১৪ রানের ইনিংসে আড়াইশো পার হয় বাংলাদেশ। নয় নম্বরে নামা মুমিনুল (৩) রানআউট হন। ইনিংসের শেষ বলে তাসকিন বোল্ড হলে অলআউট হয় বাংলাদেশ। আফগানদের পক্ষে শাপুর জাদরান, আফতাব আলম, হামিদ হাসান, মিরওয়াইস আশরাফ ২টি করে উইকেট নেন।