সম্পাদনার টেবিলে চলচ্চিত্র ‘নৃ’

    0
    258

    আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৭মার্চঃ শুধু বাংলাদেশ নয়, সাম্প্রদায়িক মৌলবাদের উগ্র অনলে পুড়ছে পুরো বিশ্ব। এমনই একটি সময়ে মৌলবাদ বিরোধী অসাম্প্রদায়িক চেতনার গল্প নিয়ে নির্মাণাধীন পূর্ণদৈর্ঘ্য স্বাধীন চলচ্চিত্র ‘নৃ’ সম্পাদনার কাজ শুরু হয়েছে। প্রযোজনা সংস্থা থিম থিয়েটার উইজার্ড ভ্যালীর কর্ণধার রাসেল আহমেদ নির্মিত এ চলচ্চিত্রটি সম্পাদনা করছেন সামির আহমেদ।

    আগামী এপ্রিল-মে মাসের মধ্যে ‘নৃ’ -এর কাজ শেষ করার ব্যাপারে আশাবাদী এর রচয়িতা ও পরিচালক রাসেল। তিনি জানান, ফেব্রুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহে শুরু হয়েছে এর সম্পাদনা। নির্মাণ শেষ হওয়ার আগেই দেশে-বিদেশে বিপুল আগ্রহের জন্মদানকারী এই চলচ্চিত্রটি নিয়ে সম্পাদক সামির বেশ উৎসাহী বলেও জানিয়েছেন এই স্বাধীন নির্মাতা। উল্লেখ্য – এর আগে তিনি ‘গেরিলা’ সিনেমাটি সম্পাদনার জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছিলেন।

    এ বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে শেষ হয় ‘নৃ’ চিত্রায়নের কাজ। দু’বছর আগে ২০১৩ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি এর চিত্রগ্রহণ শুরু হয়েছিলো। তারও আগে ২০১২ সালের আগস্ট থেকেই শুরু হয়েছিলো প্রস্তুতি। এরপর চার দফায় ৭০ দিন দৃশ্যধারণের কাজ করেছে নৃ পরিবার। এসব তথ্য জানিয়ে রাসেল বলেন ‘মা, মাটি ও মানুষের গল্প নিয়ে রচিত এই চলচ্চিত্রের কাঙ্খিত দর্শক মূলত মাটির কাছাকাছি থাকা বাংলার আপামর মানুষ। সম্পূর্ণ এ অঞ্চলের রঙ, রূপ, রস আর গন্ধে নির্মাণাধীন এ চলচ্চিত্র পূর্ণাঙ্গ শিল্পমান নিয়েও ব্যবসা সফল হবে, এমনই আমাদের প্রত্যাশা বা প্রচেষ্টা।’

    প্রথমাবস্থায় নির্মাতার পৈত্রিক সম্পত্তি বিক্রির টাকায় সংগঠিত হয়েছিলো নৃ পরিবার। এরপর আর্থিক সংকটে দফায় দফায় কাজ বন্ধ হলেও এই পরিবার কখনো ভেঙে পরেনি। দীর্ঘ প্রচেষ্টায় কাজটিকে তারা শেষ পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। ইউটিউব ও ফেসবুক পেজসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রচারের কারণে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন শ্রেণীর সিনেমাপ্রেমী মানুষও তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে।

    প্রসঙ্গত, আর্থিক সঙ্কটে স্যুটিং বন্ধ থাকাবস্থায় বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত নৃ’র অফিসিয়াল টিজার আগ্রহী করেছে ভিনদেশী দর্শকদেরও। ইউটিউবে এটি বিশ্বের ৮৫টি দেশ থেকে দেখা হয়েছে। দেশের বাইরে সবচেয়ে বেশী দেখা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সৌদি আরব ও ইউনাইটেড আরব আমিরাত থেকে। নৃ’র ফেসবুক পেইজেও অর্ধশতাধিক দেশের অনুসারী রয়েছে।

    সম্পূর্ণ বরিশালে চিত্রায়িত এই চলচ্চিত্রের শরীর হবে প্রায় দেড়শো মিনিট। এর মুখ্য চরিত্র বিশুর ভূমিকায় অভিনয় করছে বরিশাল জিলা স্কুলের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র ইয়াসিন। বরিশাল কাউনিয়া এলাকার মহাশ্মশানের দুই চ-াল দিলীপ কুমার পাল ও রাঁধা বল্লভ শীল ছাড়াও এতে আরো আছেন তাসনুভা তামান্না, সিরাজুম মুনীর টিটু, হীরা মুক্তাদির, এসএম তুষার, দুখু সুমন, হ্যাভেন খান, সুকান্ত মুখার্জী বাবু, মিন্টু কর, নজরুল ইসলাম চুন্নু, ওয়াহিদা রহমান আভাসহ প্রায় শতাধিক অভিনেতা-অভিনেত্রী।

    ডিজিটাল ফরম্যাটে ডিএসএলআর প্রযুক্তিতে নির্মিত এ সিনেমাটি চিত্রায়নে তিনটি ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছে। মূল চিত্রগ্রাহক ড্যানিয়েল ড্যানি। সাথে ছিলেন ক্যামেরা সঞ্চালক ঈয়ন ও দঈত আন্নাহাল। সিনেমার শিল্প নির্দেশক ছিলেন থিওফিলাস স্কট মিল্টন। শব্দগ্রহণ করছেন- এমআই সাইফ ও নাজমুল হুদা। পোষাক-পরিচ্ছদ দেখছেন শাহরিয়ার শাওন।

    চ-াল জুটি দিলীপ-রাঁধার জীবন দর্শন ও ভাবনা নিয়ে প্রায় ১০ বছর আগে শুরু হওয়া গবেষণায় প্রসূত এই চলচ্চিত্রে বরিশালের মাধবপাশার ঐতিহাসিক জলাধার দূর্গাসাগরের প্রচলিত মিথ আর বাংলার সহজিয়া, দরদিয়া এবং মরমিয়া বোধ মাখামাখি হয়েছে।

    গণমানুষের কাছে এ চলচ্চিত্রের বার্তা পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে আয়োজিত এক ‘মিট দ্যা প্রেস’ অনুষ্ঠানে নির্মাতা দাবি করেছিলেন, বাবা-মা-দাদা-দাদী-মামা-চাচা-খালা-খালু-বন্ধু-বান্ধব-আরশী-পরশী-আন্ডা-বাচ্চাসহ পরিবারের সকলকে নিয়ে হলে গিয়ে বাদামভাজা চিবুতে চিবুতে নিশ্চিন্তে উপভোগ করার মত সিনেমা হবে নৃ।