সশস্ত্র বাহিনী দিবসে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা

    0
    228

    আমারসিলেট24ডটকম,২১নভেম্বরঃ আজ শুক্রবার দেশের সশস্ত্র বাহিনী দিবস। যথাযথ মর্যাদা ও উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে সশস্ত্রবাহিনীসহ সারাদেশে দিবসটি পালিত হচ্ছে। এ উপলক্ষে দেশের সকল সেনানিবাস, নৌ ঘাঁটি ও স্থাপনা এবং বিমান বাহিনী ঘাঁটির মসজিদসমূহে দেশের কল্যাণ, সমৃদ্ধি এবং সশস্ত্র বাহিনীর উত্তরোত্তর উন্নতি ও অগ্রগতি কামনা করে ফজরের নামাজ শেষে বিশেষ মোনাজাতের মধ্যদিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু করা হয়।
    এদিকে দিবস উপলক্ষে শিখা অনির্বাণে ফুল দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সামরিক বাহিনীর সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুক্রবার সকাল ৮টায় ঢাকা সেনানিবাসের শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনীর সর্বাধিনায়ক রাষ্ট্রপতি আলহাজ্জ মোঃ আব্দুল হামিদ। তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল এ সময় সামরিক নিয়ামানুযায়ী অভিবাদন জানায়। এরপর সোয়া ৮টায় শিখা অনির্বাণে ফুল দিয়ে শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময়ও বিউগল বাজিয়ে শহীদদের প্রতি সামরিক নিয়ামানুযায়ী সালাম জানানো হয়।
    রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় উপস্থিত ছিলেন, তিন বাহিনীর প্রধান এবং সশস্ত্র বাহিনীর উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা। পরে শিখা অনির্বাণে দর্শনার্থী বইয়ে সই করেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর তিন বাহিনীর প্রধানরাও নিজ নিজ বাহিনীর পক্ষে শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
    অপরদিকে দিবসটি উপলক্ষে ৩ বাহিনী প্রধানগণ বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। সশস্ত্র বাহিনী দিবস ২০১৪ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ঢাকা সেনানিবাসস্থ সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে বীরশ্রেষ্ঠদের উত্তরাধিকারী এবং নির্বাচিত সংখ্যক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের উত্তরাধিকারীদের সংবর্ধনা জানাবেন। প্রধানমন্ত্রী ২০১৪-২০১৫ সালে সশস্ত্র বাহিনীর শান্তিকালীন সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী পদক এবং অসামান্য সেবা পদকপ্রাপ্ত সদস্যদের হাতে পদক তুলে দেবেন।
    অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা, সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী প্রধান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও), প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব, প্রেস সচিব ও সচিব এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তাগণ উপস্থিত থাকবেন।
    দিবসটি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে এক বৈকালিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। এতে অন্যান্যের মধ্যে জাতীয় সংসদের ¯পীকার, প্রধান বিচারপতি, জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সুপ্রীম কোর্টের বিচারপতিগণ, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কমিশনারগণ, বাংলাদেশে নিযুক্ত বিদেশী রাষ্ট্রদূতগণ, মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব, ঢাকা এলাকার সংসদ সদস্যগণ, বাহিনীত্রয়ের প্রাক্তন প্রধানগণ, ২০১৪ সালের স্বাধীনতা পুরস্কার প্রাপ্ত ও একুশে পদক প্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ, নির্বাচিত রাজনৈতিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের সকল বীরশ্রেষ্ঠের উত্তরাধিকারী, স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ঢাকা এলাকায় বসবাসরত খেতাবপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও তাদের উত্তরাধিকারী, উচ্চপদস্থ বেসামরিক কর্মকর্তাগণ এবং তিন বাহিনীর চাকুরিরত ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন। অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ টেলিভিশন সরাসরি স¤প্রচারের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
    সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে ৩ বাহিনী প্রধানগণ নিজ নিজ বাহিনীর খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের উত্তরাধিকারীদের অনুরূপ সংবর্ধনা প্রদান করবেন। ঢাকা ছাড়াও সাভার, বগুড়া, ঘাটাইল, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, সিলেট, যশোর, রংপুর, খুলনা এবং রাজেন্দ্রপুর সেনানিবাসসমূহেও অনুরূপ সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে। দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য ঢাকার বাইরে দেশের অন্যান্য সেনা গ্যারিসন, নৌ জাহাজ ও স্থাপনা এবং বিমান বাহিনী ঘাঁটিতেও বিভিন্ন কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। ঢাকা (সদরঘাট), নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, খুলনা ও বরিশালে বিশেষভাবে সজ্জিত নৌবাহিনী জাহাজসমূহ শুক্রবার বেলা ২টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সর্বসাধারণের পরিদর্শনের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
    সশস্ত্র বাহিনী দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বাংলাদেশ টেলিভিশন রাত ৮টার বাংলা সংবাদের পর সশস্ত্র বাহিনীর পরিবেশনায় ‘বিশেষ অনির্বাণ’ অনুষ্ঠান স¤প্রচার করবে। বাংলাদেশ বেতার শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ‘বিশেষ দুর্বার’ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করবে। ‘বিশেষ অনির্বাণ’ অনুষ্ঠানটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলসমূহে পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে সম্প্রচারিত হবে। দিবসটি উপলক্ষে শুক্রবারের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশিত হবে। এছাড়াও সশস্ত্র বাহিনীর পরিচালনাধীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে রচনা, চিত্রাঙ্কন এবং কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।