সাবেক মন্ত্রী আলীমের যাবজ্জীবন কারাদন্ডের রায়

    0
    232

    আমারসিলেট 24ডটকম,০৯অক্টোবর:মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা মামলায় বিএনপি নেতা ও সাবেক মন্ত্রী আব্দুল আলীমের যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে-২। তার বিরুদ্ধে আনীত ১৫ টি অভিযোগের মধ্যে ৯ টি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১২টার পরপরই এ রায় ঘোষণা করা হয়। এর আগে সকালে ১৯১ পৃষ্ঠার রায়ের সারসংক্ষিপ্ত পড়া শুরু করেন ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২,তারও আগে আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আলীমকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল -২ এর এজলাসে হাজির করা হয়। গত ২২ সেপ্টেম্বর এ প্রভাবশালী বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে করা মামলার কার্যক্রম শেষ হয়। পরে রায় অপেক্ষমান রাখে ট্রাইব্যুনাল। ওই দিন রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে শর্তসাপেক্ষে জামিনে থাকা আলীমের জামিন বাতিল করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
    আলীমের বিরুদ্ধে ২০১২ সালের ১১ জুন আব্দুল ৭ ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধের ১৭টি অভিযোগ গঠন করা হয়। এর মধ্যে গণহত্যার তিনটি অভিযোগ রয়েছে। এগুলো হলো, জয়পুরহাটের কড়ই কাদিপুর গ্রামে ৩৭০ জন হিন্দুকে হত্যা, উত্তর হাটশহরে নয়জনকে এবং জয়পুরহাট চিনিকলে বিচার বসিয়ে ২৫ জনকে হত্যা। অন্যান্য অভিযোগের মধ্যে হত্যার ১০টি এবং দেশান্তরকরণের একটি অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, আলীম জয়পুরহাটের ডা. আবুল কাশেমকে ও ২৬ জন মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করেছেন। এছাড়া জয়পুরহাটের করাইকাদিপুর এলাকার গণহত্যাসহ চকপাড়া, জুড়িপাড়া, পালপাড়া, সোনাপাড়া এলাকায় ৩৮ জনকে হত্যারও অভিযোগ রয়েছে আব্দুল আলীমের বিরুদ্ধে।
    এসব অভিযোগে গত বছরের ১১ জুন আলীমকে অভিযুক্ত করেন ট্রাইব্যুনাল। এর আগে গত বছরের ১৫ মার্চ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আলীমের বিরুদ্ধে তিন হাজার ৯০৯ পৃষ্ঠার অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করে প্রসিকিউশন। ২৭ মার্চ ট্রাইব্যুনাল ১ অভিযোগ আমলে নেন। পরে ১৬ এপ্রিল আলীমের মামলা ট্রাইব্যুনাল ১ থেকে ট্রাইব্যুনাল ২ এ স্থানান্তর করা হয়।
    এ মামলায় আলীমের বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) এজেডএম আলতাফুর রহমানসহ রাষ্ট্রপক্ষের মোট ৩৫ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। তবে ১৯তম সাক্ষী আবেদ হোসেনকে বৈরী ঘোষণা করে জেরা করে রাষ্ট্রপক্ষ। অন্যদিকে তদন্ত কর্মকর্তার কাছে দেয়া দুই জনের জবানবন্দিকেই সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেছেন ট্রাইব্যুনাল। অন্যদিকে, আসামিপক্ষে সাক্ষ্য দেন তিন জন। তারা হলেন, মামুনুর রশিদ, মো. মোজাফফর হোসেন ও ছেলে সাজ্জাদ বিন আলীম।
    গত ২২ সেপ্টেম্বর আলীমের উপস্থিতিতে মামলায় সমাপনী যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ট্রাইব্যুনাল তার রায়ের তারিখ অপেক্ষামাণ রাখেন। ওই দিন সমাপনী বক্তব্য রাখেন ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ এবং আসামি পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম। সমাপনী বক্তব্যে প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ বলেন, আব্দুল আলীম যেহেতু একজন আইনজীবী ছিলেন এবং একজন শিক্ষিত-সচেতন নাগরিক হয়েও অপরাধ সংগঠনে সাহায্য করেছিলেন, সেহেতু ওইসব ঘটনার জন্য তাকে সুপিরিয়র রেসপনসিবল হিসাবে ধরা যায়।
    তবে আব্দুল আলীমের আইনজীবী এডভোকেট তাজুল ইসলাম বলেন, আব্দুল আলীমের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ ভিত্তিহীন বাগাড়ম্বর। প্রসিকিউশন গৎবাধা কিছু সাক্ষ্যপ্রমাণ দিয়ে তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধী সাজাতে চায়। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের কোনো সাক্ষ্যপ্রমাণে আলীম সাহেবের একদিনের শাস্তিও গ্রহণযোগ্য নয়। তবে আমরা আদালতের আদেশের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।
    প্রসঙ্গত ২০১১ সালের ২৭ মার্চ জয়পুরহাটের বাড়ি থেকে আলীমকে গ্রেপ্তার করা হয়। আলীম ১৯৭৫ ও ১৯৭৭ সালে বিএনপির সমর্থনে জয়পুরহাট পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৭৯, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে তিনি বিএনপির মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। জিয়াউর রহমানের সরকারে প্রথমে বস্ত্রমন্ত্রী এবং পরে যোগাযোগমন্ত্রী ছিলেন এই সাজা প্রাপ্ত আলীম।