সিলেট একজন শিক্ষাবিদ মাইনুল ইসলামকে হারালেন

    1
    263
    আমারসিলেট24ডটকম,২৩নভেম্বরঃ বৃহত্তর সিলেট বিভাগের শিক্ষা বিস্তারের অন্যতম পথিকৃৎ, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ সাবেক প্রিন্সিপাল জনাব মোঃ মইনুল ইসলাম ইহজগত ত্যাগ করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না  ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। গত ২১শে নভেম্বর বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় ভোর ৫ টা ৪৬ মিনিটে মজুমদারিস্থ নিজস্ব বাসবভনে তিনি ইন্তেকাল করেন।

     সিলেট এলাকার  শিক্ষার প্রসারে অসামান্য অবদান রাখা  কীর্তিমান ওই পুরুষের জন্ম হয়েছিল ১৯৪৩ সালের ৩১শে মার্চ সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার শেখেরগাও (বড়বাড়ী) নামে পরিচিত এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে। ভারতের দেওবন্দ থেকে টাইটেল পাশ করা বাবার প্রত্যক্ষ অনুপ্রেরনায় ছাত্রজীবন থেকেই ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী।  জনাব ইসলাম ১৯৬২সালের ইষ্ট পাকিস্থান সিভিল সার্ভিস ( ইপিসিএস) পরীক্ষায় সমগ্রপুর্ব পাকিস্থানের সম্মিলিত মেধা তালিকায় অষ্টমস্থান অধিকার করেন। তবে এই অসামান্য সাফল্যের পরেও রাষ্ট্রীয় ও প্রসাশনিক বর্নাঢ্য জীবনের হাতছানিকে উপেক্ষা করে তার এক একজন শিক্ষকের অনুপ্রেরনায়  শিক্ষকতাকেই তার জীবনের মহান পেশা হিসাবে বেছে নেন। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি ঢাকা আজিমপুর হাইস্কুল, ঢাকা বিএসএফ শাহীন স্কুল, কুমিল্লার ইস্পাহানী পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ, সিলেটের লালা বাজারহাই স্কুল, ছাতকের মইনপুর হাই স্কুল সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্টানের প্রধান ও সিনিয়র শিক্ষক হিসাবে অসামান্য অবদান রাখেন।

    তবে কীর্তিমান ওই পুরুষটি কর্মজীবনের সিংহভাগ ১৯৭৩ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত প্রায়  তিরিশ বছর তিনি সিলেটের কুমারপাড়াস্থ কাজী জালালউদ্দিন স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান হিসাবে এর উন্নয়নে আত্বনিয়োগ করেন। তারই ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় স্কুলটি প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক ও পরে কলেজে রুপান্তরিত হয়। এছাড়াও জনাব মইনুল ইসলাম কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের প্রধান পরীক্ষক, সিলেট শিক্ষা বোর্ডের ম্যানেজিং কমিটির মেম্বার, সিলেটে স্থাপিত সরকারী শিক্ষক প্রশিক্ষন মহাবিদ্যালয়ের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেন। পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বৃহত্তর সিলেটের শিক্ষক সমাজের বিভিন্ন দাবীদাওয়া আদায়েও তিনি অগ্রনী ভুমিকা পালন করতেন বলে জানা যায়।

    মরহুম ইসলাম একাধারে সাত বছর বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি সিলেট বিভাগের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। শিক্ষকতা জীবনের প্রারম্ভে তিনি বিএড পরীক্ষায় সম্মিলিত মেধাতালিকায় প্রথম শ্রেনীতে প্রথম স্থান অধিকার করেন।

    আজীবন প্রচার বিমুখ এই নিরলস জ্ঞান সাধকের  কাজের স্বীকৃতি ও পেয়েছেন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে। ২০০৩ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ডঃ ইয়াজউদ্দিন আহমদ শিক্ষাক্ষেত্রে তার অবদানের জন্য তাকে “রাষ্ট্রপতি পদকে” ভুষিত করেন।

    শিক্ষা বিস্তারের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় ও জনাব মইনুল ইসলাম ছিলেন সক্রিয়। ২০০০ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে বৃক্ষরোপনে অসামান্য অবদানের জন্য “প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় পুরস্কার” প্রদান করেন। তিনি ছিলেন সিলেটের বিভাগীয় পর্যায়ে দলমত নির্বিশেষে সকলের শ্রদ্ধার পাত্র। তিনি তার প্রতি মানুষের এই শ্রদ্ধা ও ব্যাক্তিগত প্রভাবকে শিক্ষার উন্নয়নে কাজে লাগাতেন। এর প্রমান  তার নেতৃত্বে কাজী জালাল উদ্দিন হাইস্কুলকে কলেজে রুপান্তরে মরহুম সাইফুর রহমানের সাথে তার ঘনিষ্ট বন্ধুত্ব ব্যাপক অবদান রাখে।

    মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে তিনি তাঁর এলাকায় স্থানীয় ছাত্র জনতা কে দেশ মাতৃকার স্বাধীনতা রক্ষায় মুক্তিযুদ্ধ অংশগ্রহণ করতে সংগঠিত ও উৎসাহিত করেন।

    জনাব মাইনুল ইসলামের মৃত্যুতে গোটা সিলেটে নেমে আসে শোকের ছায়া। প্রিয় শিক্ষকের মুত্যুতে বিশ্বের নানা প্রান্তে অবস্থানরত তার অগনিত ছাত্রছাত্রীরা শোকে  মুহ্যমান হয়ে পড়েন। সিলেটের শাহজালাল দরগাহ (রঃ)প্রাঙ্গনে বৃহস্পতিবার বাদ যোহর অনুষ্টিত নামাজে জানাযা। এতে সকল স্তরের হাজারো মানুষ অংশগ্রহন করেন। বাদ আসর তার গ্রামের বাড়ীশেখের গ্রামে  দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হয়।