সিলেট টিটিসির ছাত্রদের প্রচেষ্টায় বড় ধরনের বিপদ থেকে উদ্ধার পেলো এক তরুণ!

0
108

সিলেট থেকে বিশেষ রিপোর্ট: সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার মোগলাবাজার থানাধীন আলমপুরস্থ সিলেট সরকারি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি’র) উত্তর প্রান্তে সুরমা নদীর তীরে জঙ্গলের আড়াল থেকে ১৬ বছরের এক তরুণ বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা পেলো।
ঘটনাটি ঘটেছে ১৭ (অক্টোবর) বিকাল অনুমান ৪.৫০ মিনিটে আলমপুরস্থ টিটিসির উত্তর প্রান্তে সুরমা নদীর তীরে নির্জন জঙ্গলে।

সূত্রে জানা যায়, নদীর পারে ঘন্টা খানেক ধরে ৬ তরুন যুবক এক ছেলেকে ধরে এনে হাত পা বেঁধে নিজের পরনের ট্রাউজার প্যান্ট খুলে অমানুষিক নির্যাতন করতে থাকে। ওদের নির্যাতনে ওই তরুণ চিৎকার দিতে থাকলে এ সময় মুখে চাপ দিয়ে ধরে একজন এবং পা ধরে অপর একজন। এ সময় দূর থেকে দেখা যায় মাতায় ও গলায় চাপ দিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যার চেষ্টা চালায় এবং সাথে থাকা অপর ৪ যুবক ভিডিও ধারণ করতে থাকে। ছবিতে দেখে কিশোর গ্যাং বলে মনে হয়েছে।
ওই সময় সিলেট টিটিসির উত্তর প্রান্তে দ্বিতীয় তলায় কম্পিউটার ট্রেডে গ্রাফিক্সের ক্লাস চল ছিলো হঠাৎ ছাত্র- ছাত্রীদের বিষয়টি দৃষ্টিগোছর হলে একে অন্যকে বলতে থাকে, তাৎক্ষনিক সকল প্রশিক্ষণনার্থীরা ক্লাস থেকে বের হয়ে ওদেরকে ধাওয়া করলে ওই তরুণকে টেনে হেছড়ে নদীর পারে জঙ্গলের দিকে নিতে চাইলে ছাত্রদের ধাওয়া খেয়ে তাকে ফেলে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে ছাত্ররা তাকে উদ্ধার করে সঙ্গে নিয়ে অপরাধীদের ধরতে গেলে পালিয়ে যায়। তবে টিটিসির ছাত্ররা ওই ছেলেকে নাম ঠিকানা জিজ্ঞাসা করে জানতে চাইলে বা তাকে কেন নির্যাতন করা হলো জানতে চাইলে সে ভয়ে মুখ খুলতে রাজি হয় নি।
তবে এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক টিটিসির কয়েক জন ছাত্ররা জানান, ক্লাসের ফাঁকে হঠাৎ আমাদের কয়েক জন ছাত্রদের দৃষ্টিগোচর হয়। ওই এলাকা নদীর পার, অপর দিকে জঙ্গল, এদিকে মানুষের চলাচল খুব কম, আমরা বিষয়টি দেখতে পেয়ে তাৎক্ষনিক কিছু অংশ ভিডিও চিত্র ধারণ করি এবং দ্রুত বাঁচানোর জন্য ওদের ধাওয়া করি। আমাদের ধাওয়া খেয়ে অপরাধীরা পালিয়ে যায়।
ওই সময় টিটিসির ছাত্ররা বিভাগীয় কমিশনার অফিসের পেছনে তাকে নিয়ে গেলে দেখা যায় নদীর পারে কিছু স্থানীয় ছেলেরা ফুটবল খেলা করছেন তাদের কে বিষয়টি নির্যাতিত ছেলেটি ঘটনার বিস্তারিত জানালে তারা বিষয়টি দেখে দিবেন বলে আশ্বস্ত করে তাদের জিম্মায় রাখেন।
এদিকে তথ্য দাতাদের পুলিশকে খবর দিয়েছে কিনা এমন প্রশ্ন করলে তারা জানান, আমরা ঝামেলায় যাইনি এবং পুলিশকে খবর দেয়নি। কেন ঝামেলায় যাননি ? এমন প্রশ্নের উত্তরে তারা বলেন, ধারণা করা হচ্ছে এটি একটি কিশোর গ্যাং, তাছাড়া স্থানীয়রা ও কিছু বলছে না, সেজন্য আমরা আর এ নিয়ে বাড়াবাড়ি করিনি। তাদের দাবি হয়তো বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে আমরা ছেলেটিকে উদ্ধার করতে পেরেছি।