সিলেট সদর উপজেলা সহকারী কমিশনারের বিরুদ্ধে অভিযোগ

    0
    290

    আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,১১ফেব্রুয়ারী সিলেট সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কাজিরবাজার কার্যালয়ের ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা নুরুল আমিন এর বিরুদ্ধে বিভাগীয় কমিশনারের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার লক্ষণশ্রী ইউনিয়নের বাসিন্দা মামুনুর রশিদ। অভিযুক্ত নুরুল আমিন সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার লক্ষণশ্রী ইউনিয়নের হালুয়ারগাও গ্রামের মনফর আলীর পুত্র।
    অভিযোগে প্রকাশ, গোলাপগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসের ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা পদে কর্মরত থাকাকালে উক্ত নুরুল আমিন ২০১২ইং সনের ২৬ অক্টোবর বিকাল ৩টায় রামদায়ের কোপে একই গ্রামের আব্দুল মতিনের পুত্র রফিকুল ইসলামকে খুন করার লক্ষ্যে মারাত্মক জখম করেন।

    আশঙ্কাজনক অবস্থায় আহত রফিকুল ইসলামকে সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনার দায়ে আহত রফিকুলের ভ্রাতা সুনামগঞ্জ সদর থানায় বাংলাদেশ দন্ডবিধি আইনের ৪৪৮/৩২৬/৩০৭/৩৪ ধারায় ২২ নং মামলা দায়ের করেন। ২৭ অক্টোবর সুনামগঞ্জ সদর থানা পুলিশ মামলার আসামী নুরুল আমিনকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে প্রেরণ করে। ২৯ অক্টোবর আমল গ্রহনকারী জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিজ্ঞ বিচারক তার জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে প্রেরন করেন।

    একই বছরের ২৭ নভেম্বর সরকারী কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপীল) বিধি ১৯৮৫ এর ৭৩বিধি অনুযায়ী ফৌজদারী অপরাধে কারাভোগ করায় সিলেটের জেলা প্রশাসক তাকে চাকুরী হতে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেন। কিন্তু গত ৪/৭/২০১৩ইং ৭১২৮ নং স্মারকের আদেশ বলে ক্ষমতার অপব্যবহার করত বর্তমান কর্মক্ষেত্রে তাকে বেইনীভাবে বহাল করা হয়। অথচ নুরুল আমিনের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত ফৌজদারী জিআর ২৪৭/২০১২ নং মামলাটি সুনামগঞ্জের আদালতে এখনও বিচারাধীন রয়েছে।

    এই মামলা থেকে নুরুল আমিন এখন পর্যন্ত খালাসও পাননি। এমতাবস্থায় সন্ত্রাসী সরকারী কর্মচারী নুরুল আমিনকে প্রহসনমূলক আদেশ দ্বারা বেআইনীভাবে সাময়িক সাসপেন্ড এর আদেশ বাতিল করত চাকুরীতে পূণর্বহালের বিষয়টিকে চ্যালেঞ্জ করে জখমী পরিবারের পক্ষ থেকে বিভাগীয় কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সে সাথে নুরুল আমিনকে পূনর্বহালসহ বেতন ও অন্যান্য সরকারী সুযোগ সুবিধাদি প্রদানকারী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য বিভাগীয় কমিশনারের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
    এদিকে আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ৩১ ডিসেম্বর সিলেটের সিনিয়র সহকারী কমিশনার (রাজস্ব) মোহাম্মদ রাশেদুল ইকবাল চৌধুরী অভিযুক্ত নুরুল আমিনকে ফৌজদারী আদালতে সোপর্দসহ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সিলেটের জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত অভিযুক্ত ঐ কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা বা বেআইনীভাবে পূনর্বহালের ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

    অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চেয়ে নুরুল আমিনকে কল করলে তিনি ফোন রিসিভ করা থেকে বিরত থাকেন। সিলেটের সিনিয়র সহকারী কমিশনার (রাজস্ব) মোহাম্মদ রাশেদুল ইকবাল চৌধুরী বলেন, অভিযোগকারীর অভিযোগের আলোকে নুরুল আমিনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সিলেটের জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।