সীমান্ত সম্মেলনে যোগ দিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল ভারতে

    0
    269

    রেজওয়ান করিম সাব্বির, জৈন্তাপুর (সিলেট) প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশ ও ভারতের অভিন্ন সীমান্ত সমস্যা নিয়ে শিলংয়ে আয়োজিত দ্বি-পাক্ষিক সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে গেলেন জেলা প্রশাসক, প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা, পুলিশ, বিজিবি, পানি উন্নয়ন বোর্ড, কাস্টমস ও নারোটিকস বিভাগের ৫২ জন কর্মকর্তা। ভারতের উত্তর পূর্ব রাজ্য মেঘালয়ের শিলং শহরে বাংলাদেশ-ভারত ডিসি-ডিএম পর্যায়ে বর্ডার কনফারেন্স আজ মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হবে।
    জামালপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ কবিরের নেতৃত্বে সোমবার ১৯ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টায় সিলেটের তামাবিল ইমিগ্রেশন হয়ে ভারতের ডাউকি চেকপোষ্ট দিয়ে ভারতের মেঘালয়ের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, জামালপুর, কুড়িগ্রাম, ময়মনসিংহ ও শেরপুর জেলার জেলা প্রশাসকসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।
    ২০ আগষ্ট মঙ্গলবার মেঘালয় রাজ্যের রাজধানী শিলংয়ে দিনব্যাপী এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনে সীমান্ত হত্যা, মাদক ও গরু পাচার, চোরাচালান প্রতিরোধ, সীমান্ত হাট, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, দ্বি-পাক্ষিক ব্যবসার সম্প্রসারণ, পর্যটন, সাহিত্যসহ অবিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে বলে জানান জামালপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ কবির। অপরদিকে বেশকিছু সীমান্ত সমস্যা নিয়ে ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে দ্বি-পাক্ষিক আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেটের পুলিশ সুপার মো. ফরিদ উদ্দিন (পিপিএম)। সম্মেলন শেষে ২১ আগষ্ট বুধবার প্রতিনিধি দলটি তামাবিল দিয়ে বাংলাদেশে ফিরবে।

    সিলেটের ৮সদস্যের প্রতিনিধি দলের মধ্যে রয়েছেন জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মোঃ ফরিদ উদ্দিন (পিপিএম), ৪৮বিজিবি সিলেটের কমান্ডিং অফিসার লে. কর্ণেল আহমেদ ইউসুফ জামিল, সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আবুল কালাম, সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রিতেশ বড়ুয়া, গোয়াইনঘাট উপজেলার নির্বাহী অফিসার বিশ্বজিত কুমার পাল, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার সুমাইয়া ফেরদৌস, নারোটিকস বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক মলয় ভুষণ চক্রবর্তী।

    সুনামগঞ্জ জেলার প্রতিনিধি দলের মধ্যে রয়েছেন, জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল আহাদ, পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান, ২৮বিজিবি সুনামগঞ্জের কমান্ডিং অফিসার লে. কর্ণেল মো. মাকসুদুল আলম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ মকলেছুর রহমান, বিশম্ভরপুর উপজেলার নির্বাহী অফিসার সমির বিশ্বাস, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার ইয়াসমিন নাহার রুমা। নেত্রকোনার ৬ সদস্যের টিমে রয়েছেন, জেলা প্রশাসক ময়েনুল ইসলাম, পুলিশ সুপার আকবর আলী মুনশি, ৩১বিজিবি নেত্রকোনার পরিচালক লে. কর্ণেল মো. শাহজাহান সিরাজ, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুলাহ আল মাহমুদ, ইউএনও কলমাকান্দা মো. জাকির হোসেন, দূর্গাপুর উপজেলার নির্বাহী অফিসার ফারজানা খানম।

    ময়মনসিংহের ৮ সদস্যের টিমে রয়েছেন, জেলা প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান, পুলিশ সুপার শাহ আবিদ হোসেন, ৩৯বিজিবি ময়মনসিংহের পরিচালক লে. কর্ণেল শহীদুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(রাজস্ব) মুহাম্মাদ শের মাহবুবুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সমর কান্তি বসাক, হালুয়াঘাট উপজেলার নির্বাহী অফিসার রেজাউল করিম, ধোবাউরা উপজেলার নির্বাহী অফিসার রফিকুজ্জামান, নারোটিকস বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক জাহিদ হোসেন মোল্লা। শেরপুরের প্রতিনিধিরা হলেন জেলা প্রশাসক আনার কলি মাহবুব, পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজিম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবিএম এহসানুল মামুন, ঝিনাইগাতি উপজেলার নির্বাহী অফিসার রুবেল মাহমুূদ, সাব-ডিভিশনাল প্রকৌশলী মাজহারুল ইসলাম, বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান। জামালপুর জেলার নেতৃত্বে¡ রয়েছেন জেলা প্রশাসক আহমেদ কবির, পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(রাজস্ব) মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ সোহেল মাহমুদ, দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা, নারোটিকস বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক শাহ নেওয়াজ।

    কুড়িগ্রাম ৮সদস্যের টিমে রয়েছেন জেলা প্রশাসক মোছা. সুলতানা পারভীন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মহিবুল ইসলাম খান, বিজিবি’র ১৫ ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার লে. কর্ণেল মো. আনোয়ারুল আলম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) মো. হাফিজুর রহমান, রাজিবপুরের উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেহেদী হাসান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম, নারোটিকস বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক মাসুদ হোসেন ও রৌমারী কাস্টমস এক্সসাইজ এন্ড ভ্যাট সার্কেলের সহকারি রাজস্ব কর্মকর্তা আফতারুল ইসলাম ও ঢাকা বিভাগের ভূমি রেকর্ড এর কানুনগো মো. আব্দুল কাদের।
    বিগত যে কোন সম্মেলনের চেয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত সম্মেলন হতে যাচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ বাংলাদেশ-ভারত ম্যাজিষ্ট্রেট ক্লাষ্টার-৯ এর আওতায় এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অপরদিকে মেঘালয় রাজ্যের সীমান্তবর্তী জৈন্তিয়া হিলস্ ডিষ্ট্রির্ক, ইষ্ট খাসি হিলস্, ওয়েষ্ট খাসি হিলস্, ইষ্ট গারো হিলস্ ও ওয়েষ্ট গারো হিলস্ ডিষ্ট্রিক‘র ডেপুটি কমিশনারগণ, সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ, পুলিশ সুপার সহ মেঘালয় রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ দ্বি-পাক্ষিক বৈঠকে অংশ গ্রহন করবেন। বৈঠকে ইষ্ট খাসি হিলস্ (শিলং)‘র ডেপুটি কমিশনার ভারতের মেঘালয় রাজ্যের পক্ষে নেতৃত্ব দিবেন। এই প্রথম বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত অ লের জেলা গুলো এবং মেঘালয় রাজ্যের সবকটি ডিষ্ট্রিক ম্যাজিষ্ট্রেট ও সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে বাংলাদেশ-ভারত ডিসি-ডিএম পর্যায়ের দ্বি-পাক্ষিক সীমান্ত সম্মেলন আয়োজন করা হয়েছে। ইস্ট খাসি হিলস্ ডিষ্ট্রিক‘র শিলং‘র ডেপুটি কমিশনার কার্যালয়ের কনফারেন্স সেন্টারে বাংলাদেশ-ভারত দ্বি-পাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।

    বাংলাদেশী প্রতিনিধি দল-কে তামাবিল ইমিগ্রেশন হয়ে ভারতে প্রবেশ করার সময় ফুল দিয়ে বরণ করেন ভারতীয় ইমিগ্রেশন ও সরকারী কর্মকর্তা এবং মেঘালয় চেম্বার্স অব কমার্স এর সভাপতি ডলি খংলা।