স্বাধীনচেতা হলে বড় অনেক দেশ পছন্দ করে নাঃশেখ হাসিনা

0
364

আমার সিলেট ডেস্কঃ দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, গণমানুষের আস্থা ও বিশ্বাসই আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড় শক্তি। আমাদের আর কোনো শক্তি নেই। আপনারা দলকে শক্তিশালী করাকে অবশ্যই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবেন। আপনাদের প্রতি এ আমার অনুরোধ।

দশমবারের মতো আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হওয়া শেখ হাসিনা গতকাল গণভবনে দলীয় নেতাকর্মীর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে এসব কথা বলেন। দলের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় শেখ হাসিনাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগই দেশের জনগণের জন্য কাজ করে এবং আওয়ামী লীগের প্রচেষ্টায় বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য আজ ফিরে এসেছে। বিএনপি ও জাতীয় পার্টির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ক্ষমতায় থেকে তারা নিজেদের ভাগ্য গড়েছে, বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য গড়েনি। আওয়ামী লীগের কাজ হচ্ছে জনগণের ভাগ্য গড়া,আর সেটাই আমরা কিন্তু করে যাচ্ছি এবং সেটা আমাদের করতে হবে।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, সংগঠন বলতে সারা বাংলাদেশে যদি সত্যি কথাটা বলা যায়, তবে আওয়ামী লীগই আছে, এটা ঠিক। আমরা তো মাটি মানুষ থেকে গড়ে ওঠা সংগঠন। আর বিএনপি-জাতীয় পার্টি এগুলো তো অবৈধভাবে সংবিধান লঙ্ঘন করে ক্ষমতা দখলকারী একজন মিলিটারি শাসক, তার পকেট থেকে বের হওয়া। এরা ভাসমান। কাজেই এদের দায়দায়িত্বটা জনগণের ওপর নেই।

শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বের অস্থিতিশীল অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এবারে দলের নেতৃত্বের ভার গ্রহণে আমি রাজি হয়েছি। তিনি আরও বলেন, একজনের এতবার দায়িত্ব নেওয়া অবশ্যই ঠিক নয়। কিন্তু বর্তমান বিশ্ব বাস্তবতায় এ দায়িত্ব আমি নিয়েছি। আপনাদের স্মরণে রাখতে হবে যে, আমারও বয়স বাড়ছে।

স্বাধীনচেতা হলে বড় অনেক দেশ ‘পছন্দ করে না’ মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, অনেক বড় বড় দেশ, আমাদের স্বাধীনতারবিরোধীরা, কখনো এটা পছন্দ করবে না। কিন্তু আমাদের জনগণকে যদি আমরা ঠিক রাখতে পারি, তবে বাংলাদেশের উন্নয়ন, বাংলাদেশের মানুষের উন্নতি- এটা কেউ আটকাতে পারবে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সঠিকভাবে যদি জনগণকে পথ দেখাতে পারে, তা হলে দেশের উন্নয়নে কেউ বাধা দিতে পারবে না। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ স্থানীয় আওয়ামী লীগ ইউনিটকে তাদের অফিস স্থাপনে সাহায্য করবে, যদি তারা অক্ষম হয়। প্রত্যেক জেলা ও উপজেলায় একটি কার্যালয় থাকা দলের জন্য প্রয়োজন। আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছি। অনলাইনের মাধ্যমে পুরো দেশের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ আমাদের রয়েছে। তা হলে কেন আওয়ামী লীগ পিছিয়ে থাকবে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে যোগাযোগ সহজ করে তুলতে আমি একটি প্রাতিষ্ঠানিক পদ্ধতি গড়ে তুলতে চাই। তিনি দলকে শক্তিশালী করতে নতুন সদস্য নিয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, আমরা আবার নতুনভাবে টিম করে দেব, বিভাগীয় যে টিম আমরা করে দেব, তাদের ওপর দায়িত্ব থাকবে প্রত্যেকটা জায়গায় সদস্য সংগ্রহ নিশ্চিত করা।

বিভিন্ন ইউনিটের সম্মেলন যথাসময়ে করার তাগিদ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, সম্মেলনটা আপনারা যথাযথ সময়ে করবেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক ধনী দেশ ইতোমধ্যে নিজেদের মন্দাক্রান্ত বলে ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশকে অবশ্যই সে ফাঁদে পড়া যাবে না। বরং আমরা যদি অতিরিক্ত খাদ্য উৎপাদন করতে পারি, তা হলে নিজেদের প্রয়োজন মিটিয়েও বিভিন্ন দেশে তা রপ্তানি করতে পারি। অনেক দেশ ইতোমধ্যে বাংলাদেশ থেকে খাদ্য আমদানির ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।সূত্র আমাদের সময়